প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক আসছেন রোববার, জাতিসংঘে ভাষণ ২৭ সেপ্টেম্বর, প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা সমস্যা : সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত মোমেন (ভিডিও)
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/386033648991576/
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্কে আসছেন। তার সফর সূচি বিস্তারিত তুলে ধরতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ‘বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতো এবারো জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক না থাকলেও জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সাথে দেখা হবে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জাতিসংঘের মহাসচিব সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। নরেন্দ্র মোদীর সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গা, আসাম, কাশ্মীর, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ প্রভৃতি ইস্যু প্রাধান্য পাবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কানাডা ছাড়াও ওআইস, আইসিজে প্রতিনিধি সহ আন্তর্জাতিক ফোরামের সাথে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। মিশনের ফাস্ট সেক্রেটারী (প্রেস) নূর এলাহী মিনার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপ স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ ও মিনিস্টার মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে। অধিবেশনে ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান অথবা তাদের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন। এবারের অধিবেশন চলাকালীন ৫টি সামিট ছাড়াও ৫ শতাধিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। এই উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্ব আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি সফরসঙ্গী হবেন।

লিখিত বক্তব্যে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন জানান, এ বছর সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য হচ্ছেঃ “Galvanizing multilateral efforts for poverty eradication, quality education, climate action and inclusion”। যে সকল কারণে এবারের অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে সেগুলো হলঃ
সাধারণ বিতর্ক পর্বের মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকলের সুস্বাস্থ্য নিশিচতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ণ এবং অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে এবারের অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তাই এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সকল বিষয়সমূহে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এবারের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক পর্বের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা এসডিজি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাসমূহে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এসডিজি এর লক্ষ্য পূরণে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা পূর্ণ মনোভাব নিয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়সমূহের উপর আলোচনা হবে।
জাতিসংঘের এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনায় আসবে এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর অন্যতম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর আশ্রয়দানকারী হিসেবে রোহিঙ্গা বিষয়ে আয়োজিতব্য বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরা অত্যাবশ্যক। এছাড়াও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৭২-তম অধিবেশনে প্রদত্ত ৫ দফা প্রস্তাব ও ৭৩-তম অধিবেশনে পুনর্ব্যক্ত ৩ দফা এখনো প্রাসঙ্গিক। উপরন্তু রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের আগ্রহ, সার্বিক অবস্থান অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিতকরণে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জোরালো বক্তব্য ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর নতুন করে সরকার গঠনের পর এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে অর্জিত বাংলাদেশের সাফল্যসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনা বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে পারেন।
এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেনঃ
২৩ সেপ্টেম্বর ‘Universal Health Coverage (UHC)’ শীর্ষক দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই উচ্চ পর্যায়ের সভার মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘Universal Health Coverage: Moving Together to Build a Healthier World’। এই সভার মূল লক্ষ্য হলো, সকলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে একটি সর্বসম্মত ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ। এই সভায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করে একটি সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হবে। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক বছরে আমাদের অসাধারণ সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া, এই সভার অংশ হিসেবে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে যার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছেঃ ‘Universal Health Coverage as driver of equity, inclusive development and prosperity for all’। এই প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী কো-চেয়ার হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর ‘Climate Action Summit 2019’-এ অংশগ্রহণ করবেন। এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘Climate Action Summit 2019: A Race We Can Win. A Race We Must Win’। ছয়টি মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। এখানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সাথে মিলিতভাবে climate resilience বিষয়টির নেতৃত্ব প্রদান করবে। জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার বিষয়টি এই সভায় আলোকপাত করা হবে।
Global Alliance for Vaccination and Immunization (GAVI) – বর্তমানে The Vaccine Alliance নামে পরিচিত সংস্থাটি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচীতে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচীর নীতি নির্ধারণী কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং কার্যকর নেতৃত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে ‘Vaccine Hero’ সম্মাননা প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী Global Commission on Adaptation এর আয়োজনে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। উলে¬খ্য ২০১৮ সালের অক্টোবরের প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ Global Commission on Adaptation এর সাথে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কার্যরত সংস্থাটির তৃতীয় সভা গত জুলাই ২০১৯ এ ঢাকায় আয়োজন করা হয়।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এর আয়োজনে ‘Rohingya Crisis – A Way Forward’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এই সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের অতিদ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মুসলিম বিশ্বসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ‘Leadership Matters- Relevance of Mahatma Gandhi in the Contemporary World’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। এই সভায় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের আলোকে সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী “High-level Political Forum on Sustainable Development (SDG summit): Leader’s dialogue 4 on “Localizing the SDGs” শীর্ষক সভায় কো মডারেটর হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সভা পরিচালনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে এর লক্ষ্যসমূহ জাতীয় পরিকল্পনার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরবেন এবং এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি বর্ণনা করবেন।
২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী UNICEF আয়োজিত ‘An evening to honour Her Excellency Prime Minister Sheikh Hasina’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। মূলত, প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা প্রদান করার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ‘Champion of skill development for youth’ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে “Sustainable Universal Health Coverage: Comprehensive Primary care inclusive of mental health and disabilities” শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে এই সভায় কমিউনিটি ক্লিনিক খাতে বাংলাদেশের অনুকরণীয় সাফল্য এবং প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরা হবে। ভূটানের প্রধানমন্ত্রী ও নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী উক্ত সভায় উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া এই সাইড ইভেন্টের টেকনিক্যাল পর্যায়ের আলোচনা সভায় বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ‘শুভেচ্ছা দূত’ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন মডারেটরের দায়িত্ব পালন করবেন।
২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অগ্রযাত্রা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী সাফল্য ও নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়সমুহে আলোকপাত করবেন। পাশাপাশি, তাঁর বক্তব্যে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলা, ব¬ু ইকোনমি বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার মত বিষয়সমূহ উঠে আসবে। এছাড়া, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবারও তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা পেশ করতে পারেন। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী নতুন Resident Coordinator System পরিচালনে সহায়তার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডে বাংলাদেশের পক্ষ হতে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের ঘোষণা প্রদান করবেন।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থানকালে দুটি সংস্থার আমন্ত্রণে তাঁদের সদস্যগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেনঃ
২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য Think Tank, Council on Foreign Relations (CFR) এর আমন্ত্রণে এর সদস্যবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সংগঠন US Chamber of Commerce এর আয়োজনে প্রতি বছরের ন্যায় একটি গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই বছর, সাবেক US Assistant Secretary of State ও বর্তমানে US Chamber of Commerce এর Senior Vice President মিজ নিশা বিসওয়াল প্রধানমন্ত্রীকে এই বৈঠকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ হতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সাথে দুই দেশের মাঝে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এসকল সভার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক সকল দেশের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র প্রধানগণের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণ করবেন।
প্রতি বছরের মত এবারও, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীগণ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত রানী ম্যাক্সিমা, Billd Melinda Gates Foundation এর Co-chair Mr. Bill Gates, আইসিসি এর চীফ প্রসিকিউটর, Exon Mobil এর প্রধান নির্বাহীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানগণের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এবারের অধিবেশন চলাকালে ২৫ সেপ্টেম্বর Wall Street Journal– এর ফ্রন্টিয়ার মার্কেট এডিটর Mr. Dan Keeler প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকার গ্রহন করবেন। এছাড়া, ২৭ সেপ্টেম্বর The Washington Post -এর Foreign Affairs Writer, Mr. Ishaan Tharoor প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকার গ্রহণ করবেন। এছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা সার্ভিস বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎকার নিবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, এমপি ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায় স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে “A Pathway to a sustainable Solution to the Rohingya Crisis” শীর্ষক একটি সেমিনারে কী নোট স্পীকার হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া এবারের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে ২৬ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমানু নিরস্ত্রিকরণ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons’ শীর্ষক চুক্তিটিতে অনুস্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উলে¬খ্য, ২০১৭ সালে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করার প্রথম দিনেই বাংলাদেশ তা স্বাক্ষর করেছিল। এছাড়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসি কন্ট্যাক্ট গ্রুপ-এর সভা, কমনওয়েলথ পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণের সভা, OIC পররাষ্ট্রমন্ত্রীবৃন্দের বার্ষিক সভা, কমনওয়েলথ্ মিনিস্টারিয়াল গ্রুপ-এর সভাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা যেমনঃ সার্ক, ন্যাম, জি-৭৭, এশিয়ান কো অপারেশন ডায়ালগ, CICA, এল ডি সি গ্রুপ ইত্যাদি সংস্থাসমূহের মন্ত্রীপর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়ন, পৃথিবীব্যাপী শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মকান্ডে দাতা সংস্থা ও দাতাদেশ সমূহের অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে সকলের শিক্ষা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসহ সকল ধরনের চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে বহুপাক্ষিক ফোরামের কার্যকারিতাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসডিজি বাস্তবায়নে রাষ্টসমূহের সদিচ্ছা, অগ্রগতি ও এ যাবৎ গৃহীত পদক্ষেপকে গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হবে। এ প্রেক্ষিতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা, এমডিজি এর লক্ষ্য পূরণে অসাধারণ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা, এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অনুকরণীয় সাফল্য আজ সর্বজনবিদিত। এর ধারাবাহিকতায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের বহুল প্রশংসিত দীপ্ত পদচারনাকে আরও সমুন্নত করবে।
পরে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসানে সফলতা আসেনি সত্য। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘বার্মা ইস্যু’ পলিসি নিয়ে কাজ করছে। এব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা আন্তর্জাতিক অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাই।
প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। তবে সেখানে সকল বিষয়ে গভীর আলোচনায় যাওয়ার সুযোগ কম। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে যাওয়ার পর ভারত সফরকালীন সময়ে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে অমিমাংসিত সমসাগুলোর সমাধান হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিও থাকা না থাকা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, সকল এনজিও-ই অপরাধ কর্মকান্ডের আথে জড়িত নয়। তবে তাদের কর্মকান্ড নজরে রাখা হচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মাসুদ বিন মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ১৩৩জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল তাদের নিজ খরচে আসছেন। তবে সরকারী পর্যায়ে কতজন আসছেন তার কোন সঠিক হিসেব এখনো চুড়ান্ত হয়নি।
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD
- নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
- নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








