‘পাবলিক চার্জ’ বলে পরিচিত ফুড স্ট্যাম্প, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা গ্রহণ করলে গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে না বলে প্রশাসনিক নির্দেশনাটি স্থগিত করেছেন মার্কিন আদালত
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বলে পরিচিত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলে গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে না বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক নির্দেশনাটি স্থগিত করেছেন আদালত।
ফুড স্ট্যাম্প, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা নেওয়া যাবে না—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্দেশনাটি ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ১১ অক্টোবর তিনজন ফেডারেল বিচারক প্রশাসনিক নির্দেশনাটি স্থগিত করে রায় দিয়েছেন। অভিবাসী গ্রুপগুলো আদালতের এ রায়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটি কার্যকর করার জন্য নতুন উপায় খোঁজার কথা জানানো হয়েছে।
পারিবারিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ ছিল এটি। পারিবারিক বন্ধন নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনের জন্য অর্থনৈতিক সামর্থ্যকেই এ নির্দেশনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। অভিবাসনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এমন নির্দেশনায় অভিবাসী গ্রুপ এবং উদারনৈতিক মহল দ্রুত প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে উদারনৈতিক রাজ্যগুলোতে একের পর এক মামলা করা হয়। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার মাত্র চার দিন আগে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসির দেওয়া এই রায় অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস তাঁর দেওয়া রায়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অভিবাসন আইনকে একটি নতুন কাঠামো দিয়ে সংজ্ঞা দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এই নির্দেশনাটি কার্যকর হওয়ার অনুমতি দিলে ‘আইন মেনে চলা লোকজন যারা যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এসেছে, তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
জর্জ ড্যানিয়েলস বলেন, বিধিটি কার্যকর হলে লোকজনের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হবে। আইনগত প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণে তারা ভয় পাবে। সমাজে অবদান রাখার জন্য নাগরিকদের এসব সুবিধা আইনগতভাবেই গ্রহণ করার পথ অবারিত করা আছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনাটি ভীতি দেখিয়ে এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে বলে বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন।
স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কেন কুকিনেল্লি বলেন, আমেরিকায় বসতি স্থাপনকারী অভিবাসীদের আর্থিকভাবে সাপোর্ট করার বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন এই প্রয়াসটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আইনগত উদ্যোগ ও নীতিমালা তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগও বুঝতে সক্ষম হবে আমেরিকায় আসা অভিবাসীরা নিজেদের সামর্থ্যে চলার বিষয়টি আইনের মধ্যেই আছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব স্টেফানি গ্রিশাম বলেছেন, বিচারকদের এসব রায় ‘অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক’।
নিউইয়র্কে জেলা আদালতের বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস দেশব্যাপী আদেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সান ফ্রান্সিসকোয় তৃতীয় জেলা আদালতের বিচারক বলেছেন, প্রশাসন নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলের এখতিয়ারের মধ্যে এই আইন প্রয়োগ করতে পারে না। বিচারক ড্যানিয়েলস তাঁর আদেশে কেন ‘পাবলিক চার্জ’–এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হলো বা কেন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলো, তা পর্যাপ্তভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম এবং জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সমৃদ্ধি ও সাফল্যের যে আমেরিকান স্বপ্ন—তাঁর সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশটি সাংঘর্ষিক।
মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক নামের একটি একটি অভিবাসী গ্রুপের সহনির্বাহী পরিচালক জ্যাভিয়ার ভালদেস বিচারক ড্যানিয়েলের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় বর্ণবাদ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ কৌশলটি আজকের সিদ্ধান্তের ফলে বড় পরাজয়ের নজির হয়ে থাকবে।
ফুড স্ট্যাম্প, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা নেওয়া যাবে না—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্দেশনা অভিবাসী প্রত্যাশীদের জন্য চরম উদ্বেগ নিয়ে আসে।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests