সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স’র হামলা : যেসব স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে চালানো এই হামলাকে ‘সফল’ দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চেয়েছেন বাশারের মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সিরিয়ার স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার দুই মিত্র দেশের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স বলছে, তাদের বিমান ও নৌ বাহিনী সিরিয়ার বেশ কয়েকটি স্থাপনায় কার্যকর হামলা চালিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ১০৫টি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস বলেছেন, সিরিয়া সরকারের ‘রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনার’ বিরুদ্ধে ‘সুষ্পষ্ট পদক্ষেপ’ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলায় ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই রাসায়নিক হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে সিরিয়া সরকার। তাদের মিত্র রাশিয়ার অভিযোগ, দৌমার ওই ঘটনা ‘সাজানো’ বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।
সিরিয়া সরকার বলছে, ২০১৩ সালে নার্ভ এজেন্ট সারিন ব্যবহার করে একটি রাসায়নিক হামলার পর যে চুক্তি হয়েছিল, তার আওতায় সব কেমিক্যাল আর্সেনাল ধ্বংস করেছে তারা।
শনিবারের হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্ট্যাফের চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, যুদ্ধজাহাজ ও জঙ্গি বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তিনটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে ধ্বংস করে দিয়েছে, যেগুলো সরাসরি সিরিয়া সরকারের ‘রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট’।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এসব যুদ্ধজাহাজ লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশ ও ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে মোতায়েন করা হয়েছিল।
১. দামেস্কের বারজেহ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার
জেনারেল ডানফোর্ড বলেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উত্তরাঞ্চলীয় বারজেহ জেলায় অবস্থিত দেশটির সায়েন্টিফিক স্ট্যাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের (এসএসআরসি) শাখা রাসায়নিক ও জীবাণু যুদ্ধ প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন ও পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হত।
সেখানে ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর জয়েন্ট স্ট্যাফের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, ওই সব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৫৭টি ছিল টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বাকি ১৯টি জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল।
“প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যমতে, ওই সব লক্ষ্যব্স্তু ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দিতে চলেছে,” বলেন ম্যাকেঞ্জি।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাও এসএসআরসি’র স্থাপনায় বেশি কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর জানিয়েছে। এতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্বলিত একটি ভবন ধ্বংস হওয়ার কথা বলা হয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।
এসএসআরসি সিয়িার একটি সরকারি সংস্থা, যাদের দায়িত্ব বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও ত্বরাণ্বিত করা। এই সংস্থার বারজেহ, তার নিকটবর্তী জামরাইয়া এবং হামা প্রদেশের মাসিয়াফ শাখা রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে গত বছর মে মাসে বিবিসিকে বলেছিল একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা।
সংস্থাটি দাবি করে, বারজেহ কেন্দ্রের একটি গোপন অংশে ওই সব অস্ত্র তৈরি ও মজুদ রাখা হয়, যেখানে রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধ আন্তর্জাতিক সংস্থার (ওপিসিডব্লিউ) পরিদর্শকরা যাওয়ার সুযোগ পান না।
ওই সময়ই এসএসআরসির ২৭১ জন কর্মীর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। রসায়নে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন ওই ব্যক্তিরা ২০১২ সাল থেকে এসএসআরসির ‘রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা কাজ করেছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
এরপর গত নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ওপিসিডব্লিউ বারজেহ ও জামরাইয়া কেন্দ্র পরিদর্শন করলেও সেখানে সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড তাদের নজরে আসেনি।
২. হোমসের পশ্চিমে হিম শিনশর রাসায়নিক অস্ত্র মজুদাগার
জেনারেল ডানফোর্ড বলেন, তারা মনে করেন এই স্থাপনায়ই সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ও তা তৈরির সরঞ্জাম মজুদ রাখা হয়।
জেনারেল ম্যাকেঞ্জি জানান, সেখানে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। সেগুলোর মধ্যে নয়টি ইউএস টমাহক মিসাইল, আটটি ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল এবং ফ্রান্সের ছোড়া পাঁচটি- নেভাল ক্রুজ মিসাইল ও ২ এসসিএএলপি ক্রুজ মিসাইল রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, হোমস শহরের ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে সাবেক এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে রয়েল এয়ার ফোর্স টরনেডো জিআর৪এস আটটি স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলেছে, হোমসে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া ওই সব ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট হয়েছে। এতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে।
৩. হিম শিনশর রাসায়নিক অস্ত্র বাঙ্কার
জেনারেল ডানফোর্ড বলেছেন, হোমসের পশ্চিমের কথিত ওই রাসায়নিক অস্ত্র মজুদাগার থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এই বাঙ্কারের অবস্থান। রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম মজুদের পাশাপাশি এটা গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, সাতটি এসসিএএলপি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেগুলো বাঙ্কারে আঘাত করেছে।
রাশিয়া যা বলেছে
রুশ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল-জেনারেল সেরগেই রুদস্কি মস্কোয় সাংবাদিকদের বলেন, সিরীয় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান ঘাঁটি, শিল্প ও গবেষণা স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।
সিরিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্রকে পথভ্রষ্ট বা আকাশেই আটকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
রুশ সেনাবাহিনীর তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
দামেস্কের পূর্বের জামরাইয়া বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলোর সব কয়টি গুলি করে ভূ-পাতিত করা হয়।
রাজধানীর দক্ষিণের মারজ রুহাইল বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
হোমসের শাইরাত বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলোও ভূ-পাতিত করা হয়।
মেজেহ সামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ছোড়া নয়টির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূ-পাতিত করা হয়েছে।
হোমসের বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের ১৩টিই ভূ-পাতিত করা হয়েছে।
রুশ সেনা কর্মকর্তা রুডসকি বলেন, সিরিয়ার বারজেহ ও জারামানায় কথিত রাসায়নিক অস্ত্রের কর্মসূচি লক্ষ্য করে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। সেগুলোর সাতটি ভূ-পাতিত করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওই স্থাপনাগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
“রাশিয়া মনে করছে, রাসায়নিক হামলা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরীয় সশস্ত্র বাহিনীর সফলতার কারণেই তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।”
সূত্র: বিডিনিউজ
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








