Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

হার্ভার্ডে পড়া ছেলে ও করোনায় চলে যাওয়া বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ জাফর

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 31 বার

প্রকাশিত: April 19, 2020 | 7:22 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাব-চালক মোহাম্মদ জাফর গত ১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইর্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহী রাজিউন)। ব্রঙ্কসের গান হিল রোডের পাশে ছোট্ট একটি অ্যাপার্টমেন্টে সন্তান মাহতাব সিহাব ও সাবিহাকে নিয়ে বাস করতেন জাফর। ছেলে মাহতাব সিহাব (১৯) পড়াশোনা করছেন বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতি ও ইতিহাস দুই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা তাঁর। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাফর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে থেকে আমেরিকায় আসেন। ২০১৬ সালে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জাফরের স্ত্রী মাহমুদার মৃত্যু হয়। মা হারানো দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান জাফর। এর ঠিক এক বছর পর মাহতাব হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান। ছোট বোন সাবিহা তখনো ট্রিনিটিতে কিন্ডারগার্টেনে। বাবার চাওয়া অনুযায়ী তাঁদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার পথে।

মাহতাব সিহাব বলেন, ‘বাবা সব সময় চেয়েছেন, আমরা যতটুকু সুবিধা পাই তার যেন পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারি। তিনি চেয়েছেন আমরা যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারি।’ শুরুতে ব্রঙ্কসের পিএস ৯৫ এ জাফরের সন্তানেরা পড়াশোনা শুরু করে। পরে তিনি জানতে পারেন নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াশোনার জন্য প্রিপ ফর প্রিপ নামের একটি সংগঠন সহায়তা করে। অবশেষে সন্তানের জন্য ওই সংগঠনের সহায়তা নেন জাফর। মাহতাব সিহাব সেভেন গ্রেডে ভর্তি হলেন ট্রিনিটি স্কুলে।

গত মার্চ মাসের শুরুতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবরে হার্ভার্ডে ছুটি ঘোষণা করা হয়। মাহতাব সিহাব বাড়ি ফিরে আসেন। এর মধ্যেই তাঁর বাবা জাফর সেলফ কোয়ারেন্টিনে চলে যান। একদিন শুধু অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইরে বেরিয়েছিলেন নিজের ইয়েলো ক্যাব চালানোর চাকরিটা আছে নাকি নেই, তা জানতে। এর কয়েক দিন পরই তাঁর হালকা জ্বর আসে। এর মধ্যেই শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। সন্তানেরা তাঁকে নগরীর মন্টেফিয়োর মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে এক সপ্তাহ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তাঁর অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্তানদের কাছে জাফরের মৃত্যুসংবাদ আসে। সন্তানদের ছেড়ে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে তাঁকে চলে যেতে হলো।

এবারে মা-বাবাহারা সন্তানেরা কী করবেন? কীভাবে চলবেন? কে দেবেন তাঁদের শিক্ষার ব্যয়? সংসারের ব্যয়? এই চিন্তায় পেয়ে বসে মাহতাব ও সাবিহার। বন্ধুরা জেনে যান খবর। এই পরিস্থিতিতেও এগিয়ে আসে অনেকেই। ছোটবেলার বন্ধু উইল ক্র্যামার তাঁদের জন্য তহবিল সংগ্রহে গোফান্ডমি ক্যাম্পেইন চালু করেন। ছোট ও বড় সব অঙ্কের সাহায্য আসা শুরু করে।

এ বিষয়ে মাহতাব সিহাব বলেন, নিজ দেশসহ প্রায় সব কমিউনিটির মানুষ সাহায্য করছেন। বিশেষ করে এগিয়ে এসেছেন প্রিপ ফর প্রিপ, ট্রনিটি স্কুল ও হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সত্যিই ভেবেছেন যে, আমরা চরম অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে পড়ে গেছি। ইতিমধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তহবিল সংগ্রহ হয়েছে। করোনার এই সময়ও দূরে থেকে মানুষ মানুষের কত কাছে আসতে পারে, এটাই তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV