যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত এভারেস্টজয়ী ওয়াসফিয়া নাজরীনের করোনাজয় এবং ভাইরাসের নিয়মিত প্রতিক্রিয়া অনুভব
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আছেন। ২৩ মার্চ ফেসবুকে লেখা একটি পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। যেখানে তিনি তার আক্রান্ত হওয়ার পূর্বাপর বিষয় উল্লেখ করেছেন। পোস্টটি ইংরেজি থেকে ভাষান্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো :

কোভিড-১৯ রোজনামচা, মার্চ ২২, লস অ্যাঞ্জেলস: যারা এখানে থাকে তারা জানেন যে, গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসে মুদির জিনিসপত্র পাওয়া সত্যিই কঠিন ছিল, বিশেষ করে নিরামিষাশিদের জন্য। সুপারমার্কেটগুলো ছিল জনশূন্য। তাই যখন আমার ক্ষুধা পেতো আমি কার্বোহাইড্রেট খেতাম। আমি এটা জানতাম না যে, ভাইরাসরা কার্বোহাইড্রেটে বেশি চাঙ্গা হয়। (এমনকি চিনি এবং দুগ্ধজাত খাবার যা আমি খাই না)। ফলে, দুর্ঘটনাক্রমে আমার শরীরে ভাইরাসটি বৃদ্ধি পায়, যা আমার ফুসফুসে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার (২১ মার্চ) আমার শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং খুব সকালে (চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে যাওয়ার আগে) অনুভব করছিলাম যেন কেউ একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আমার মুখের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং তা দিয়ে আমার ভেতরের সব বাতাস বা জীবনীশক্তি টেনে বের করে নিচ্ছে। চিকিৎসার মাধ্যমে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে বের হতে গতকাল সকাল থেকে রাত অবধি সময় লেগেছে। আমার দেহে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি ও চিকিৎসকের বিস্ময়কর সেবার কারণে সুস্থ হয়। চিকিৎসকদের মধ্যে, আমি অবশ্যই বলব, ডা. জিনের কথা। (যাকে আমি ‘দ্য ডিজিন’ বলি)। তিনি একজন চৈনিক। যদি তার অন্তর্দৃষ্টি এবং বিস্ময়কর ভেষজ মিশ্রণ না পেতাম, তাহলে সম্ভবত আমি এখন এই অবস্থায় ফিরতে পারতাম না। তিনি নিজ দায়িত্বে আমার চিকিৎসা করছেন। আমি টাকা পরিশোধ করতে পারবো কিনা তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত না। এটা থেকে বোঝা যায়, প্রথম সারিতে থেকে মানুষের জন্য অহর্নিশ কাজ করা মানুষগুলো কতটা দয়ালু ও নিঃস্বার্থ হয়। আমেরিকার মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা এশিয়ান ও অন্যান্যদের প্রতি যাদের বর্ণবিদ্বেষী/বিদেশাঙ্ক তিরস্কার/আক্রমণাত্মক মনোভাব রয়েছে তা যেন দ্রুত শেষ হয় সে প্রার্থনা করি।
আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে শতভাগ অক্ষত ফুসফুস নিয়ে সুস্থ হওয়া। কারণ প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ফুসফুসে ক্ষত নিয়ে অনেকে কভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন। যদি অনুগ্রহ করে আপনার শক্তি আমার ফুসফুস, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হৃদপিণ্ডে (যা এর পুষ্টিগুলোকে যতটুকু সম্ভব পাম্প করতে পারে) পাঠাতে পারেন আমি চিরজীবনের জন্য আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যদি আমি আর কোনো সংক্রমণের শিকার না হই, যদি লড়াই করে ভাইরাসটি ফুসফুস থেকে সরিয়ে দিতে পারি এক সপ্তাহ বা বেশি সময়ের মধ্যে, তারপরও আমার শতভাগ সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লাগবে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমার মনোবলের ওপর।
শেষমেশ দুপুর থেকে আমি স্বাভাবিকভাবে দম নিতে পারছি। কিন্তু এখনো খুব ধীরে ধীরে এবং দুর্বলতার সাথে শ্বাস নিতে হচ্ছে। সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক, মাথা, ঘাড় এবং শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ধারাবাহিকভাবে এবং যখনই এসব কিছুটা শান্ত হয়, তখনই ধুকধুকানি বৃদ্ধি পায়। আমি মানসিকভাবে খুব সচেতন আছি এবং কভিড ভাইরাসের প্রতিক্রিয়া নিয়মিত অনুভব করছি। আমি ওষুধের পাশাপাশি প্রচুর প্রোটিন জাতীয় খাবার খাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার বন্ধুদের যারা বিভিন্ন মিশনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করছেন। (হ্যাঁ সত্যিই এই শহরে দূত আছে, যারা মানুষের জন্য সমবেদনা পোষণ করেন!) হয়তো আপনি জানেন যে, কোনো ধরনের লক্ষণ ছাড়াই আপনার শরীরে (কভিড-১৯) ভাইরাস থাকতে পারে। যারা নিরাপদে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, দয়া করে সজাগ থাকুন, খাবার তালিকা থেকে এমন জিনিস বাদ দিন যা এটাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। সামাজিকভাবে একে অপরের থেকে দূরে থাকার সময় নিজেদের খুশি রাখাটাও জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পানি পান করুন, প্রার্থনা করুন, ধ্যান করুন। আমি আশা করি, আপনারা সবাই ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকছেন, বর্তমান পৃথিবীর নির্দেশনা থেকে দূরে আছেন, ভালো গান শুনছেন, বুক ভরে নির্মল নিঃশ্বাস নেওয়া, বই পড়ছেন এবং যা করলে আপনি আনন্দ পান তাই করুন। দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দুঃশ্চিন্তা দূর করতে সত্যিই সাহায্য করে। প্রাণ খুলে হাসুন, এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ রাখবে! (আমার জন্য আর একটি অতিরিক্ত অনুরোধ, আমার গলার পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের ব্যাথার কারণে অনেকদিন হাসতে পারছি না! আমি জানি আপনারা অনেকে উদ্বিগ্ন। আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান যে আপনাদের প্রকৃত ভালোবাসা পেয়েছি এবং চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার সর্বদা যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই ভাগ্যবান যে দয়ালু ও অমায়িক বন্ধু পেয়েছি। যারা আমার সহযোগিতা করছেন, আমার জন্য মুদিখানায় ছুটছেন, তাজা নিরামিষ জাতীয় খাবার রান্না করে পাঠাচ্ছে, ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস, টাইপিং এবং অন্যান্য কম্পিউটারের কাজও তারা করে দিচ্ছে।
বন্ধুরা পালাক্রমে দিন-রাত ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমার সঙ্গে রয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল নার্সের’ মতো আমার পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে মারা না যাই তা নিশ্চিত করছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা যারা নিজেরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোম কলস এবং সবকিছু প্রতি ঘণ্টায় নজরদারি করছেন। বলা বাহুল্য যে, এই সময়ের কিছু খ্যাতিমান বিচক্ষণ ধ্যানবিদ এবং নিরাময়কারী আমার সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখছেন। তারা আমাকে মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন এবং আমাকে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করছেন। যখন আমি অসহ্যকর ব্যথা, চরম শারীরিক ও মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তারা আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা আমাকে পুর্নগঠনে সহায়তা করছেন। আমি এখন ধুমকেতুর সম অনুভব করছি যার অবস্থা এই আছে এই নাই, আর রোনা (আকা করোনা) যা আমার স্নায়ুতন্ত্র দখল করে নিয়েছে তার সাথে কথা বলছি। আমার বন্ধুরা, শিক্ষকরা এবং চিকিৎসকরা আমার গলা জড়িয়ে আছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ঠাকুরের ‘ধ্বনিল আহ্বান মধুর’ এর তালে তালে বন্দুকের গুলি যখন ধীর লয়ে ফাঁকি দিচ্ছি, তখন কেবল ব্যতিক্রম হচ্ছে আমি চিরমরণশীল। কোনোদিন এ নিয়ে একটা ছবি বানাব অথবা হিপ-হপ একটা গান লিখব!

এখন সময় সব অহংকার ত্যাগ করার, অন্যকে ক্ষমা করা এবং পুরো পৃথিবীতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করা। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। কোনো কিছু সম্মান বা মর্যাদার জন্য করবেন না। যা আমাদের ভোগাচ্ছে, আমরা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি কোনোটাই স্থায়ী নয়।আমি সত্যিই অভিভূত আপনাদের সবার ভালোবাসা, দোয়া এবং সহযোগিতা দেখে। সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। আমি জানি, আপনারা আমার পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। আমি যতটুকু কামনা করি তার চেয়েও বেশি। সত্যিই আমি অনেক কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি কোনো ফোন কলের উত্তর দিতে পারছি না। কারণ আমি এখনো ভালোভাবে কথা বলতে পারছি না। এছাড়া আমার সীমিত শক্তি দিয়ে সবাইকে আলাদা করে লিখতে পারছি না।
আমরা মানসিকভাবে সবাই একসঙ্গেই আছি। আমাকে আপনার ভাবনা এবং প্রার্থনাতে রাখুন। ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি। ঢাকাটাইমস
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং