Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশে দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী ও পত্রিকার মালিকদের মদদ রয়েছে : নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 14 বার

প্রকাশিত: September 28, 2018 | 8:48 PM

https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/237112096968606/

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশে দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী ও পত্রিকার মালিকদের মদদ দেওয়ার তথ্য তার কাছে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিডি নিউজ জানায়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যাওয়া তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নানা ঘটনাবলীর মধ্যে পদত্যাগের পর এক বছরের মাথায় বিদেশে বসে বই লিখে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

     

বইতে সিনহা লিখেছেন, ‘২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।’

‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার আত্মজীবনীমূলক ৬১০ পৃষ্ঠার এই বইটি অ্যামাজনের কিন্ডেল সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে। শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এই বইটি প্রকাশ করা হবে।

শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা একটু খুঁজে বের করেন না, বইটা লেখার পেছনে কার হাত আছে? এই বইটার পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে গেছে? কার কাছে গেছে বা তিনি যে লঞ্চটা করবেন; এই লঞ্চিংয়ের টাকা-পয়সা খরচটা কে দিচ্ছে?

“বাংলাদেশ থেকে কেউ দিচ্ছে কিনা বা আপনাদের মতো কোনো সাংবাদিকরা এর পেছনে আছে কিনা? কোনো সংবাদপত্র আছে কিনা বা তারা কতটুকু সাহায্যপত্র দিচ্ছে? আমাদের কোনো আইনজীবী এর স্ক্রিপ্ট দেখে দিচ্ছে কিনা? কোন পত্রিকা বা পত্রিকার মালিকরা তাকে এই মদদটা দিচ্ছে? স্ক্রিপ্টটা লেখার ব্যাপারে কোনো সাংবাদিক, কোন পত্রিকার, কে এটা সাহায্য করছে?”

এই প্রশ্নগুলো করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খুঁজে একটু বের করেন। আমি জানি, আমি তো বলবো না আপনাদের। আপনারা খুঁজে বের করেন; সেটা চাই।”
সিলেটের নিম্ন আদালতের একজন আইনজীবী হিসেবে শুরু করে বাংলাদেশের বিচারালয়ের শীর্ষ অবস্থানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য হয়েছে এস কে সিনহার।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে তিনি ছুটিতে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টেবর বিদেশে চলে যাওয়ার সময় বিচারপতি সিনহা বলে যান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’।

তার ছুটির মেয়াদ শেষে ১১ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন।

সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘একজন বিচারপতির মাধ্যমে দেশে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টা হয়েছিল’ এবং ‘বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধির নামে তা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশি এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির নিউ জার্সিতে বাড়ি রয়েছে। সে বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অ্যামেরিকায় বাড়ি কেনা তো খুব একটা কঠিন ব্যাপার না। বরং বাংলাদেশেই এখন কঠিন। বাংলাদেশই দাম বেশি। এখানে তো একটা ডিপোজিট দিলেই বাড়ির মালিক হওয়া যায়। কে কীভাবে কিনলো; সেটা খুঁজে বের করে তথ্য দেন, সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো ডেফিনেশন নেই’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। যদি তারা চান; তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে… সরকারিদল বিরোধীদল যাই হোক, সবাইকে নিয়ে যদি তারা চান; আমরা হয়তো একটি সরকার গঠন করে নির্বাচনটা পরিচালনা করতে পারি। কিন্তু, এখানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো ডেফিনেশন নেই।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই বিলটি পাস হওয়ার পরই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল আইনে আপনারা একটা দিকই দেখছেন; সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ। এখানে সাংবাদিকের তো কন্ঠরোধ নয়।

“এখানে যে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়া, সামাজিক যে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বা আমাদের ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে যুব শ্রেণি.. তারা যে বিপথে চলে যাচ্ছে, মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে; এরকম বহু ঘটনা হচ্ছে। তো সেগুলো কী রোধ করার প্রয়োজন নাই। আর, সাংবাদিকরা শুধু স্বার্থপরের মতো নিজেদেরটাই দেখবে কেন? কেউ যদি অপরাধ না করে, মিথ্যা প্রচার না করে বা ইয়েলো জার্নালিজম না করে তবে তার কোনো চিন্তা হওয়ার কথা না। তার তো কোনো ভয় হওয়ার কথা না”

সাইবার অপরাধকে এখন পুরো বিশ্বে একটা সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সাইবার ক্রাইম- এটা এখন বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা হিসাবে … মানে, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের পরেই সাইবার ক্রাইমটা এসে গেছে। আমাদের তো সমাজটাকে রক্ষা করতে হবে। এই দায়িত্ব সাংবাদিকদেরও আছে। কাজেই এটা কোনো কণ্ঠ রোধ করা না। অপরাধ শুধু রাজনীতিবিদরাই করে, সাংবাদিকরা করে না?”

অন্যান্য দেশে এই ধরণের আইনে কি আছে- তা দেখে সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে উত্থাপিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ৩২ ধারা নিয়ে সাংবাদিক মহলের সবচেয়ে বেশি আপত্তি ছিল। ওই ধারার ফলে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা। সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায় সাংবাদিকরা।

রোহিঙ্গা নিয়ে ভারত ও চীনের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি নেতিবাচকভাবে না দেখার কথা বলেন।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রত্যেকটা দেশই কিন্তু এগিয়ে। ভারত এগিয়ে এসেছে। ভারত তো ওখানে তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। চীনও তাদেরকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। মিয়ানমরাকে তারাও চাপ দিচ্ছে; যেন এদেরকে ফেরত নিয়ে যায়। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব কাজ করার একটা নীতি থাকে বা ভঙ্গি থাকে। এটা নেগেটিভলি দেখলে চলবে না।”

রাশিয়াও তাদের নিজেদের মতো করে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র লিখিত বক্তব্য :
নিউইয়র্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
জাতিসংঘের ৭৩-তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর আমি নিউইয়র্ক আসি। মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
গত এক বছর ধরে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা বহুপাক্ষিক ফোরামে এবং দ্বিপাক্ষিকভাবে কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২-তম অধিবেশনে আমি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ৫-দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা বিষয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বেশ কিছু সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে এ যাবত আমাদের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জসমূহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছি।
গতকাল ২৭শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে আমি বক্তব্য প্রদান করি। প্রতিবারের মত এবারও আমি বাংলায় ভাষণ দেই। ভাষণে আমি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের বিগত সাড়ে নয় বছরের সাফল্যসমূহ তুলে ধরি। পাশাপাশি আমি রোহিঙ্গা সমস্যা, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ অভিবাসন ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরি।
২৩শে সেপ্টেম্বর আমার সঙ্গে মার্কিন সিনেটর জেফরি এ্যালান মার্কলে’র দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি যোগ দেই।
২৪শে সেপ্টেম্বর আমি জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের আয়োজনে High Level Event on the Global Compact on Refugee: A Model for Greater Solidarity and Cooperation-এ অংশগ্রহণ করি। জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট এবং বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রসংসা করেন। আমি রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্য তিনটি সুপারিশ তুলে ধরি। এগুলো হ’ল:
এক। মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বৈষম্যমূলক আইন, নীতিমালা ও প্রথাগুলো বাতিল করতে হবে এবং এ সঙ্কটের মূল কারণগুলি খুঁজে বের করে তার প্রকৃত এবং সময়োপযোগী সমাধান করতে হবে।
দুই। মিয়ানমারকে অবশ্যই একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আস্থা সৃষ্টি ও সকল রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য সুরক্ষা, অধিকার এবং নাগরিকত্বলাভের উপায় নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে সকল নাগরিকের সুরক্ষার জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করতে হবে।
তিন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা প্রতিরোধে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
একইদিন সকালে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী মাদক সমস্যা নিয়ে Global Call to Action on the World Drug Problem শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগদান করি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এই Global Call-এ সমর্থন দান করেছে।
এছাড়া, একইদিন আমি নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটে অংশগ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য ৫ দফা প্রস্তাবনা পেশ করি।
এগুলো হল: সকল ধরনের বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধান; টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি; সহনশীলতার প্রসার, বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ধর্মীয় ও নৃতাত্তিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠিকে বৈষম্য ও শোষণের হাত থেকে রক্ষা করা; সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্রের যোগান বন্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমন; এবং যেকোন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং অহিংসবাদ ও শান্তি সংস্কৃতির প্রসার।
২৪শে সেপ্টেম্বর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমন্ত্রণে আমি Leaders’ Dialogue: Together for Girls Education in Conflict-Affected and Fragile Contexts শীর্ষক সভায় যোগ দেই এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার রোহিঙ্গা শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার আয়োজনে বাংলাদেশের কার্যক্রম তুলে ধরি। এ সকল শিশুরা যাতে মিয়ানমারে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারে সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানাই।
একইদিন দুপুরে আমি মার্কিন চেম্বার অব কমার্স-এর আয়োজনে Luncheon Roundtable Meeting: Bangladesh of the Future-শীর্ষক সভায় অংশ নেই। শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমি আমাদের সরকারের ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও উদ্যোগ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরি। মার্কিন বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রশংসা করেন। অনেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
২৫শে সেপ্টেম্বর সকালে আমি বাংলাদেশের আয়োজনে Cyber Security and International Cooperation শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভার উদ্বোধন করি। এ সভায় আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরি। সভায় বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে cyber নিরাপত্তা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ বিষয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এই সভার সহযোগী আয়োজক ছিল United Nations Office of Disarmament Affairs (UNODA).
এ সভার দ্বিতীয় পর্বটি আমার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। সেখানে Cyber নিরাপত্তার নানাদিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একইদিন আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে Action for Peacekeeping শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করি।
আমি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান ও সাফল্য তুলে ধরি এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সকলের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করি। এ বছর আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত শান্তিরক্ষার যৌথ অঙ্গীকারনামায় সমর্থন জানাই।
গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে গঠিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে Sexual Exploitation and Abuse প্রতিরোধে গঠিত Circle of Leadership-এর এক বছর পূর্তিতে গৃহীত যৌথ ঘোষণাও বাংলাদেশ অনুমোদন করে।
একইদিন আমি World Economic Forum আয়োজিত Sustainable Development in the Fourth Industrial Revolutionশীর্ষক প্লেনারি সভায় অংশগ্রহণ করি। এই প্লেনারি সভা WEF Sustainable Development Impact Summit ২০১৮”-এর অন্তর্ভুক্ত একটি সভা। এই Summit-G WEF-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান Professor Klaus Schwab আমাকে Co-Chair হিসেবে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানান। সভায় আমি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের পরিকল্পনা ও অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরি। অনুষ্ঠানে ৭০টি দেশের প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
২৬শে সেপ্টেম্বর আমি High-level Informal Dialogue on “Implementation of the Paris Agreement on Climate Change: Towards COP24 and Beyond” শীর্ষক সভায় যোগ দেই। এই সভায় আমি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাফল্য তুলে ধরি। এছাড়া আমি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গৃহীত Paris Agreement বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করি।
২৭শে সেপ্টেম্বর আমি ওআইসি সচিবালয় এবং সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অবস্থা বিষয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় যোগ দেই। এই সভায় মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেন। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু হতেই ওআইসি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের সভায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মুসলিম বিশ্বের পরবর্তী করণীয় এবং সকলের মিলিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
একইদিন আমি লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট Council of Women World Leaders এর চেয়ার Ms. Dalia Grybauskaite এর আমন্ত্রণে High Level discussion on Economic Growth through WomenÕs Empowerment শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা উল্লেখপূর্বক আমি নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরি। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিবও অংশগ্রহণ করেন।
২৭শে সেপ্টেম্বর Inter Press Service News Agency রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুকরণীয়, দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের জন্য আমাকে International Achievement Award প্রদান করে। একইদিনে Global Hope Coalition আমাকে 2018 Special Recognition for Outstanding Leadership award প্রদান করে। এই সম্মাননাও রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য প্রদান করা হয়। ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এই প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক সকল দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত অভ্যর্থনা সভায় যোগ দেই।
এছাড়া, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস কমিটির সভাপতি, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, নেদারল্যান্ডের রানী ম্যাক্সিমা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়িনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিনিধি, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভাপতি এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়টি উঠে আসে।
এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি সম্পর্কিত একটি, বিশ্ব শান্তি রক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত ২টিসহ সর্বমোট ৫টি যৌথ ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেছে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/538178669972991/

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV