নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা মুক্তাদির স্মরণ সভা : দেশ মাতৃকার এসব খাঁটি সন্তানদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে উত্তর প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে তাদের অনেকই আজ জীবন সায়াহ্নে। অনেকেই চলে গেছেন দেশ ও সমাজ নিয়ে তাদের নানা স্বপ্নের মাঝপথে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দ্রোহ প্রজন্মের বহু মেধাবী সন্তান সময়ের নিষ্টুর বলি হয়েছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা ঘটনা তাদের তাড়িত করেছে। অনেকেই নিজেকে নিঃশেষ করে দেশ ও সমাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আর ভালোবাসার কথা জানান দিয়ে গেছেন। দেশ মাতৃকার এসব খাঁটি সন্তানদের নানাভাবে চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের উত্তর প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে।
মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, প্রগতিশীল নাগরিক অধিকার সংগঠক অকাল প্রয়াত ম আ মুক্তাদির স্মরণে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর পরিচালনায় আলোচনার সূত্রপাত করেন সাংবাদিক রহমান মাহবুব এবং হেলিম আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী , মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট শেখ আখতারুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, কবি ফকির ইলিয়াস, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, ইশতিয়াক রুপু , রব্বানী চৌধুরী, মঞ্জুরুল হক, ভায়লা সেলিনা, রোকেয়া দীপা, আব্দুস শহীদ, শেলী জামান খান, সানজীদা উর্মী, রওশন হক, আব্দুল মুকিত চৌধুরী, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জয়দেব দে, ফরহাদ চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, এডভোকেট বিমান দাশ, শিবতোষ চক্রবর্তী, আব্দুল মালিক জুয়েল, মামুন আহমেদ,মামুন রশীদ চৌধুরী, আ ফ ম মেসবাউজ্জামান প্রমুখ।
মরহুম ম আ মুক্তাদিরের সহপাঠী, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মুকিত চৌধুরী বলেন, ম আ মুক্তাদিরের মতো বন্ধু আমার ছিল এ কথাটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বড়লোকদের স্মরণসভা অনেকেই করে । আজকের ব্যতিক্রমী স্মরণসভা দেশ ও সমাজের জন্য লড়ে যাওয়া নিঃস্বার্থ মানুষের জন্য একদল অগ্রসর মানুষের ভালোবাসার প্রমাণ।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আখতারুল ইসলাম বলেন, সতীর্থদের উদ্যোগ আয়োজনের মাধ্যমে একজন স্বপ্নচারী সমাজ পরিবর্তনের সৈনিকের স্মরণে এমন অনুষ্টান আয়োজনের জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
ম আ মুক্তাদিরের পারিবারিক আত্মীয় কবি ফকির ইলিয়াস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। ফকির ইলিয়াস বলেন, একটি শোষণহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম।দেশ ও যুক্তরাজ্যে ম আ মুক্তাদিরের জীবন আর কর্মকান্ডের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে ফকির ইলিয়াস বলেন, একজন স্বপ্নচারী বিপ্লবীর মৃত্যু হতে পারে না। নানাভাবে প্রেরণার উৎস হয়ে এসব লড়াকুরা পরিবর্তনের প্রেরণা দিয়ে যান।সমাজ প্রগতির জন্য নানা প্রশ্ন রেখে যান। ম আ মুক্তাদির এমন এক মাঠের কর্মবীর ছিলেন। যিনি সমাজকে নানাভাবে আন্দোলিত করে গেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে নানা কৌশলে। ইতিহাসের বিভিন্ন দিক ক্রমশঃ বেরিয়ে আসছে। আদর্শবাদের রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছিল যে প্রজন্ম , তাঁদের আলোর বিভায় সমাজ এগিয়ে যাবে।
সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলমনি এসোসিয়েশনের নেতা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ম আ মুক্তাদিরের সাংগঠনিক দক্ষতায় সারা বাংলাদেশের তারুণ্য এক সময় উজ্জীবিত হয়েছে। প্রার্থনা ও নীরবতা ছিল স্মরণ অন্যষ্টানে। এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ইমাম কাজী কাইয়্যুম প্রার্থনায় স্মরণ করেন প্রয়াত মা মুক্তাদিরকে। লন্ডন থেকে ম আ মুক্তাদিরের অনুসারীরা সভায় যোগদেন ভিডিও কল করে। সেখান থেকে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আ ক ম চুন্নু।
সভাপতির বক্তব্যে মাহুবুর রহমান প্রায়ত ম আ মুক্তাদিরকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতির উল্লেখ করে বলেন, যারা নীরবে নিভৃত্বে কাজ করে যায় , তাদের স্মরণের মধ্য দিয়ে আয়োজকরা একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার সমাপ্তি টানেন।
উল্লেখ্য, কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুক্তাদির সিলেটের সুরমা পার থেকে মুক্তিযুদ্ধের ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। প্রগতিশীল তরুণ সংগঠক ছারাও ক্রীড়া, সাংবাদিকতা সহ নানা ক্ষেত্রের এক সার্বক্ষণিক লড়াকু হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের গ্রুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ সংগঠককে দীর্ঘ কারাবরণ করতে হয়। এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে মামলা ও পারিবারিক কারণে আটকা পরেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিক আন্দোলনে মাঠের সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির ‘বাংলা টাউন’ প্রতিষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনেকটা অকালেই মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ম আ মুক্তাদির ১৯৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁর সতীর্থ অনুরাগী সহ সিলেট অঞ্চলের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ম আ মুক্তাদিরকে একজন নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমিক সংগঠক হিসেবে নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন। সিলেট , লন্ডন এবং নিউইয়র্কে তাঁর স্মরণে একাধিক অনুষ্টান হচ্ছে।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests