কবি শহীদ কাদরীর জন্মদিনে
শওকত আহসান ফারুক : লেখালিখির সুবাদে তারেকের সাথে পিয়ারির পরিচয়। পিয়ারি তখন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের রসায়নের লেকচারার। দু’জনে বেশ ভাব একসাথে ঘুরফেরা করে। সৈয়দ আহমাদ তারেক একটা গল্প লিখেছে সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় ‘সেফটিপিন’ বেশ রগরগে গল্প, নায়িকার নাম পিয়ারি বেগম। এটা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে, কে এই পিয়ারি বেগম। সময়টা সম্ভবত ১৯৭৪ সাল।

বেলী রোডে নাটক দেখবে সাথে পিয়ারী, সেখানে দেখা নির্মলেন্দু গুণের সাথে, তারেকের সাথে পিয়ারীকে দেখে গুণ’দা বললেন৷, ‘নাটকের নামটা বেশ ‘এই নিষিদ্ধ পল্লীতে। তারেক, এখানেও পাঁচ টাকা, ওখানে ও পাঁচ টাকা চলো আজ নাটকই দেখি’।
একটু আড়ালে ডাক দিয়ে গুণ’দা তারেককে বল্লো ‘মেয়েটাকে চেন কিভাবে, ওতো শহীদ কাদরীর বৌ ‘নাজমুন নেসা পিয়ারি’। তারেক এই বিষয়ে মোটেই আবগত ছিল না। এদিকে শহীদ কাদরী খুঁজছে সেফটিপিন এর গল্পকার সৈয়দ আহমাদ তারেককে। পিয়ারিকে নিয়ে গল্প লিখেছে তাকে পেতেই হবে।
একদিন সন্ধ্যায় আমি ও তারেক ফুলবাড়িয়া ‘হাক্কার’ পানশালায়, গিয়ে দেখি সেখানে শহীদ কাদরী, সাথে শিহাব সরকার, মুস্তফা মহিউদ্দিন, আবিদ আজাদ, বিপ্লব দাশ আরো কেউ কেউ ছিল নাম মনে নেই। আমরা সাবধানে ছিলাম, তারেকে যেন চিনতে না পারে। শেষ রক্ষা হলো না, কে যেন তারেকের নাম ধরে ডেকে ফেললো। কাদরী ভাই সহসা সচকিত। জড়ানো গলায় সাউট করে বলল,
‘ইয়ু তারেক, তুমি লিখেছো ‘সেফটিপিন’ পিয়ারিকে নিয়ে’।

বাতচিত সপ্তমে উঠে গেছে, তারেকও ভীষণ বদমেজাজি, লিখেছি তো কি হয়েছে, রাগে একটা গ্লাশ ভেঙে ফেলল, সবকিছু চড়ে গেলো, কেউ কারো কথা শুনছে না, সব হচপচ। কোনমতে সামাল দিয়ে, তারেককে নিয়ে চলে এলাম ফজলুল হলে ১৪৬ নাম্বার রুমে।
কবি যখন ব্যবসায়ী
বছর দুয়েক পরে, তিন কবি ব্যবসা করবে। আবিদ আজাদ সুমন, মাহাবুব হাসান ও শহীদ কাদরী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ত্রিকাল’। আবিদের ছাপাখানার ব্যবসা, শেখ সাহেব বাজারে অফিস। কাদরী ভাই একটা অর্ডার এনেছে। নিজে ৮ হাজার টাকা পুজিও বিনিয়োগ করলেন কাজের জন্য। বেশ অনেক দিন কেটে গেছে, কাজের খবর নেই, টাকার খবর নেই। আবিদ দেখাশুনো করতো সেই ব্যবসা, মনে হয় প্রিন্টিং সাপ্লাইয়ের কাজ ছিল। আমাদের সাথে কাদরী ভাইয়ের ভাল সম্পর্ক। আবিদ ও হাফিজ আমাদের ভাল বন্ধু একসাথে চলাফেরা করি। রেখায়নে আড্ডা মারি।
একদিন কাদরী ভাই মিজানকে বল্লো, মিজান, আবিদ কি টাকাটা হাতিয়ে নিলো। কাজটা ভালো করেনি, টাকাটা কিভাবে উদ্ধার করা যায় বলো তো। কাদরী ভাই, ডোন্ট ওরি। শেখ সাহেব বাজারে প্রেস কাজ হয়ে যাবে। শেখ সাহেব বাজার, লালবাগ, আজিমপুরে সেই সময় আমাদের যোগাযোগ তুঙ্গে ছিল।
একদিন কাদরী ভাই সহ চলে যাই ‘ত্রিকাল’ অফিসে, সাথে কমান্ডার নুরু ভাই। অফিসে আবিদ একাই ছিল। কাদরী ভাই বললেন, আবিদ আমার ৮ হাজার টাকার কি হলো, টাকাটা ফেরৎ দাও, কবি সুলভ আচরণ। আবিদ লা জবাব, অফিসে কতোগুলো শীশার টাইপ ছাড়া আর কিছুই নেই। কমান্ডার নুরু ভাই আমাদের বিশেষ বন্ধু, শেখ সাহেব বাজার বাসা। আবিদ টাকা ফেরৎ দিতে অপারগ, কি করা যায় একটা সমাধানে আসতে হবে তো। টাকাও দিবে না, সাপ্লাইও নেই।
নুরু ভাই একজনকে ডাক দিয়ে, কম্পোজের টাইপগুলো মাত্র ৮ শত টাকায় বিক্রয় করে দিয়ে টাকাটা কাদরী ভাইকে বুঝিয়ে দিলেন। টাকা পেয়ে কাদরী ভাই ভীষণ খুশী, ২ শত টাকা মিজানের হাতে দিয়ে বললেন, অনেক পেয়েছি মুলধনের ১০%। ত্রিকালে অকাল লেগে গেলো।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests