Monday, 27 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ অনূদিত ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’ অ্যান্থোলজির প্রকাশনা উৎসব

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 156 বার

প্রকাশিত: October 14, 2019 | 1:56 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে হয়ে গেলো কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ অনূদিত ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’ অ্যান্থোলজির প্রকাশনা উৎসব বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি সফল হয়েছে ‘শব্দগুচ্ছ’ কবিতা পত্রিকার মাধ্যমে। বাইশ বছর ধরে প্রকাশিত দ্বিভাষিক এই পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিও জুটিয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় পত্রিকা সম্পাদক, কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর অনুবাদে এ বছর প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের কবিতার একটি নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সংকলন, কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি।

নিউইয়র্ক কালচারাল এফেয়ার্সের বিশেষ অনুবাদ গ্রান্টে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মূল ধারার দুটি স্মলপ্রেস, ক্রস-কালচারাল কমিউনিকেশন্স ও নিউ ফেরাল প্রেস। গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব হয়ে গেলো ১২ অক্টোবর, ২০১৯ শনিবার, নিউইয়র্কে বাঙালীদের প্র্রাণ কেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস-এর বাংলাদেশ প্লাজায়।

‘শব্দগুচ্ছ’ পত্রিকার ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন কবি ও প্রকাশক স্ট্যানলি এইচ বারকান। তিনি বলেন, “টেগোর ও নজরুলের ধারাবাহিকতায় হাসানআল আব্দুল্লাহকে কবিতার ভেতর দিয়ে আমি চিনি। তিনি শুধু নিজের কবিতাই নয়, অনেকক্ষেত্রে নিজেকে সরিয়ে রেখে তার দেশের কবিতাকে উপস্থাপন করতেই ভালবাসেন।” কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “দু’হাজার সালে আমি তার প্রথম বই ‘বেথ অব বেঙ্গল’ প্রকাশ করি। হাসানআল বাংলা কবিতাকে কতোটুকু ভালবাসেন তার অন্যতম নির্দশন ‘কনটেম্বোরারি বাঙালী পোয়েট্রি’।” বারকান পড়েন তার লেখা ‘ঢাকা-কুইন্স’ কবিতাটি। লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ার প্রোফেসর জন ডিগবি সিটি কালচারাল অফেয়ার্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বইটি পাবলিক লাইব্রেরিসহ এদেশে বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে স্থান পাবে।

বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা বাঙলা কবিতার সাধ পেতে এই বইটি হাতে তুলে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।” প্রোফেসর ডিগবি হাসানআল আব্দুল্লাহর সনেট ও ইংরেজী-ইটালিয়ান সনেটর একটি তুলনামূলক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসানআল যেভাবে সনেটকে দেখেন আমরা কেউ সেভাবে দেখতে পারিনি, তিনি সনেটকে ডায়েলেকটিক ফর্মে নিয়ে এসে চোদ্দ লাইনের এই কবিতাকে একটি সেমেট্রি ভেতরে বেধে ফেলেছেন।” জোন ডিগবি সংকলন থেকে হাসানআল আব্দুল্লাহর ‘স্বতন্ত্র সনেট ৭৭’ আবৃত্তি করে শোনান। এর আগে দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় অন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কবি বিল ওয়ালেকের আবৃত্তির ভেতর দিয়ে, তিনি শামসুর রাহমান ও শহীদ কাদরীর কবিতা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “এই সংকলনটি একটি অত্যন্ত সফল অনুবাদ, যা ইংরেজী ভাষি কাব্যমোদিদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলেই আমি মনে করি।” অন্যদিকে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর নিকোলাস বার্ন্স দীর্ঘ সময় ধরে এই সঙ্কলনটি নিয়ে হাসানআল আব্দুল্লাহ সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমা পাঠকদের দুর্ভাগ্য যে এরা শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদের মতো শক্তিশালী কবিকে চিনতে পারেনি।”

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর পরেও বেশ কয়েকজন বাঙলী কবির এই পুরস্কারটি পাওয়া উচিত ছিলো।” এ পর্যায়ে তিনি আবারো জোর দিয়ে উল্লিখিত দুই কবির নাম উচ্চারণ করেন। তিনি হুমায়ুন আজাদ ও রফিক আজাদের কবিতা পড়ে শোনান। তাঁর আলোচনায় আহসান হাবীব, সৈয়দ শামসুল হক ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতাও উঠে আসে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আরো বলেন, “শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে আমি হাসানআলের অনুরোধে একটি প্রবন্ধ লিখছি। তার শততম জন্মদিন উপলক্ষে আমি প্রবন্ধটি খুব আনন্দের সাথে লিখছি, কারণ শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের প্র্রতিষ্ঠাতই নন, তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা ছিলেন।” প্রাবন্ধিক আহমেদ মাযহার এই সঙ্কলনটিকে একটি মালা হিসেবে তুলে ধরে এর বহুল প্রচার কামনা করেন। বেলাল বেগ ও সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ এই বইকে বাংলাদেশের কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থাপন হিসেবে বর্ণনা করে প্রকাশক ও অনুবাদককে ধন্যবাদ জানান। কবি শামস আল মমীন দ্বিভাষিক কবিতা পত্রিকা ‘শব্দগুচ্ছ’ প্রকাশ ও ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি কবিতা’ অনুবাদ ও সম্পাদনার ভেতর দিয়ে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় বাঙলা কবিতার একটি উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করার জন্যে হাসানআল আব্দুল্লাহকে সাধুবাদ জানান।

কবি নাজনীন সীমন সঙ্কলন থেকে কবি আবুল হাসান ও নিজের একটি করে কবিতা পড়ে শোনান। সঙ্কলন থেকে আরো কবিতা পড়েন নতুন প্রজন্মের দুই উজ্জ্বল মুখ মাহিরা রাহিম ও সামন্থা রহমান। কৌতুক পরিবেশন করেন শহীদ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে কবির একমাত্র পুত্র একক সৌবীর বলেন যে তার বাবা নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে কবিতাকে বেছে নিয়েছেন। “তিনি কবিতাকে যাপন করেন,” বলে একক মত দেন। তিনি আরো বলেন, “সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমেরিকার কোনো ক্লাসরুমে প্রোফেসর দেড় ঘণ্টার লেকচার দেবেন বাঙলা কবিতা নিয়ে, আর মুগ্ধ হয়ে শুনবে ছাত্রছাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV