Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

আমার প্রিয় ভাই মোবারক হোসেন খান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 125 বার

প্রকাশিত: February 16, 2020 | 12:06 AM

আকবর হায়দার কিরন : মোবারক ভাইয়ের সাথে জীবনের শেষ দেখা হয়েছিলো ম্যানহাটানের এক হোটেলে। অন্তত: দেড় যুগ আগে সরকারি সফরে তিনি এসেছিলেন। তাঁর সাথে শেষ কথা হয় টেলিফোনে বছর দেড়েক আগে। বলেছিলেন, কিরন, আমার একটি চোখে এখন আর কিছুই দেখতে পাইনা। আমি বলেছিলাম, মোবারক ভাই আপনার গলা শুনে কিন্তু মনে হচ্ছে তিন যুগ আগের সেই মানুষটির সাথেই কথা বলছি। অনেক কথা হয় সেদিন, বেতার জীবনের নানান স্মৃতি রোমন্থন।

আমার এই ছোট্ট জীবনের একজন হিরো মোবারক হোসেন খান ভাই। বিশ্ববিদ্যালযের দিনগুলোতে রেডিওতে নানান অনুস্ঠান করে ভালোই কাটতো। সবকিছুর পেছনেই ছিলো তাঁর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরনা। মোবারক ভাইকে স্মরন করলেই আরও দু’টি মুখ পাশাপাশি ভেসে আসে। তাঁরা হলেন গিয়াস কামাল চৌধুরী ও হাবিবুল ইসলাম রতন। তিনজনই ছিলেন ‘কুমিল্লার পোলা’। তাঁদের বন্ধুত্ব যে কি অসাধারন ছিলো। গিয়াস কামাল ভাই মোবারক ভাইকে ওস্তাদজী বলে ডাকতেন। ঐ সময়টায় আমি সত্যি বলতে পড়াশুনোর চেয়ে অনেক বেশী ব্যস্ত থাকতাম রেডিওতে অনুস্ঠান, রেডিও ক্লাব, ফ্যান ক্লাব এবং বিভিন্ন দূতাবাসের পার্টি নিয়ে। ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি কিংবা যে কোন বিদেশী বেতার থেকে দেশী বিদেশী কর্মকর্তারা এলে অন্যতম কাজ ছিলো বহির্বিশ্ব কার্যক্রমে মোবারক ভাইয়ের অফিসে নিয়ে যাওয়া। ইংরেজী ও বাংলা অনুস্ঠানের জন্য সাক্ষাত্কার নেয়া।

পড়াশুনোর পাঠ শেষে ডেইলী নিউজ ও বিবিসির জন্য কাজ করার সময় সমান তালে বেতারে অনুস্ঠান করতাম। বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের ইংরেজী অনুস্ঠান উপস্থাপন , নিউজ কমেন্টরি পড়া ইত্যাদি চলতো সপ্তাহে পাঁচ দিন মধ্যরাতে। প্রসারের আন্দোলনে বিরাট ভুমিকা পালন করেন। সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ,রোকেয়া হায়দার, সৈয়দ জিয়াউর রহমান, ইকবাল বাহার চৌধুরী, মাসুমা খাতুন সহ আরও অনেককে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও অফিসার্স ক্লাবে যে কোন প্রীতি সন্মিলন করতাম তাঁর সরাসরি সহযোগিতায়। ফ্যান ক্লাব এর অনুস্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে তিনি আমাদের সাথে ঢাকার বাইরেও গেছেন বহুবার।

পরবর্তীতে আমাদের বিশেষ অনুরোধে তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব রেডিও ক্লাব্স ( বার্ক) এর সন্মানিত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন বহু বছর।মোবারক ভাইয়ের লেখালেখির ব্যাপারটি আমার কাছে ছিলো চরম বিস্ময়কর। মাঝে মাঝে মনে হতো তিনি হয়তো সারাক্ষণই লেখেন। কারন প্রতি বছরই তাঁর নতুন নতুন বই প্রকাশিত হতো। একবার বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস থেকে বিশ্বের সেরা ছোট গল্পের বইটি পেয়ে কালবিলম্ব না করেই তাঁকে উপহার দিয়েছিলাম। তিনি খুব দ্রুত তার অনুবাদ করেন এবং তা প্রকাশ পায়। একুশে, স্বাধীনতা, বাংলা একাডেমী পদক সহ আরও অগুনতি সম্মাননা এই অসাধারন মানুষটির জীবনে এসেছে। কিন্তু তিনি কিযে নিরহংকার ছিলেন।

আমি যখন মোবারক ভাইয়ের সাথে শাহবাগ, নিউ বেইলী রোড ইত্যাদি বেতার অফিসে অনেক সময় কাটাতাম তখন সময়টা অন্যরকম ছিলো, ঢাকা শহরটা এতো জনাকীর্ন ছিলোনা। আমরা অনেকেই একে অপরকে চিনতাম। বেইলী রোড়ের বানিজ্যিক কার্যক্রম (তখন তিনি ছিলেন সেই বিভাগের প্রধান, এই নামটিও তাঁর দেয়া) থেকে উপস্থাপন করা ‘আমার প্রিয় গান’ অনুস্ঠানটির কথা খুব মনে পড়ে। সমাজের বিশিস্ট মানুষ আসতেন এই অনুস্ঠানে। তাঁদের সাথে বেতার স্টুডিওতে বসে কথা বলা, প্রিয় গান বাজিয়ে শোনানো খুব আনন্দের ছিলো বটে। মোবারক ভাইয়ের কারনে সেখানে আসতেন দেশের নামকরা সব মানুষ। মোবারক ভাইয়ের মেয়ে রিনাত ফওজিয়া রিমি খুব সম্ভবত যখন কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে তখন সেতার বাদন নিয়ে ওর সাথে কথা বলে আনন্দ বিচিত্রায় স্টোরি করেছিলাম। তখন তাঁর দুই ছেলে রুপক ও রাজিত ছিলো অনেক ছোট। বাচ্চাদের নিয়ে লেখা মোবারক হোসেন খান ভাইয়ের শিশুতোষ প্রকাশনা ‘রিমির কথা বলা‘ ও ‘রাজিতের চন্দ্রাভিযান’ তখন ছিলো বইমেলার অন্যতম বেস্টসেলার।

বেতার এবং রেডিও ক্লাব নিয়ে স্বপ্নীল সেই দিনগুলোতে সবকিছুতেই জড়িত থাকতেন আমাদের পরম প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় মোবারক ভাই। ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি, চীন আম্তর্জাতিক বেতার , ডয়েচে ভেলে, আকাশবানী, রেডিও অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি সহ নানান বিদেশী বেতারের জন্য আয়োজিত সকল অনুস্ঠানে মধ্যমনি থাকতেন মোবারক ভাই।

আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ডিএক্স টাইমস, ভিওএ, বিবিসি স্মারক সবকটিতেই তাঁর লেখা , বানী ইত্যাদি স্থান পেয়েছে। একটা সময় আমার আত্মীয় জনাব ম ন মুস্তাফা রেডিও’র মহাপরিচালক ছিলেন। সবকিছুতেই শুধু মোবারক ভাই থাকেন বলে তাঁর সাথে আমার মনোমালিন্যও হয়েছিলো।মানুষ চলে যায় প্রকৃতির নিয়মে কিন্তু থেকে যায় তাঁদের স্মৃতি, তাঁদের সৃস্টি। সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা ( তিনি বহু বছর শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকও ছিলেন) সব ক্ষেত্রেই জনাব মোবারক হোসেন খান যে অবদান রেখে গেছেন তা সত্যিই অসাধারন। দেশ ও জাতি এমন ক্ষনজন্মা মানুষ যুগে যুগে , কালে কালে হাতে গোনা ক’জন পেয়ে থাকে। প্রিয় মোবারক ভাই , আপনি বেঁচে থাকবেন আপনার রেখে যাওয়া সৃস্টির মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV