Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
সব ক্যাটাগরি

উচ্চশিক্ষাই যথেষ্ট নয়, চাই আত্মবিশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 152 বার

প্রকাশিত: February 8, 2012 | 8:12 AM

উপমা মাহবুব : চারপাশে তাকিয়ে আজকাল একটি কথা খুব মনে হয়। নারীদের অনুন্নতির অন্যতম একটি কারণ আত্মবিশ্বাসের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পড়ালেখার অংশ হিসেবে একটি গবেষণায় অংশ নিয়েছিলাম, যার প্রতিপাদ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা নিজেদের জীবনযাপন-বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিজেরা কতটুকু নিতে পারেন তা খতিয়ে দেখা। দেখা গেল, মেয়েরা অধিকাংশই নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বন্ধুবান্ধব এসব বিষয়ে খুবই স্বাধীন। সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বন্ধুর বাসায় যাওয়া, উচ্চশিক্ষার বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন—এসব বিষয়েও স্বাধীনতা ভোগকারী মেয়ের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ মেয়েই (প্রেম আছে এবং প্রেম নেই দুই ধরনেরই) মা-বাবার পছন্দে বিয়ে করবেন বলে মত দিলেন। যে নারীর কোনো প্রেমিক নেই তিনি তাঁর পরিবারের ওপর পাত্র নির্বাচনে নির্ভরশীল হতে পারেন হয়তো বা, কিন্তু কাউকে ভালোবাসব অথচ তাঁকে শুধু তখনই বিয়ে করব, যদি পরিবার রাজি হয়—এ ধারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অর্থাৎ আমরা উচ্চশিক্ষিত নারীরা ছোটখাটো অনেক বিষয়েই আত্মসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের অধিকাংশেরই আত্মবিশ্বাস কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
আমার মতে এর পেছনে মূল কারণ হলো, নিজেই অনেক কিছু করতে পারি—এই বিশ্বাসের অভাব। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী কেন বিশ্বাস করেন না যে পড়ালেখা করে এমনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব যে পরিবারে স্বামীর পাশাপাশি আমারও অনেক বড় অবদান থাকবে। কেন আমার পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের অর্থবিত্ত ও তাঁর চাকরি বড় বিবেচ্য হবে? একজন উচ্চশিক্ষিত নারী যে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, তাতে দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব সুন্দরভাবেই একটি পরিবার চলতে পারে।
আমার যদি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসই না থাকে, তাহলে এত পড়ালেখা করে কী লাভ! আমি কখনোই এককভাবে শুধু স্বামী বা তাঁর পরিবারের দোষ দিই না। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী, যিনি রাস্তায় বেরোতে ভয় পান, ইলেকট্রিক বিল দিতে কিংবা বাসে করে একা ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে না পারেন না, তাঁকে তো সারা জীবন তাঁর স্বামী আর ছেলের ওপর নির্ভর করে থাকতেই হবে। তাই শুধু সমাজব্যবস্থাকে দোষ দিলেই হবে না, নিজেরও চেষ্টা থাকতে হবে, সাহস সঞ্চয় করতে হবে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। একজন নারী আত্মবিশ্বাসী এবং যোগ্য হলে তিনি কর্মক্ষেত্র কিংবা পরিবার—সবখানেই সমাদৃত হন, সম্মান লাভ করেন। অধিকার অর্জন করে নিতে হয়। আমার কোনো চেষ্টা নেই, সাহস নেই, আমি পরিবারের কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারি না, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি লাগে, রিকশায় কোথাও যেতে হলে বাবা বা ভাইকে সঙ্গে যেতে হয়—এ রকম উচ্চশিক্ষিত কিন্তু নির্ভরশীল নারীর সংখ্যা মোটেও কম নয়। একজন নারী কেন নিজের অর্থে ফ্ল্যাট-জমি কেনার, নতুন মডেলের গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখেন না? কেন সব সময় স্বামীকেই গাড়ি-বাড়ি নামক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হয়? আমাদের স্বপ্নের পরিধি খুব ছোট বলেই আমরা সামান্য চাকরি করে অথবা কোনো চাকরি না করেই সন্তুষ্ট থাকি। অথচ আমাদের চারপাশেই অনেক নারী তাঁদের যোগ্যতা দিয়ে পুরুষ সহকর্মীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি পাচ্ছেন। সবার সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে বহুবিধ পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। তাঁদের সংখ্যা এখনো খুব কম, অথচ উচ্চশিক্ষা লাভ করছেন বা করেছেন, এমন নারীর সংখ্যা কিন্তু অনেক।
আমাদের চারপাশ মোটেই নারীবান্ধব নয়, এটি সত্যি। কিন্তু আমরা উচ্চশিক্ষিত নারীরাও যদি ঘরের মধ্যে বসে থেকে শুধু সমান অধিকারের জন্য হাহাকার করি, তাতে কোনো লাভই হবে না। অধিকার পেতে হলে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। বেগম রোকেয়া বহু বছর আগেই বলে গেছেন যে একটা গাড়ির সামনের চাকা (পুরুষ) আর পেছনের চাকা (নারী) উভয়ই সমান না হলে গাড়িটা চলবে না। আমরা এত পড়ালেখা করেও যদি পেছনের ছোট চাকাই রয়ে যাই, তাহলে সমৃদ্ধি নামের গাড়িটা সব সময় থেমেই থাকবে, চলার গতি পাবে না।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV