নিউইয়র্কের জেবিবিএ’র নির্বাচিত কমিটিকে আদালতের বৈধতা প্রদান : মিট দ্য প্রেসে ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক ইনক’র ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত কমিটিকে আদালত বৈধ বলে রায় প্রদান করেছেন। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালকী পার্টি সেন্টারে গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় জেবিবিএ আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে এ কথা জানান হয়। মিট দ্য প্রেসে ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’র নেতৃত্বাধীন কমিটির সভাপতি শাহ নেওয়াজ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জেবিবিএ’র বিদায়ী সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পারভেজ কাজী, নির্বাচন কমিশনের সদস্য আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া ও রেজা রশীদ, ‘শাহ নেওয়াজ-টুকু’র নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা সহ সাবেক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


‘মিট দ্য প্রেস’ এ শাহ নেওয়াজ-টুকু গত ৯ আগষ্ট ঘোষিত আদালতের রায় অনুযায়ী নিজেদের জেবিবিএ’র নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে আইনগত আর কোন বাধা নেই উল্লেখ করে অচিরেই নতুন কমিটির অভিষেক এবং অফিসিয়ালী দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন। তারা সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জেবিবিএ’র সকল সদস্যই বাংলাদেশী ব্যবসায়ী, সবাই ভাই ভাই। অতীতের ভুল-বুঝাভুঝি ভুলে সকল ব্যবসায়ী মিলে জেবিবিএ-কে আরো শক্তি করতে চাই।
‘মিট দ্য প্রেস’ এ লিখিত বক্তব্যে শাহ নেওয়াজ বলেন, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন-জেবিবিএ একটি স্বনামধন্য সংগঠন। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে এই সংগঠনের পরিচিতি ও সুনাম বিস্তৃত। দুঃখজনক হলেও সত্য, জেবিবিএ’র বিগত নির্বাচনে আমাদের সংগঠনের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সদস্য নির্বাচনে অংশ নেননি এবং অনেকে সাধারণ সদস্যও নিবন্ধিত হননি। বিগত কমিটি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নির্বাচনের চলমান প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলাম। চলতি বছর ৬ জানুয়ারী জেবিবিএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমরা শাহ নেওয়াজ-মাহাবুবুর রহমান টুকু পরিষদের সকল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর আমাদেরই কয়েকজন ব্যবসায়ী-ভাই কুইন্স সুপ্রিমকার্টে মামলা দায়ের করেন (ইনডেক্স নম্বর- ৯১/২০১৮ ও ২৩০৫/২০১৮)। মামলার বাদিরা হলেন জেবিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার এবং মোহাম্মদ মহসিন মিয়া। আবুল ফজল মোঃ দিদারুল ইসলাম প্রথমে মামলা করেছিলেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- স্থগিত করতে এবং পরে ৩ জন বাদী হয়ে আমাদের কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

শাহ নেওয়াজ বলেন, বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষের আবেদন নাকচ করে আমাদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেছেন গত ৯ আগষ্ট। আদালত মামলার রায়ে বলেছেন-চলতি বছরের ৬ জানুয়ারী নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচন সম্পন্ন করেছিল তা বৈধ এবং আমরা (শাহ নেওয়াজ-টুকু প্যানেলের সকল প্রার্থী) জেবিবিএ’র নির্বাচিত কর্মকর্তা। অর্থাৎ আমরা জিবিবিএ’র নির্বাচিত কমিটি হিসাবে এই সংগঠনের কর্মকা- পরিচালনা করার অধিকার রাখি। তাই, আজ এটাও ঘোষণা করছি-খুব শিগগীর এই নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান হবে এবং সংগঠনের কর্মকা-ও পরিচালিত হবে। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এতোদিন কোন কর্মকা- পরিচালনা করিনি-এটা আপনারা জানেন।
শাহ নেয়াজ বলেন, আদালতের রায়ে আরো বলা হয়েছে, জেবিবিএ’র নাম এবং লগো আমাদের নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। আদালত বলেছেন- জেবিবিএ’র পরিচালক পরিচয়দানকারী আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ পিয়ার এবং মোহাম্মদ মহসিন মিয়া সংগঠনের পরিচালক হিসাবে পরিচয় দেয়ার অধিকার রাখেন না। এমনকি, আবুল ফজল মো: দিদারুল ইসলাম জেবিবিএ’র সদস্যও নন। তিনি বিগত নির্বাচনের আগে এই সংগঠনের সদস্য হিসাবে নিবন্ধিত হননি। আদালতের রায় অনুযায়ী, আমাদের কর্মকা- পরিচালনায় কোন বাধা আর নেই। জেবিবিএ’র সকল সদস্য ও ব্যবসায়ীদের জানাতে চাই, মামলার বাদীরা নির্বাচন কমিশনের কর্মকা-, জেবিবিএ’র নামে বন্যার্দ্গুতদের অনুদান সংগ্রহ করে আত্মসাতসহ যে সকল অভিযোগ উল্লেখ করেছিল মামলার আরজিতে, বিজ্ঞ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে শাহ নেওয়াজ আরো বলেন, আমরা বিরোধে বিশ্বাসী নই। আমরা সৌহার্দ্য-সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি- যারা মামলা করে হেরেছেন, তারা আমাদেরই লোক, আমাদের ভাই এবং সম্মানীত ব্যবসায়ী। আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, মন-মালিন্য হতে পারে। তবে আমরা অপ্রীতিকর ঘটনার কথা ভুলে যেতে চাই। আমরা তাদের পাশে চাই। আমরা কেউ কারো শত্রু নই। আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে যাই করি না কেন, আমরা কিন্তু সবাই প্রবাসে একেকজন একা। আমাদের এই অভিবাসী সমাজে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একে-অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা এটাই করে দেখাতে চাই। তাই, আমরা বলতে চাই, আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। আপনারা বিভেদ ভুলে এসে আমাদের পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতা করুন। আসুন, জেবিবিএ-কে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠনে পরিণত করতে সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।
‘মিট দ্য প্রেস’ এ জেবিবিএ সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার সর্বশেষ পরিস্থিতি, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার নির্মান, পথমেলার আয়োজন, অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যাপাওে জেবিবিএ’র ভূমিকা, কতিপয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এম্লয়িদের কম পারিশ্রমিক প্রদান সহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেন কর্মকর্তরা।
এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, মূলত: জেবিবিএ’র বিষয়ে আর কোন মামলা নেই। দু’টি মামলা খারিজ হয়ে গেছে। আর পথমেলা সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে তারা পথমেলা করা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যান্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে জেবিবিএ’র ব্যবসায়ীরা জড়িত নন। মাছের পেটে শিশা ঢুকানোর সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জড়িত নন। দেশ-বিদেশের মাছ আমদানী-রপ্তানীর সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছের পেটে শিশা ঢুকানোর ঘটনায় লিপ্ত থাকতে পারেন ।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, এর আগে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক ইনক’র দ্বি-বার্ষিক (২০১৮-২০১৯) নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ সভাপতি ও মাহবুবুর রহমান টুকু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেবিবিএ’র নির্বাচন কমিশন ঘোষিত মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ১৫ সদস্যের কার্যকরী পরিষদের সকল পদে একটি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। গত ৬ জানুয়ারী শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় নিবাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
নির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন : সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ, সিনিয়র সহ সভাপতি মাকসুদুর রহমান, সহ সভাপতি মোল্লা এম এ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. মুনীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ভিক্টর লিয়াকত আলী, দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আতিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সংস্কৃতি ও সমাজ কল্যাণ সম্পদক শেখ আলী, কার্যকরী সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল কায়ুম খান, খালেদ আক্তার, মো. মফিজুর রহমান এবং মো. এস হোসেন।
আরো উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ ছিল ২১ জানুয়ারী রোববার। এ নির্বাচনে জেবিবিএ’র ভোটার ছিল ২০৮ জন। ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা হলেন: প্রধান নির্বাচন কমিশনার পারভেজ কাজী, সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, রেজা রশীদ ও মাহবুবুর রহমান।
জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক ইনক’র নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করতে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জেবিবিএ’র এডহক কমিটি গত ৫ জানুয়ারী শুক্রবার নিউইয়র্ক ষ্টেট সুপ্রীম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার ডকেট নম্বর ৯১/২০১৮।
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/1807517319298215/
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/1051433801696416/
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests