আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে-খালেদা জিয়া
|
ঢাকা: বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে জোর করে এক কাপড়ে বের করে দেয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তাতে আমি লজ্জিত ও অপমানিত।
এই বাড়ির সঙ্গে আমার অনেক দুঃখ-বেদনার স্মৃতি রয়ে গেছে। ৪০ বছরের সেই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। জোর করে উচ্ছেদের মাধ্যমে আমাকে বের করে দিয়ে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়া হলো। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে আমাকে দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তারা আমার বাসার গেট এবং বেড রুমের দরজা ভেঙে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা আমার বাড়ির গেটের গ্রিল কেটে, তালা ভেঙে প্রবেশ করে। বেডরুমের দরজা ভেঙে লাঠিসোটা নিয়ে কক্ষে ঢুকেছে। বাড়ির মালামালের আইনগত কোন তালিকা না করে গলা ধাক্কা দিয়ে আমাকে গাড়িতে তুলে দেয়া হলো। অথচ তারা মিথ্যাচার করে বলছে আমি নাকি স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। বেগম জিয়া বলেন, আমি বাসা থেকে বের হতে চাইনি। আমাকে কোলে তুলে বের করে আনার চেষ্টা চালানো হয়। তারা বলেছে, উনি যদি না আসতে চায়- কোলে করে তুলে নিয়ে আসো। শেষ পর্যন্ত সব মালামাল রেখে ৪০ বছরের দুঃখ-বেদনা-সুখ স্মৃতির আবাসস্থল ত্যাগ করতে হয়েছে। আমার মালামালের আইনগত তালিকাও করা হয়নি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বেআইনি নোটিশে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে আমি আদালতের আশ্রয় নিই। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নজিরবিহীনভাবে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো। আমাকে বলপূর্বক অপমানজনকভাবে উচ্ছেদ করা হলো। তারা আমার পরিবারের সদস্যদের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেনি।
কাজের লোকসহ স্টাফদের সপরিবারে আগেই ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমাকে সারাদিন যে অবস্থায় রাখা হয়েছে তা বলতে পারছি না। সারাদিন কিছু খেতে পারিনি। খালেদা জিয়া বলেন, এমন সরকার এ কাজটি করলো যে সরকার সারাক্ষণ নীতি-নৈতিকতার কথা বলে। তিনি বলেন, মইনুল রোডের বাড়ি নিয়ে সরকার অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সরকারের বাড়ির ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্তটি ছিল বেআইনি। কার কাছে আমি এই নির্যাতনের বিচার চাইব। এ বিচারের ভার আমি আল্লাহ ও জনগণের কাছে জানাচ্ছি। বেগম খালেদা জিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি নিজে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন, স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের স্ত্রী। আমার সঙ্গেই যদি এরূপ আচরণ করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি আচরণ করা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি বলেন, আমার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী নির্যাতিত ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এ সময় উপস্থিত স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অন্য নেতারাও কান্না ধরে রাখতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম. শামসুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সরোয়ারী রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, ড. ওসমান ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান উপস্থিত ছিলেন। |
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








