Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ সম্পন্ন, ২০২৭ সালের বইমেলা ২১-২৪ মে নিউ জার্সিতে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অস্তিত্ব এখন সংকটাপন্ন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 20 বার

প্রকাশিত: February 27, 2016 | 3:35 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক :বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দ্বিধাবিভক্ত দুইটি অংশ নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিন্ন অভিযোগ করে।

জ্যাকসন হাইটসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার একাংশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অস্তিত্ব এখন সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চলছে এবং তাদের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশে অবিলম্বে আইন করে গরু জবাই বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা। শুক্রবার জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে  সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি টমাস দুলু রায়, সাধারণ সম্পাদক প্রদ্বীপ দাস, সদস্য সচিব প্রদ্বীপ মালাকার, পরিষদের ডিরেক্টর ও আমেরিকান হিন্দু ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট শ্যামল চক্রবর্তী, ঐক্য পরিষদের নেতা  ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য, গৌরাঙ্গ কুণ্ডু, রূপকুমার ভৌমিক, প্রবীর রায়, রণবীর বড়ুয়া, প্রণবেন্দু চক্রবর্তী, অমিত চৌধুরী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য পেশ করেন ঐক্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট বিদ্যুৎ দাস।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০০১ সালের চেয়েও অবস্থা অনেক খারাপ। সে সময় অন্তত মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের খবর জানতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমানে ভয়ে সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে পারছেন না। ফলে দেশের সর্বত্র সংখ্যালঘুদের উপর পরিচালিত নির্যাতন-নিপীড়নের খবরগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে।
শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, অনেকে বলে থাকেন যে, বাংলাদেশি হিন্দুদের উপর নির্যাতন শুরু হয়েছে ১৯৭৫ সালের পর। কিন্তু কথাটা ঠিক নয়। বাস্তবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা তথা হিন্দুদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন ও তাদের সম্পত্তি দখলের প্রবণতা শুরু হয় ১৯৭২ সাল থেকেই। সে সময় রমনা কালী মন্দির দখল করে পার্ক বানানো হয়েছিল। সেই মন্দির উদ্ধার করতে ৩০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে গো-হত্যা চলছে এটা মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে আইন করে বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি জানান তিনি। শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, বিএনপি’র লোকেরা জিয়াউর রহমানকে শহীদ বলে থাকেন। কিন্তু জিয়া তো কোনো যুদ্ধে শহীদ হননি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের অধিকার হরণ করেছেন। সুতরাং তাকে কিছুতেই শহীদ বলা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টানদের জন্য পৃথক পৃথক বিশ্বাবিদ্যালয় চালু এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল বাঙালিকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ভিতর যেমন মৌলবাদীরা আছে তেমনি আওয়ামী লীগের ভিতরেও মৌলবাদী আছে। আওয়ামী লীগের হাতেই সংখ্যালঘুদের তিন-চতুর্থাংশ জমিজমা ও ঘরবাড়ি বেদখল হয়ে আছে।

এদিকে জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আরেক অংশের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন একটি দৈনন্দিন ঘটনা। বিদায়ী বছরে এমন একটি দিনও হয়ত পাওয়া যাবে না, যেদিন দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু মন্দির বা মূর্তি ভাংচুর, হিন্দুর জমি দখল, নাবালিকা ধর্ষণ ও ধর্মান্তরিতকরণ বা দেশত্যাগের হুমকি ইত্যাদি খবর প্রকাশিত হয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নবেন্দু দত্ত, নয়ন বড়ুয়া ও রেভারেন্ড জেমস রায়।
সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় ও রক্ষায় বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদে ১৫শতাংশ সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক উচ্চপদে আনুপাতিক হারে ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির নিয়োগ দান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান, পুলিশ ও প্রশাসনের সব স্তরে নিষ্ক্রিয়তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ ও সাজার ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি,  সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন চাই এবং তাৎক্ষণিক ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা,  পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড ও গ্রামরক্ষী বাহিনীতে ১৫শতাংশ সংখ্যালঘু নিয়োগ দান, সব সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, শিক্ষালয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের বাজেয়াপ্ত করা, উৎসব পালনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং  সাহাবুদ্দীন রিপোর্ট বাস্তবায়ন।
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV