অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ : ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে তখন ১৫ রান দরকার। বাংলাদেশের হাতে ৩ উইকেট। এ সময় পচেফস্ট্রুমে আকাশ মেঘে ঢেকে গেল। শুরু হলো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে ৭ রান প্রয়োজন যুবাদের। বৃষ্টি সমীকরণ কিছুটা সহজ করে দিলেও বিশ্বজয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। আবহাওয়া খেলায় বাদ না সাধলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঠেকিয়ে রাখতে পারত না ভারত। হ্যাঁ। যুবারা দেশবাসীকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে। গতকাল ৩ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্ব জয় করে নিয়েছে। যুবাদের এ জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিনন্দনবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের এমন মনোভাব ধরে রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৯টা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সবাই তাকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়াস পার্কের স্টেডিয়ামে। তীব্র সøায়ুচাপের মধ্যে যাচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় করতে পারবেন তো আকবর আলীরা? বারবার সমর্থকদের মনে এমন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কৌত‚হল স্পন্দিত হৃদয়ে। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান আকবর আলী ও পারভেজ হোসেন ইমনই শেষ ভরসা। যেভাবেই হোক মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে উইকেটে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে হলে শেষ ১৯ ওভারে লাগবে মাত্র ৩৭ রান। এ অবস্থায় কিছুতেই উইকেট দেওয়া যাবে না। কিন্তু উইকেট ধরে রাখতে পারলেন না ইমন। তার ড্রেসিংরুমে ফেরা বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তবে রকিবুলকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্ন জয়ের পথে এগিয়ে যান আকবর। একেই তো বলে অধিনায়ক। কঠিন পরিস্থিতিতে দক্ষ নাবিকের মতো জাহাজকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। দলীয় ৮৫ রানে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। অনেকে ফাইনালে ভারতের কাছে বাংলাদেশের অবধারিত হার দেখছিলেন! তবে ভারতের বিশ্বমানের বোলারদের বিরুদ্ধে লড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন আকবর। অসম্ভব সুন্দর কৌশলী ব্যাটিং উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিলেন এই কাপ্তান। যেকোনো ক্রিকেটে ছোটদের হাত ধরে এই প্রথম বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এ দিনটি ঐতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
জয়ের জন্য রান দরকার ১৭৭। এঙ্কোলেকারে বলে রান নিতে প্রান্ত বদল করলেন আকবর-রকিবুল। তখনই এলো মাহেন্দ্রক্ষণ। আকবর আলীদের বাঁধভাঙা উল্লাস-উচ্ছ¡াসে মহাউৎসবে মঞ্চে পরিণত হলো পচেফস্ট্রুমের মাঠ। এই উৎসবের ঢেউ বইয়ে গেল সারাদেশে। আহা! বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়! কত আনন্দ আকাশে-বাতাসে! মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা যা পারেননিÑ এমন ইতিহাস লিখলেন আকবর আলীরা। বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন নতুন দিগন্তে। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সেরা সাফল্য ছিল তৃতীয় হওয়া। ২০১৬ সালের আসরে মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাটিতে এই কীর্তি গড়েছিলেন যুবারা।
সিনিয়র কিংবা জুনিয়র যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল মানেই বাংলাদেশের নিশ্চিত হার! এই কথা উল্টে দেওয়ার দুঃসাহসিকতা দেখালেন যুবারা। তারা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিলেন ‘আমরাই বিশ্ব সেরা’। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংÑ টুর্নামেন্টজুড়ে তিন বিভাগে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এই দলটির বিশ্বজয়ের পেছনের গল্প হলোÑ গত দুই বছর ধরে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একটি পরিবারের মতো একটি দল হয়ে খেলেছেন যুবারা। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সাফল্য দেখান। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ না হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বোলাররা নিজেদের কাজ ঠিকঠাক মতো করে দেন। ব্যাটিংয়ের সূচনাও দারুণ হয়েছিল। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাঠের বাইরে যান। এর পর শেষে আবার ফিরেছেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। অপরাজিত ৪৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন অধিনায়ক আকবর।
টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেওয়ার কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক আকবর। সেনওয়াস পার্কের ২২ গজের উইকেটে বোলিংয়ে সমর্থকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন যুবারা। ইনিংসের শুরু থেকে অসাধারণ বোলিং, দুর্দান্ত ফিল্ডিং উপহার দেন যুবারা। ভারতের সেরা ব্যাটিং লাইনআপকে মাটিয়ে নামিয়ে দেন বোলাররা। শরিফুল-তানজিমদের আগুনে বোলিংয়ে পথ হারায় ভারত। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ব্যাটিং উপহার দেওয়া শুধু যশস্বী জসওয়ালই (সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেন) পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন। ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতকে চেপে ধরেন বোলাররা। শুরুটা করেছিলেন শরিফুল। এর পর একে একে জ্বলে উঠেন তানজিম, অভিষেক, রকিবুলরা। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মুরাদের পরিবর্তনে বাড়তি পেসার হিসেবে অভিষেককে একাদশে রাখা হয়। আগে টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলেননি। তাকে ফাইনালের মঞ্চেই একাদশে বেছে নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আস্থার প্রতিদান দেন এই ডানহাতি পেসার। ফাইনালে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পান এই ১৮ বছর বয়সী বোলার। এ জন্য ৯ ওভারে ৪০ রান দেন। তবে অভিষেকের চেয়ে শরিফুল-তানজিমদের বোলিং বিশ্লেষণ ছিল চমৎকার। শরিফুল ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। ৮.২ ওভারে ২টি মেডেনসহ ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট পান তানজিম। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলার রকিবুল ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে শিকার করেন এক উইকেট। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচ খেলে এই স্পিনারের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২ উইকেট। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দমিছিল করেন। dainikamadershomoy
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








