নিউইয়র্কে নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসীর সভায় অবৈধ পন্থায় মসজিদের গঠণতন্ত্র পরিবর্তনের অভিযোগ
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/343379972877775/
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসীর এক সভায় অবৈধ পন্থায় মসজিদের গঠণতন্ত্র পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবর্তন/সংশোধনের কোন নিয়ম নীতি অনুসরণ না করেই মসজিদের নিবন্ধীকৃত মূল গঠণতন্ত্র “নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার ইনক” এর নাম পরিবর্তন করে “নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার ডি,বি,এ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ” করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় নর্থ ব্রঙ্কসের ৩০৬১ বেইনব্রীজ এভিনিউর চার্চ হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের কার্যকরী সদস্য হাজী আরদুর রউফের সভাপতিত্বে এবং মঞ্জুর চৌধুরী জগলুলের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শাহীন আহমদ, কার্যকরী সদস্য আনসার হোসেন চৌধুরী, শামীম মোহাম্মদ ও নজরুল খান, এলাকাবাসীর পক্ষে সিরাজুল ইসলাম খান, আবদুর রহিম, শহিদুল আলম, সৈয়দ আবদুল মতিন, জিয়া বিপ্লব, মো. হামিদুর রহমান আশরাফ, তারেক আহমেদ প্রমুখ।


সভায় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি “নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার ও জামে মসজিদ” হিসাবে দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসীর সাহায্য ও সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি নানা রকম ছলচাতুরী ও সত্য-মিথার ভিতর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৫শে জুলাই মহামান্য আদালতে হলফনামা দাখিলের মাধ্যমে মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট জনাব সৈয়দ জামিন আলী ও সেক্রেটারী জনাব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ব্যক্তি/গোষ্ঠী স্বার্থে পরিচালিত ও গোপনীয়ভাবে গৃহীত অনেক তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মূল গঠণতন্ত্রে উল্লিখিত অননুমোদিত এবং সরকারের কাছে নিবন্ধীকৃত “নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার ইনক” এর নাম পরিবর্তন করে “নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার ডি,বি,এ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ” করা হয়েছে। মসজিদ প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পর কেন, কী উদ্দেশ্যে, কার স্বার্থে এবং কার অনুমতিক্রমে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা কেউ জানে না। বৈঠকখানায় বসে এ পরিবর্তন করতে জনগণকে জানান কিংবা জনমত যাচাই করা হয়নি।


মূল গঠণতন্ত্র পরিবর্তন, জনগণকে না জানিয়ে, কোন নোটিশ প্রদান না করে, কোন সভা-সমাবেশ না করে, কোন রকম কারণ না দর্শিয়ে ২/৩ জন ব্যক্তির খেয়াল খুশিমত ব্যক্তি/গোষ্ঠীর স্বার্থে গঠণতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার জনগণ ও মুসল্লীবৃন্দ যাদের অর্থায়নে মসজিদ চালু আছে, তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন। গঠণতন্ত্র পরিবর্তনের/সংশোধনের কোন নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হয়নি। অর্থ্যাৎ অবৈধ পন্থায় গঠণতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জামিন আলী এবং সেক্রেটারী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন উপরোক্ত অবৈধ গঠণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে আরও অনেক অবৈধ কাজ করেছেন।
এর মধ্যে মূল গঠণতন্ত্রে নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ১ (এক) বছর ছিল। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে জনগণের অজান্তে তা ৫ (পাঁচ) বছর করা হেেযছে।
কোন নির্বাচন কমিশন গঠণ না করে, সভা-সমাবেশ না করে এবং সর্বোপরি কোন নির্বাচন অনুষ্ঠান না করে নিজেদের সুবিধামত এবং পছন্দমত ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য ২১ (একুশ) সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ঘরে বসে গঠন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এবং মৌখিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল যে, কার্যকরী কমিটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট করা হবে এবং যাদেরকে ওই লোভ দেখিয়ে সদস্য করা হয়েছিল, তাদের সাথে প্রতারণা করে ৭১ সদস্যের পরিবর্তে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠণ করা হয়েছে।


লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এ অবৈধ কমিটি, কমিটির প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারী আজ পর্যন্ত জনগণের সামনে উপস্থিত হননি এবং তাদের কার্যকলাপের কোন ব্যাখা প্রদান করেন নি। অর্থ্যাৎ তারা জনগণের কোন মূল্য দেন না এবং কোন তোয়াক্কা করেন না। মামলা হওয়ায় বাধ্য হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে মহামান্য আদালতকে উপরোক্ত তথ্যাদি বিগত ২৫শে জুলাই অবগত করেছেন।
বক্তব্যে বলা হয়, মূল গঠণতন্ত্র অনুযায়ী ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সকল সুন্নী মুসলিম এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার অধিকারী বা যোগ্য। বর্তমান গঠণতন্ত্রে সর্বজনীন এ অধিকার খর্ব করা হয়েছে। শুধুমাত্র সুফীবাদে বিশ্বাসীগণ এই মসজিদের সদস্য থাকতে পারবেন। অর্থ্যাৎ যারা সুফীবাদী নন, তারা এই মসজিদের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী যদি মনে করেন যে, বর্তমান কোন সদস্য সুফীবাদী নন, তাহলে তারা ওই সদস্যকে বহিস্কার করতে পারবেন।
মূল গঠণতন্ত্রে বিধান ছিল সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী বোর্ডের স্থিরীকৃত শর্তে সুন্নী মতাবলম্বী একজন ইমাম নিয়োগ করা হবে। কিন্তু বর্তমান গঠণতন্ত্র এ ব্যাপারে সাধারণ সদস্য, এমনকি নির্বাহী বোর্ডকেও অবহেলা ও অগ্রাহ্য করেছে। এ ব্যপারে তথাকথিত ট্রাষ্টিগণ তাদের নির্ধারিত শর্ত মোতাবেক ইমাম নিয়োগ ও বরখাস্ত করবেন এবং তার বেতন-ভাতা নির্ধারণ করবেন। এমনকি ওই অদৃশ্য ট্রাষ্টিগণ ট্রাষ্টিগণ যুক্তরাষ্ট্রের ভিতর কিংবা বাহির থেকে লোক স্পন্সর করতে পারবেন। এর মাধ্যমে লোক এনে অর্থ কামানোর পথ সুগম করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কোন সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের ক্ষেত্রে মূল গঠণতন্ত্রে ছিল, উক্ত সদস্যের কারণ দর্শানো এবং ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) সদস্যের সম্মতিক্রমে সদস্যপদ বাতিল করার বিধান। বর্তমান অবৈধ গঠণতন্ত্রে উপরোক্ত বিধান রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় যে কোন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করতে পারবেন। এটা যে কত বড় স্বেচ্ছাচারিতা Ñ মনে হয় মসজিদ তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী যদি মনে করেন যে, কোন সদস্য সুফীবাদ চর্চা করেন না, তাহলে তারা ওই সদস্যকে তৎক্ষণাৎ বহিস্কার করতে পারবেন। তারা কোন সভা অনুষ্ঠান বা সাধারণ সদস্যদের মতামত নেয়া প্রয়োজন মনে করেন না।
তদুপরি যদি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী মনে করেন যে, কোন ব্যক্তি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কোন সময়ে মসজিদ কিংবা গঠণতন্ত্র কিংবা উপবিধির বিরুদ্ধে কোন কিছু করেছেন, অথবা সুফীবাদ চর্চাকারী না হন, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার বা নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের সদস্য হিসেবে গ্রহণ না করার অধিকার শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর থাকবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আজ থেকে ৫০/৬০ বছর পর যে ব্যক্তি সদস্য হওয়ার ইচ্ছা করবেন তিনি তার সদস্য হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার জন্য ওই সময়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীকে কোথায় খুঁজে পাবেন?
বক্তব্যে বলা হয়, মুল গঠণতন্ত্রে বিধান (অনুচ্ছেদ-১৭, উপধারা-২) ছিল কোন কারণে কর্পোরেশন বিলুপ্তির ক্ষেত্রে ঋণ ও দায় পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদ কর্পোরেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্মীয়/কমিউনিটির কল্যাণকর কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কিন্তু বর্তমান গঠণতন্ত্রের বিধান (অনুচ্ছেদ-১৭, উপধারা-২) হলো, ঋণ ও দায় পরিশোধের পর যে সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে তা কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর দায়িত্বে ন্যস্ত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী কর্পোরেশন ও মসজিদের মালিকানা দাবী করেছেন। এলাকাবাসী ও মুসল্লীগণ বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করে দেখবেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টারের সেন্টারের আয় ব্যয়ের হিসাব আইনানুয়ায়ী বার্ষিক সভা/সাধারণ সভায় না পেশ করে ঈদের জামাত, শবেবরাত ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বলা হয় যে, এত ডলার আয় হয়েছে, এত ডলার ব্যয় হয়েছে। আর্থিক বিষয়ে কোন সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হয় না। এ সম্পর্কে কেউ কোন প্রশ্ন করতে পারেন না এবং এর কোন জবাবদিহিতাও পাওয়া যায় না। খুবই অস্বচ্ছ ব্যবস্থা চলে আসছে, যা প্রায় প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে। অডিট করা হয় কিনা বা করা হলে তার ফলাফল কী হয়েছে তা জনগণকে জানান হয় না। তাই জনমনে অনেক সন্দেহের উদ্রেক হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়মের অনেক অভিযোগ উঠে Ñ যেমন; প্রথম কন্ট্রাক্টর কাজ শেষ না করে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে গেছে, সাইডওয়াক ইন্স্যুরেন্স না করায় অনেক অর্থ গচ্চা দিতে হয়েছে, নিয়মিত গার্বেজ পরিস্কার না করায় অনেক অর্থের টিকেট পরিশোধ করতে হয়েছে এবং কন্ট্রাক্টর কাজ শেষ না করার কারণে বাকী কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ধরনের আরও আর্থিক অনিয়নের ঘটনা শোনা যায়।
এতদসত্বেও প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী জনগণের সামনে এসে সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাচ্ছেন না। অর্থ্যাৎ তারা জনগণকে ভয় পান যে, হয়তো বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক জবাব এবং কৃতকর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না, তাই তারা সভার আয়োজন করেন না।
কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জামিন আলী এবং সেক্রেটারী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ব্যক্তি স্বার্থে জনগণকে না জানিয়ে গোপনে গঠণতন্ত্র পরিবর্তন করেছেন, নতুন নির্বাহী কমিটি গঠণ করেছেন এবং সকল মুসলমানকে কর্পোরেশনের/মসজিদের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাধানিষেধ আরোপ করেছেন। এ সবই অবৈধ ও অনৈতিক। হয়তো এজন্যই তারা জনগণের সামনে আসতে ভয় পান বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








