ক্ষমতা পরিবর্তনের জায়গায় না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা উচিত হবে না : নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মান্নান এমপি
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এখানে আন্দোলন, কাদা ছোড়াছুড়ি না করে যেখানে গেলে ক্ষমতা পরিবর্তন সম্ভব সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান এমপি। মান্নান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবকিছু গঠনতন্ত্র মোতাবেক চললেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভীন্ন। কেননা এখানকার বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়জেদ জয়। এ দু’জনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে সবকিছু। তাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা কমিটি পরিবর্তন কিংবা সম্মেলনের জন্য ওই দু’জনকে রাজি করাতে হবে। এবিষয়ে এখানে আন্দোলন সংগ্রাম করে লাভ হবে না। শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়জেদ জয় যখন চাইবেন তখনই সভাপতি কিংবা কমিটি পরিবর্তন বা সম্মেলন হবে। তিনি দলের বৃহত্তর স্বার্থে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং তার বিরোধী পক্ষকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সময় ২৯ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নিউ মেজবান পার্টি হলে ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান আরো বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুধীরা আজও ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ইমেজ বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ছাত্রলীগের স্বর্ণালী ইতিহাসকে খাটো করতে ওরা সংঘবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক প্রতিটি নেতা-কর্মীকে এবিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনকারি ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে প্রবাসে অবস্থানকারীদের ঐক্যে ফাটল ধরানো চলবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জ্বীবিত এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার মাতৃছায়ায় এগিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ। বিষয়বস্তুর ওপর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের অন্যতম সহ সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেগম মান্নান।
সেমিনারে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আকতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী. প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রচার সম্পাদক হাজি এনাম (দুলাল মিয়া), প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষযক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান টুকু, উপ দপ্তর সম্পাদক আবদুল মালেক, কার্যকরী সদস্য শাহানারা রহমান, সামছুল আবেদীন, খোরশেদ খন্দকার, আতাউল গনি আসাদ, আলী হোসেন গজনবী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা কফিল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক বিষযক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরল আমিন বাবু, সহ সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজি, আবুল হুসেন, মোর্শেদা জামান, মো. আব্দুল কাদের মিয়া ও আলমগীর মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী সাদিক, নান্টু মিয়া, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী ও সুমন মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের নুরুন্নাহার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শেখ জামাল হোসাইন, যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নূরজ্জামান সরদার প্রমুখ।
সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরই জাসদ নামক সংগঠনটি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তকমা লাগিয়ে ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগে ভাঙনের জঘন্য চেষ্টা চালায়। সে সময় জাসদ পরিণত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের প¬টভুমি তৈরীর ক্ষেত্রেও হেন কাজ নেই যা তারা করেনি। যদিও সংশি¬ষ্টরা এখন তা অনুধাবনে সক্ষম হয়েই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেছেন।
তিনি বলেন, জাতির জনক তার পুরো জীবন মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন।
তিনি সরকারের নানামুখি উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষে জাতির পিতার জীবন ও আদর্শকে ধারণ করে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে। খাদ্যের অভাব নেই, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, সবাই শান্তিতে আছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে তিন টার্ম শাসনকালে গণতান্ত্রিক সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ময়কর উন্নতি বাংলাদেশকে আজ একটি নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরীত করেছে। যা আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশে পরিণত করবে। বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এলে দেশের উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, স্বাধীনতার সময়সহ সব সময় প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রয়েছে প্রবাসীদের। আগামী জাতীয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। দলের উন্নয়ন কর্মকান্ড মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে, দলের জন্য কাজ করতে হবে, যাতে দল আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামীলীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে এবং নির্বাচন কমিশনের সার্বিক তত্বাবধানে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। নির্বাচন কমিশন দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল থেকেই আগামী গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সমাপ্ত করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের নির্মম ও বর্বর হত্যাকান্ড, ধর্ষন, বাড়ী-ঘরে অগ্নিসংযোগসহ দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা আসছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। এখন আমাদের সমস্য হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগের ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসহ যত অর্জন-তার সবটাই এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাঁর নের্তৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসররা এই প্রবাসেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্নকারী অপতৎপরতা রুখে দিতে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ড. সিদ্দিক বলেন, দলের মধ্যেও হাতে গোনা কয়েকজন রয়েছে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্র পদ-পদবীর জন্য। এতে দলের ক্ষতি হবে। সিদ্দিকুর রহমানের কোন ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, আমি দোকান খুলে বসেনি যে, তাদের অন্যায় আবদার মেনে নেব। সভাপতি হিসেবে কোন অন্যায় কাজ করিনি। করতে পারবো না। ড. সিদ্দিক বলেন, আমি গ্রুপ পলিটিক্সে বিশ্বাসী নই বলে কেউ কেউ আমার ওপর অসন্তুষ্ট। এতে আমার কিছু করার নেই। আমি অর্পিত দায়িত্ব ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড পালন করে যাব। তিনি বলেন, প্রবাসে সম্মেলন জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় হয়। সম্মেলন হতেও পারে। আবার ঢাকা থেকেও কমিটি আসতে পারে। ড. সিদ্দিক সজীব ওয়জেদ জয়কে উদ্বৃত করে আরো বলেন, যারা এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা কখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী পাবে না। সজীব ওয়জেদ জয় নিজেই তাদের তালিকা সংরক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, আজকে যারা সেমিনারে আসেননি, কেন আসেনি তা তাদের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিলাম। তবে সকলের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।
ড. সিদ্দিক বলেন, সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের প্রার্থীদের বিপুল বিজয়ী করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্যে সকল ভেদা-ভেদ ভুলে প্রবাসীদেরও একযোগে কাজ করতে হবে।
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








