নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার ষ্টেট পার্কে ইয়েলো সোসাইটির বনভোজন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : প্রবাস জীবনের সব ব্যস্ততাকে ছুঁড়ে ফেলে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হয়ে গেল প্রবাসে অন্যতম পেশাজীবি সংগঠন ইয়েলো সোসাইটি নিউইয়র্ক, ইনকের বনভোজন। গত ২৮ জুলাই রবিবার লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার ষ্টেট পার্কে মনোরম পরিবেশে বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করে সংগঠনটি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাস করুক না কেন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের টান উপভোগ করেন বাংলাদেশিরা। সোসাইটির সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে ভ্রমণে যায় ইয়েলো পরিবার সদস্যরা। গন্তব্যে পৌঁছে সবাই নয়ন ভরে দেখে নেন প্রাকৃতিক বুকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। তাঁরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উল্ল¬াস প্রকাশ করেন।

কয়েক পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানে শুরু ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বনভোজনে উদ্বোধন করেন সোসাইটির সভাপতি মো: আলী আক্কাস। এ সময়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বনভোজন উপ কমিটির আহবায়ক ও সংগঠনের সহ সভাপতি মাহবুব হোসেন। সভাপতি আলী আক্কাসের তত্ত্বাবধানে, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী ফেরদৌসের কর্মপরিকল্পনায় বনভোজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, এমদাদুল হক মিজান, আজিজুল হক, মো: জাহাঙ্গীর আলম, মো: সামসুদ্দৌলা, মো: সেলিম ভূইঁয়া, কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু সুবল চন্দ্র হালদার, কোষাধ্যক্ষ শাহেদুল হক রওশন, সহ কোষাধ্যক্ষ মাহবুবর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম গফুর, প্রচার সম্পাদক, হাফিজ আহমেদ এঞ্জেল, ক্রীড়া সম্পাদক কেএম মোকতাদের হাসান, অফিস সম্পাদক একেএম আবু হানিফ, আবওয়াবুর রহমান আরবাব, কবির হোসেন আলতাফ, মোহাম্মদ টি হোসেন, জাহিদুর রহমান জাহিদ, আবওয়াবুর রহমান আরবাব, কবির হোসেন আলতাফ, মোহাম্মদ টি হোসেন। সাবেক বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে মোরশেদ খান শিবলী, সিদ্দিকুর রহমান, শেখ ইলিয়াস হাবিব, রফিকুল ইসলাম জিয়া, আরশাদ হোসেন, মো: এ ওহাব, মাসুদ রানা প্রমুখ। সাবেক সভাপতি মো: শাহ আলম, মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ভূঞা, শহিদুল্লাহ খান মানিক, গোলাম মহিউদ্দিন, বুলু মিয়া, আখলাকুর রহমান আপন, জাহিদুল ইসলাম, রেজা খান ডালু, আব্দুস সালাম ও মো: জহিরুল ইসলাম।

আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মোহাম্মদ আলী, বে অফ বেঙ্গল এর মো: মনছুর আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, ইউনাইডেট অটোর আজম, পিসি রির্চাড এন্ড সন্স এর আশরাফুল আলম জঙ্গীসহ আরো অনেকে। অপরিসীম দায়িত্ব ও কর্মব্যস্ততার ফাঁকে যেন একটু প্রশান্তির ছোঁয়া, নতুন উদ্যোমে কাজ করার নব প্রেরণা। আহ্বায়ক মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে অত্যন্ত সফল বনভোজনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দমুখর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পার্কের ঝকঝকে সজীব দিনে সাগরের পাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল প্রবাসী বাঙালিদের উচ্ছ্বাস। ১০০০ লোকের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো শিশু-কিশোর-কিশোরী আর নারী। চমৎকায় আবহাওয়া ও পরিবেশে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অনেকেই সপরিবারে যোগ দিয়ে বনভোজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। বিশাল পার্কের গাছের ছায়ায় বাংলাদেশী স্টাইলে চাদর বিছিয়ে তারা আড্ডায় মেতে উঠেন।
দিনব্যাপী বনভোজনের পাশাপাশি ছিল নানা ধরনের আয়োজন। তবে খাবারের কথা না বললে বনভোজন থেকে যায় অসম্পূর্ণ। সকালে নাশতা, আইক্রীম, তরমুজ, দুপুরে খাবার আর পান-সুপারি। আয়োজকদের চেষ্টা ছিল সবার কাছে উপভোগ্য এবং স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলা। বলা যায়, সে প্রচেষ্টা সম্পন্নটাই সফল। দুপুরের খাবারের পরই ছিল গানের তালে তালে মহিলাদের বালিশ খেলা, কৃতিছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর র্যাফেল ড্র। সাংস্কৃতিক সম্পাদক একেএম মামুনুর রশিদ এর পরিচালনায় এ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শর্শী। গান চলাকালিন সময়ে পরিবেশন করা হয় ঝালমুড়ি। আগত দর্শক শ্রোতা প্রিয় শিল্পীর গানের শুনছে আর ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। এরই মধ্যে প্যাভিলনের পাশে একগ্রুপকে দেখা যায় জনপ্রিয় ‘দাবা’ খেলতে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল ভূইঁয়া কাজে ফাঁকে বিক্রয় করছে র্যাফেল ড্র এর টিকেট। তাঁর টিকেট বিক্রয়ের সিস্টাম দেখে একজন সদস্যকে বলতে শুনা যায়, ইয়েলো সোসাইটি সাবেক-বর্তমান সকল কর্মকর্তা সমানতালে কাজ করে বনভোজনকে স্বার্থক করে তুললেও আব্দুল আউয়াল ভূইঁয়া সোসাইটি একজন নি:স্বার্থ কর্মপাগল মানুষ। এ জন্যই তিনি সকলের কাছে জনপ্রিয়।
সবশেষে ছিল র্যাফেল ড্র। এতে গ্র্যান্ড পুরস্কার স্বর্ণালংকার সেটের সৌজ্যন্যে ছিল ইয়েলো সোসাইটির প্রাক্তণ সভাপতিবৃন্দ। এছাড়াও ১ম পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমান টিকেটসহ ১৫ টি আকর্ষণীয় পুরস্কার ছিল। এছাড়াও মহিলাদের বালিশ খেলা, দৌড় প্রতিযোগিতা, রশি টানাটানিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে শতাধিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ বার বনভোজনের ব্যতিক্রম ইভেন্ট ছিল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, কাইনান নাঈন, আফনান ভূইঁয়া, তাজকীয়া সালাম। সবশেষে ছিল সভাপতি মোহাম্মদ আলী আক্কাস, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী ফেরদৌস ও আহবায়ক মাহবুব হোসেনের সমাপনি বক্তব্যে। তাদের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হয় বনভোজনের কার্যত্রুম। দিনশেষে খানিকটা ক্লান্ত হলেও সবাই ঘরে ফিরেছে ভালোলাগা নিয়েই। এ উপলক্ষে মাজহারুল হান্নান প্রিন্সের সম্পাদনায় এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবদি যে সকল সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে উৎসর্গ করে “সম্প্রীতি-৬” নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests