নিউইয়র্কের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলার প্রয়োজীয়তা এবং কোভিড-১৯ এ শিক্ষার প্রগতি
ড. দিলারা বেগম : নিউইয়র্কে সার্বজনীণ শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কল্পে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় তিন বছর এবং চার বছর বয়সী শিশুদের জন্য নিউইয়র্কের ৫টি বোরোতেই প্রতিটি এলাকায় সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা সহ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে অবতৈনকি বহু প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জ্যাকলিন নেবার (২০১৯) এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৮-২০১৯ সালে ৬৭ হাজারেরও বেশী চার বছর বয়সী শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী কক্ষে অংশ গ্রহণ করেছিল বা ভর্তি হয়েছিল। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিৎ করনের লক্ষ্যে তিন ও চার বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অংশ গ্রহণের বিষয়টি সারা বছরব্যাাপী ভর্তি প্রক্রিয়া। একটি শিশুর তিন বছর বা চার বছর বয়স যেদিন হবে সেদিনই সে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং শিশুর স্বাভাবিক ক্রম বা সার্বিক বিকাশের দিক গুলি পুংখানু পুংখ ভাবে পর্যবেক্ষন ও মূল্যায়ন করে শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা অনুযায়ী শিশুর শ্রেণী কক্ষ নির্ধারন করা হবে। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুরা খেলার ছলে বয়সোপযোগী নুতন নুতন দক্ষতা অর্জন করবে।
এসব শিশুদের মধ্যে কিছু কিছু শিশু বয়সানুযায়ী স্বাভাবিক বর্ধনের ৫টি দক্ষতার ক্ষেত্রে যেমন: বুদ্ধি-মত্তাগত ভাষাগত, সামাজিক আচর-আচরনগত, সুহ্ম্ ও স্থূল মাংসপেশী সঞ্চালনগত, ও দৈনন্দন-নিত্য প্রয়োজনীয় নিজের কাজ-কর্ম সম্পদনে বিলম্ব বা পিছিয়ে পরে থাকা সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে আসে এবং সতন্ত্র শিক্ষাক্রমের আ্ওতায় শিক্ষক ও (Paraprofessional) শিক্ষক সহকারীর সহচর্যে বিলম্বত বা পিছিয়ে পরে থাকা দক্ষতা গুলির উন্ন্য়ণ ঘটিয়ে পাঁচ বছর বয়সে স্বাভাবিক কিন্ডারগার্টেন শ্রেণী কক্ষে অংশ গ্রহণ করে অথবা দক্ষতা গুলির উন্ন্য়ণ ঘটাতে সক্ষম না হলে (Special education classroom) বিশেষ শিক্ষার শেণী কক্ষ, (Inclusion) অন্তর্ভূক্তি বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের শ্রেণী কক্ষে অংশ গ্রহন করে থাকে।
দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতে আমেরিকায় শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপটেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে। সেই মোতাবেক এবছরে বেশকিছু সংখ্যক শিশু স্বাভাবিক এবং বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের আ্ওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন শ্রেণীতে অংশ গ্রহণ করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু এবার ২০১৯-২০২০ সালের শিক্ষাবর্ষের মাচর্ মাস থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত কোভিড-১৯ সংক্রমনের কারনে আমেরিকার জনজীবনে চরম দুঃসময় ও দূর্দশা নেমে আসায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূর শিক্ষন শিক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষাদান করা হয়। এ বছরের শিক্ষাবর্ষের শুরু এবং বিদ্যালয় খোলা নিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের গবেষনা,্ও পরিকল্পনা।
আগষ্টের ১৪ তারিখ (12 Months Program) ১২ মাস ব্যাপী বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রীষ্মের ছুটির শেষ দিনেও বেশীরভাগ বেসরকারী প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি, বিদ্যালয় খোলা এবং কোভিড-১৯ এ সতর্কতার পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সঠিক কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি এবং বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে শিক্ষক ও অভিবাবকগনকে সঠিক কোন তথ্য জানাতে পারেনি।
বিলম্বত বা পিছিয়ে পরে থাকা শিশুদের আচার -আচরনের তীব্রতার লক্ষন ভেদে প্রাক-প্রাথমিক (বয়স ৩-৪) এবং কিন্ডারগার্টেনের (বয়স-৫) শিশুদের শ্রেণী বিন্যাস (Special education classroom) বিশেষ শ্রেনী কক্ষ, (Inclusion) অন্তর্ভূক্তি বা সমন্বিত শিক্ষা শ্রেনী কক্ষে বভিন্ন্ ভাবে ভাগ করে করা হয়ে থাকে।
যেমন: (Inclusion) অন্তর্ভূক্তি বা সমন্বিত শিক্ষা শ্রেনী কক্ষে কোন কোন ক্ষেত্রে ১২ জন শিশু যারা স্বাভাবিক দক্ষতায় বিলম্বিত বা পিছিয়ে আছে এবং ১২ জন শিশু যারা স্বাভাবিক বুদ্ধি ও দক্ষতা সম্পন্ন্ একই শ্রেণী কক্ষে অংশ গ্রহণ করে। এ শ্রেনী কক্ষে একজন স্বাভাবিক শিক্ষায়ও একজন বিশেষ শিক্ষায় সার্টিফাইড দুইজন শিক্ষক ও একজন স্বাভাবিক শিক্ষায়ও একজন বিশেষ শিক্ষায় সার্টিফাইড দুই জন শিক্ষক সহকারী (Paraprofessional) সমন্বিত ভাবে কাজ করেন।
কোন কোন শ্রেনী কক্ষে কেবলমাত্র ১২ জন বিলম্বত বা পিছিয়ে পরা শিশু অংশ গ্রহণ করেও একজন বিশেষ শিক্ষায় সার্টিফাইড শিক্ষক ও দুই জন শিক্ষক সহকারি কাজ করেন।
এছাড়্ওা কোন কোন শ্রেনী কক্ষে ১২ জন বা ৬ জন বিলম্বত বা পিছিয়ে পরা শিশুদের মধ্যে কোন কোন শিশুর জন্য আলাদা ভাবে বিশেষ শিক্ষায় সার্টিফাইড একজন শিক্ষক সহকারীকে (Paraprofessional) শুধু একজন শিশুর সাথে কাজ করার জন্য নিয়োগ করা হয়।
এমন কি কোন কোন শ্রেনী কক্ষে ছয়টি বিলম্বত বা পিছিয়ে পরা শিশুর মধ্যে তিনটি শিশুর জন্যই তিনজন বিশেষ শিক্ষায় সার্টিফাইড শিক্ষক সহকারী তিনজন শিশুর সাথে আলাদা ভাব কাজ করার জন্য নিয়োগ করা হয়। এছড়াও্ এই শিশুদের সাথে (Speech Pathologist) ভাষা শিক্ষক, অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট, ফিজিক্যাল থেরাপিষ্ট, স্কুল সাইকোলজিস্ট, ও সোসাল ওয়ার্কার কাজ করেন।
ডে-কয়ারে দুই বছর বয়সী শিশুরা মাস্ক ব্যাবহার করতে পারবেনা। প্রাক-প্রাথমিক (বয়স ৩-৪) এবং কিন্ডারগার্টেনে (বয়স-৫) বছরের নুতন কোমলমতি শিক্ষাথীরা তাদের জীবনের প্রথম শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করবে মুখবন্ধনী বা মাস্ক পরে। এই শিশুরা নুতন শিক্ষক ও নুতন শিশু বন্ধুদের সাথে মেলা-মেশা করতে সময় নেবে এবং অনেক কান্না-কাট্ওি করবে এটাই স্বভাবিক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ সমস্যাগুলির পুরোপুরি সমাধান কল্পে যে ধরনের উন্নয়ন মূলক গবেষনার প্রয়োজন ছিল, সে অনুপাতে ফলপ্রসু উন্নয়ন মূলক গবেষনার করা হয়নি বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড, কিছু কিছু অভিভাবক ও সরকারী তরফ থেকে বিদ্যালয় খোলার জন্য এক ধনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজেই বাবা-মা ও শিক্ষকগন প্রাক-প্রাথমিক এবং কিন্ডারগার্টেনে বিদ্যালয় খোলার বিষয়টি নিয়ে অনিঃশ্চয়তার দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগছেন।
গর্ভবতী এবং বয়স্ ও অন্য শারিরীক ঝুঁকির সভ^বনা আছে এ ধরনের শিক্ষকদের জন্য সরাসরি বিদ্যালয়ে যাবার বিষয়টি শিথিল করার সুযোগ থাকল্ওে হয়তো বা অনেক অভিববকদের কাজের ক্ষেত্রে এ সুযোগটি ন্ওা থাকতে পারে। অনেক পরিবারে দুটি বা তিনটি পিছিয়ে পরা বা প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। এদের প্রত্যেকের সাথেই শিক্ষকও অন্যন্য থেরাপিষ্টগন দূরশিক্ষন শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন এবং দূর শিক্ষন প্রক্রিয়া যতদিন চালু থাকবে এই শিক্ষকগন এভাবেই প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর শিশুদের সাথে কাজ করবেন। এটি একটি তিন/চার বছরের শিশুর জন্য খেলার ছলে পাঠ উপভোগ কারার বিষয় তো নয়ই উপরন্তু শিশু নানান ধরনের নুতন নুতন অস্বাভাবিক আচরনে অভ্যস্ত হতে পারে। যে বিষয়টি যে কোন অভিভাবকের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সে কারনেই দূরশিক্ষন শিক্ষা প্রকিয়া হয়তোবা কোন কোন অভিবাবকদের জন্য অসুবিধাজনক হতে পারে এ বিষয়ট্ওি বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ শিক্ষার শিক্ষাথীর্ওা এই দূরশিক্ষন শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কতটা উপকৃত বা দূর্বল দিকগুলির উন্ন্য়ন করছে বা তাদের উন্ন্য়ন কতটা ব্যাহত হচ্ছে সে বিষয়ট্ওি প্রত্ওি শিক্ষাবিদদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ শিক্ষার অনেক শিক্ষক মনে করছেন তারা যথার্থ প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার ছলে পাঠদান করতে সক্ষম হচ্ছেন না এবং এই ক্ষুদ্র শিক্ষাথীদের মানসিক, শারিরিক, আচার-আচরন, ও বুদ্ধি-মত্তার সুস্থ্য উন্নয়নের বিষয়টি নিয়্ও তারা চিন্তিÍত। কোভিড-১৯ এর কবল থেকে মুক্ত থাকার সতর্কতায় সুপরিকল্পত, সুষ্ঠ ও সুস্থ্য মানসিকতা গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে কোন কোন অভিভাবক ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বহু অভিভাবক এতটা আগ্রহ প্রকাশে উৎসাহ বোধ করেন নি।
কোভিড-১৯ দূর হোক। নিষ্পাপ শিশুদের জীবন সুস্থ্যতায় ও উৎফুললতায় ভরে উঠুক। হাসি-আনন্দে শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করুক এটিই সকলের আশা ও প্রার্থনা।
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency