Sunday, 8 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

অবশেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হচ্ছে রোববার : নির্বাচন স্থগিতাদেশ চেয়ে দুদিনে পাঁচ মামলা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 185 বার

প্রকাশিত: September 17, 2022 | 11:57 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : অবশেষে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত নির্বাচন হচ্ছে রোববার। অপসারিত হলো আশা-নিরাশার এ নির্বাচনের বাধা। মামলার কারণে গত ৪ বছর যাবৎ ঝুলে ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। ২৭ হাজার ৫০০ ভোটারের এই নির্বাচন ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এম আজিজ এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, গত দুদিনে পাঁচটি মামলা হয়েছিল নির্বাচন স্থগিতাদেশ চেয়ে। আমরা সার্বক্ষণিক আদালত চত্বরে অ্যাটর্নিসহ উপস্থিত থাকায় সবকটি মামলা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আদালতের নির্দেশেই বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও ১৯ অক্টোবর আদালতের স্থগিতাদেশ এসেছিল। এর তিন বছর পর আদালতের ঝামেলা মোটামুটি দূরে ঠেলে পুনরায় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে তারিখ ছিল গত বছরের ১৪ নভেম্বর। সেই নির্বাচনের বিরুদ্ধেও মামলা হয় এবং স্থগিতাদেশ এসেছিল ১২ নভেম্বর। তৃতীয় দফার তারিখ হচ্ছে ১৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ভোটারের কেউই নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড অব ট্রাস্টির পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান এম আজিজ। সে অনুযায়ী শেষ মুহূর্তের মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় ঠেকানোর অভিপ্রায়ে একজন অভিজ্ঞ অ্যাটর্নি নিয়োগ করেন এবং সেই অ্যাটর্নিসহ বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আদালত চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন।
সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আরো জানান, নীরা নিরু এবং ওসমান চৌধুরী নামে দুই প্রবাসী মোট পাঁচটি মামলা করেছিলেন এই দুদিনে। তাৎক্ষণিক শুনানিতে আমরা আদালতকে কনভিন্স করতে সক্ষম হয়েছি যে, ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে ২৮ হাজার ভোটারের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না।
এই নির্বাচনে নয়ন-আলী এবং রব-রুহুল প্যানেল মাঠে রয়েছে গত চার বছর থেকেই। তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে এম আজিজ উল্লেখ করেছেন, দু’দফা নির্বাচন স্থগিত হওয়া এবং মামলা পরিচালনায় মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলারের মতো গচ্চা গেছে। এর বাইরে দু’প্যানেলেরও হাফ মিলিয়ন ডলারের মতো ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা  জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মামলাজনিত পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় কী করেছেন, তা অবহিত করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার। সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হাজি মফিজুল ইসলাম, ওয়াসি চৌধুরী, শরাফ সরকার, আজিমুর রহমান বোরহান, সোসাইটির সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী।

আব্দুর রহিম হাওলাদার জানিয়েছেন, আমরা ওসমান চৌধুরীকে ১০ সেপ্টেম্বর সোসাইটির অফিসে এসে কথা বলার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ, তাই আসতে পারবেন না। তবে তিনি ভার্চুয়ালি বৈঠক করতে চান কিন্তু আমরা এতে সম্মত হইনি। আমরা তাকে চিঠি দিয়ে বলেছি, আপনি সুস্থ হয়ে আমাদের জানাবেন, আমরা দ্রুতই আপনার সঙ্গে বৈঠকে বসব। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রমাণ চেয়েছি। তিনি প্রমাণ দিতে পারলে সেটা বিবেচনা করা হবে। সরাসরি না বসলে আলোচনা হবে না। নথিপত্র না দিলে এর বিকল্প হবে না। তিনি না আসায় ১০ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয়নি। আমরা আশা করছি, নির্বাচনের আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং আমাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করবেন।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি জানিয়েছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। সব ধরনের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে নির্বাচন করছি। রবিবার ভোট অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা থাকলো না। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে সোসাইটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছে। সবাই মিলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে আমরা আশবাদী।

এদিন নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। মোট ২৭ হাজার ৫০০ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে প্রধান ভোটকেন্দ্র কুইন্সের গুলশান টেরেস। বাকি চারটি ভোটকেন্দ্র হচ্ছে জ্যামাইকার ইকরা সেন্টার, ব্রুকলিনের পিএস-১৭৯ স্কুল, ওজোন পার্কের দেশি সেন্টার এবং ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে। এই নির্বাচন সফলভাবে হলে এবং নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হলে আবার সচল হবে বাংলাদেশ সোসাইটি। কমিউনিটির জন্য আবার বৃহৎ পরিসরে কাজ শুরু করবে নতুন কমিটি।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়বে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, বারবার ভোট পিছিয়ে যাওয়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কমেছে। অনেক ভোটার করোনার কারণে নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে গেছেন অন্য এলাকায়। কোনো কোনো ভোটার স্টেটও ছেড়ে চলে গেছেন। অ্যাডভাকেট জামাল আহমেদ জনি ছাড়াও কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ এ হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কাওসারুজ্জামান কয়েস, মো. রুহুল আমিন সরকার ও খোকন মোশাররফ।
২০২৩-২৪ মেয়াদের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্যানেল দুটি হচ্ছে রব-রুহুল ও নয়ন-আলী পরিষদ। দুটি প্যানেল ও সভাপতি পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদে ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে রব-রুহুল প্যানেল থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রব মিয়া সভাপতি এবং সোসাইটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী পুনরায় একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া নয়ন-আলী প্যানেল থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন সভাপতি পদে ও সোসাইটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন। এদিকে রব-রুহুল প্যানেল থেকে ১৯টি পদে ১৯ জন প্রার্থী থাকলেও নয়ন-আলী প্যানেলের প্রার্থী ১৭ জন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন এই প্যানেলের দুজন কার্যকরী সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করে। ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে মনোনয়নপত্র পূরণ নিয়ে নয়ন-আলী প্যানেলের দুজন সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিলের পর সৃষ্টি হয় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। মামলা হয়। মামলা এবং করোনার কারণে এত দিন এই নির্বাচন স্থগিত ছিল। বর্তমানে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন হতে যাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি আরো মামলার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারছেন না কেউ।
এই নির্বাচনে যারা অংশ নিচ্ছেন, এর মধ্যে রব-রুহুল প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন সভাপতি আবদুর রব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মো. নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. শাহনাজ লিপি, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. টিপু খান, সাহিত্য সম্পাদক ফয়সাল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং কার্যকরী সদস্য মো. সাদী মিন্টু, ফারহানা চৌধুরী, শাহ মিজানুর রহমান, সিরাজদৌল্লাহ হক বাশার, মো. আখতার বাবুল ও সুশান্ত দত্ত।
আর নয়ন-আলী প্যানেলের প্রার্থীরা হচ্ছেন সভাপতি কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ সভাপতি মো. রেজাউল করিম সগীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জে খান ডিউক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক শেখ হায়দার আলী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. এইচ রশীদ রানা, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মো. সামাদ মিয়া জাকের এবং কার্যকরী সদস্য ছাইদুর খান ডিউক, মো. মাহমুদ আলম, মো. এ সিদ্দিকী ও আহসান উল্লাহ মামুন।
প্রতি দুই বছর পর বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হয়। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালে। পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালে। ওই বছর মামলার কারণে ও পরে করোনা মহামারির কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এর প্রায় তিন বছর পর ১৪ নভেম্বর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওই সময়েও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচন হয়নি। এখন প্রায় চার বছর পর ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবার ২০১৮ সালের নির্বাচনের তালিকা দিয়েই ভোট হচ্ছে। মামলার কারণে সোসাইটির আর্থিক লোকসান যেমন হয়েছে, তেমনি ইমেজ সংকটও দেখা দিয়েছে।

Situs Streaming JAV