
উপমহাদেশের তিন দেশ- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এখন নারী স্পিকার। গতকাল মঙ্গলবার ড. শিরিন শারমিন বাংলাদেশের স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের স্পিকার ডা. ফাহমিদা মির্জা এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার। অর্থাৎ এখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত- এ তিন রাষ্ট্রেরই সংসদের অভিভাবক হচ্ছেন তিনজন নারী। ডা. ফাহমিদা মির্জা পাকিস্তানের সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ। তিনি কোনো মুসলিম দেশের প্রথম নারী স্পিকার। এর আগে তিনি ১৯৯৭, ২০০২ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি ৭০ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ডা. ফাহমিদার জন্ম ১৯৫৬ সালের ২০ ডিসেম্বর। তিনি সিন্ধুর লিয়াকত মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। তার বাবা কাজী আবদুল মজিদ সিন্ধু প্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন। তার চাচা কাজী মো. আকবরও মন্ত্রী ছিলেন। ভারতের দলিত সম্প্রদায়ের মীরা কুমার সর্বসম্মতিক্রমে লোকসভার স্পিকার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। কারণ তিনি ভারতের সংসদে প্রথম নারী স্পিকার। ৬৬ বছর বয়সি কংগ্রেস নেত্রী মীরা একসময়ে ভারতের পররাষ্ট্র বিভাগে কাজ করতেন। সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিহারের সাসারাম আসন থেকে বিজয়ী হন। তিনি প্রয়াত নেতা জগজীবন রামের কন্যা। বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৬ সালে ৬ অক্টোবর ঢাকায়। তার বাবা রফিকউল¬øাহ চৌধুরী ছিলেন স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব। তার মা প্রফেসর নাইয়ার সুলতানা বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য ছিলেন। তার নানা সিকান্দার আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি। ১৯৮৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ড থেকে মানবিক বিভাগে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৫ সালে একই বোর্ড থেকে মানবিক বিভাগে সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯০ সালে এলএলএম ডিগ্রি নেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। ২০০০ সালে এসেক্স ইউনিভার্সিটি ‘রাইট টু লাইফ’ অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি পিএইচডি লাভ করেন। শিরীন শারমিন ১৯৯২ সালে বার কাউন্সিল আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৪ সালে হাইকোর্ট বিভাগ ও ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন যেসব আইনজীবী, তিনি তাদের অন্যতম। শিরীন শারমিন ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিগ্যাল ডিভিশনের এডিটর ছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিলিয়া) নির্বাহী কমিটি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এলে শিরীন শারমিনকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করা হয় এবং এরপরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তার সময়েই নারী উন্নয়ন নীতিমালা পাস হয়েছে। শিরীন শারমিনের স্বামী ওষুধ শিল্পের পরামর্শক সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। তাদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে।ইনকিলাব