Saturday, 25 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ভালবাসে জার্মানীতে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 183 বার

প্রকাশিত: August 10, 2020 | 7:19 PM

নাজমুন নেসা পিয়ারি : গ্রীষ্মের মন মাতানো আবহাওয়ায় এদেশে  কেউ ঘরে বসে থাকতে চায় না। করোনা গোটা বিশ্বের জীবন যাত্রাকে লন্ড ভন্ড করে দেওয়ার পরও জীবন থেমে থাকেনি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরে চলা ফেরা, রেস্তরায় খেতে যাওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান পালন শুরু করেছে। বার্লিনে বসবাসরত বাংলাদেশীরা কোরবানী ঈদের নামাজ ও ঈদের অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

এবার আমি একুশে পদক পাওয়ার পর জার্মানি, ভিয়েনা, প্যারিস বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে বলেছিলেন ফিরে এলে আমাকে সম্বর্ধনা দেবেন। আমি যখন ২০শে মার্চ বার্লিন ফিরি —- তখন করোনা সংক্রমন এমন অবস্থায় যে এসব কিছু তো ভাবাই যায় না। সব ভুলেই বসেছিলাম। কদিন আগে শাম্মি (শাম্মি হক) আমাকে মোসেনজারে বার্লিনে তরুণ বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত ঈদ পার্টির নিমন্ত্রণ লিপি পাঠায়। সামান  (সামান রহমান) ও রাসেল-এর সাক্ষর করা এই চিঠিতে অপূর্ব বিশ্বাসের আধুনিক ও রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং পিলুর বাউল গান ও সেই সাথে শাম্মির পরিচালনায় কিছু খেলা ধূলারও উল্লেখ ছিল। সুমনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল — বলেছিল “আপনাকে সামান খুঁজছে। ঈদ পার্টিতে অবশ্যই আসবেন।” রবীন্দ্রনাথ রলেছেন “ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ —- ওরে আমার কাঁচা আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা”। করোনা আক্রান্ত মলিন সময়ে এমন তরতাজা এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষন পরেই দেখি শাম্মি একটি ফুলের তোড়া হাতে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে ঘড়োয়া ভাবে বাংলায় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করে। কিছু বিদেশী অতিথি থাকাত কেয়া তা ইংরেজীতে অনুবাদ করে। যাকে জার্মানে বলে উবারাশুং, ইংরেজীতে সারপ্রাইজ। আগের মুহুর্ত অবধি ভাবতেই পারা যায়নি এই ঈদ পার্টিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আমার একুশে পদক প্রাপ্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানানোর  জন্য। শাম্মি আর সামান যখন আমার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছিল তখন মনে হয়েছিল তরুণরাই হয়তোবা জানে তাদের এই সময়কে কেমন করে ব্যাবহার করতে হয়।অনেকদিন যাদের সঙ্গে দেখা হয়নি তেমন কয়েকজনের দেখা পেলাম। ভাল লেগেছিল ভাবতে এরা আমাকে ভালবেসেই এসেছিল। তাই অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম  —- বিকেল গড়িয়ে গড়িয়ে রাত ঘন হয়ে উঠলো। তারুন্যের জোয়াড়ে ভাসলাম। মনে পড়ে সাবেক জার্মান প্রেসিডন্ট ক্রিসটিয়ান ভুলফ (Christian Wulf) যখন বাংলাদেশ ও ইনদোনেশিয়ায় রাষ্টীয় সফরে গিয়েছিলেন (২৮শে নভেম্বর ২০১১ থেকে ২রা ডিসেম্বর ২০১১) তখন আমিও সাংবাদিক হিসেবে সফর সঙ্গী হয়েছিলাম। আমাদের দলে ছিলেন সেৎ ডে এফ (ZDF), আ আর ডে (ARD), ডেয়ার শপিগেল (Der Spiegel) সহ আরো কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। প্রেসিডন্ট ভুলফ-এর নানা কর্মসূচীর ভেতর ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনও ছিল। শেষ কর্মসূচি ছিল ফিরে আসার আগে ঢাকা ওয়েসটিন হোটেলে ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীর আমন্ত্রণ ও নৈশাহার। সেখানে ভুলফ তাঁর ভাষনে বলেন “আমরা চাই জার্মানিতে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আসুক” — রসিকতা করে আরো বললেন — “জার্মান ভাষাটা এমন কিছু কঠিন নয় —- আমিও শিখেছি”। সেই থেকে গত নয় বছরে বাংলাদেশের বহু ছাত্র ছাত্রী জার্মানীতে এসে এখানকার বিভিন্ন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে।

জার্মানদের কাছ থেকে এদেশে আসা বাংলাদেশীদের প্রশংসাই শুনতে পাই, যেমন — “তাঁদের ব্যাবহার ভালো, হাসিমুখ কথা বলে —- কোন খারাপ কাজে তাঁরা জড়িত নয়” ইত্যাদি।
৮ই আগস্ট — শনিবার দুপুর থেকে দীর্ঘ সুন্দর সময়কে ধরে রেখেছিল তরুণরা। বিদেশে কঠিন সময়ের ভেতর এনে দিয়েছিল নির্মল দখিন হাওয়া। মূল উদ্যোক্তা সামান ও শাম্মি —- সামান  ক্যানসার বিষয়ে এখানে গবেষনা কাজ করছে। শাম্মি জার্মানিতে এসে সময় নষ্ট করেনি — অল্প দিনের ভেতরই নিজেকে এগিয়ে নিয়েছে —- বার্লিনে বিল্ড সাইটুং-এ সাংবাদিকতার কাজ করছে। এটি জার্মানির একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকা। সাবেক জার্মান চ্যানসেলার শ্রোডার (সামাজিক গনতন্ত্রী দল) পার্লামেনটে এক সংবাদ সম্মেলনে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন “অমি সকালে উঠে দুটা সংবাদ পত্র পড়ি —- ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগমাইনে সাইটুং আর বিলড্ সাইটুং।” ঈদ পার্টিতে বিজ্ঞান থেকে আই টি, চলচ্চিত্র সব বিষয়ে পাঠরত, কমর্রত তরুণরা উপস্থিত ছিলেন। শারিকা (আর্কিটোকট) মাটির ঘর বিষয়ে পি এইচ ডি-র থিসিস জমা দিয়েছে, মিনহাজ চলচ্চিত্রের বিষয়ে পড়ালেখা করছে,ইতিমধ্যে ছবিও তৈরি করেছে । যারা এসেছিলেন প্রত্যেকেই ব্যাসত লেখাপডায় বা কোন না কোন পেশায়। ভাল লেগেছিল বাংলায় শাম্মির উপস্থাপনা আমার উদ্দেশ্য বকতব্য —- এই বাংলাকে বুকে নিয়েই তে আমরা ছড়িয়ে আছি সারা বিশ্বে। ইংরেজীতে কেয়া তা অনুবাদ করে। সেখানে কিছু জার্মান ও বিদেশী —-যেমন ক্যানাডার এক তরুনীও ছিলেন তাই জার্মান ভাষার বদলে ইংরেজীতেই কাজটি সম্পন্ন করা হয়। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন দেবাশীষ তেওয়ারি, কেয়া। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অপূর্ব বিশ্বাস ও তানিয়া। অপূর্ব’র  গান আমার ভাল লাগে —- অনুভব করে গান গায় —- অহংকারহীন সহজ স্বাভাবিক ব্যাবহার। লন্ডনে “শ্রোতা রুপংকর” নামে এক আন্তর্জাতিক প্রতিয়োগীতার আহবায়ক হিসেবে আমি জার্মানির ভার নিয়েছিলাম। আমার মাধ্যমে অপূর্ব অংশ নিয়েছিল এবং জয়ী হয়েছিল।

বহু বছর আগে এদেশে কলোনে যখন চাকুরী নিয়ে আসি তখন মাঝে মাঝে বার্লিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়ে আসতাম। সে সময় থেকেই অর্থাৎ দীর্ঘ দিনের পরিচয় বাবুল, সানু, মিলনের সঙ্গে। এবার ঢাকা থেকে ফেরার পর এই প্রথম তাঁদের সঙ্গ পেলাম। রাসেল দেশে অধ্যাপনা করতেন এখন বার্লিনবাসী, সস্ত্রীক নতুন জীবনে ব্যাসত — আসাদ বার্লিনে দীর্ঘদিন বসবাসের পর দেশে ফিরে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রোজেকটে কাজ করছেন —- বার্লিনে এসেছেন —- তিনিও এসেছিলেন সেদিন। অনেকের সঙ্গেই আনন্দঘন সময় কাটলো।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল সামান যে বাড়ীতে থাকে তার নীচে রেঁস্তোরায়। এটি খাঁটি জার্মান খাবারের রেঁস্তোরা — নাম “আলট্ বের্লিনার রেস্টোরানট” —- সপ্তাহানতে খোলা থাকে না। বাড়ির জার্মান মালিক ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ভালবাসে। তাই সামানকে ভালবেসেই ছুটির দিনে সূযোগ দিয়েছিল এই আয়োজনের। রেঁস্তোরার পেছনে রান্নাঘরের বাইরে কোরবানীর গরুর মাংস গ্রিল করা হয়েছিল। নানান ধরনের গ্রীল করা মাংস সালাদ, রুটি —- সুস্বাদু ভোজনের সূযোগ ঘটেছিল সবার।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV