Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 134 বার

প্রকাশিত: July 19, 2022 | 6:53 AM

এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন, ওয়াশিংটন, ডিসি : বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর ধাক্কা যখন বাংলাদেশসহ প্রায় প্রতিটি দেশ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিলো তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি সারা বিশ্বকেই গভীর এক সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই না অনেক উন্নত দেশেও এর আঁচ লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট বাংলাদেশকেও বিপদে ফেলে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির অনন্য মাইল ফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে দেশে শিল্পায়ন অতীতের সকল সময়কে ছাড়িয়ে গেছে।
জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিবেন। সেই রূপকল্প সরকার বাস্তবায়ন করেছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোন বিকল্প নাই। সরকার সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই কিছুটা ছন্দপতন সব জায়গাতেই।
বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনৈতিভাবে সমৃদ্ধ অনেক উন্নত দেশও তাদের জনগণকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছেনা। অনেক দেশকেই এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।
কারণ সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও সরকারকে অনেক পরিমাণ গ্যাস দিতে হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে সরকার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিল দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকার এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছে। কিন্তু খনিগুলোর রির্জাভ কমে যাওয়ার কারণে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে।
এলএনজি আমদানির জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশ এলএনজি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করতো সরকার। কোভিড-১৯ এর আগে সরকার এক ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ৪১ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। এত উচ্চমূল্যে আমদানি করলে দেশের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছিল; সেটা এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে আরো গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ৩ বছরের একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে করে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
গত ১৩ বছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যাপক বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ফলে দেশের জনগণ লোডশেডিং কি তা ভুলতেই বসেছিল। কিন্তু করোনা পরবর্তি বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং তার উপর দিয়ে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যে কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেশি থাকার পরও, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জনগণ আবার অনাকাঙ্খিত লোডশেডিং-এর মধ্যে পড়েছে।
সরকার আশা করে এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবেনা । এবছরের মধ্যেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
দেশবাসীর সবার নিশ্চয়ই মনে আছে বিএনপি ও কেয়ারটেকার সরকারের শাসনামলে (2001-2008) দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল এবং দিনে ১৬-১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। সেই কঠিন সময়ে জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।
শত প্রতিকূলতা সত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জনগনের মঙ্গলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক সংকট, মহামারি, মন্দা সত্ত্বেও এই সরকার কখনো তার মূল আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আশা করে এই সংকটকালীন সময়েও জনগণ আগের মতোই সরকারের প্রতি বিশ্বাস অব্যাহত রাখবে।
সরকার আশা করে সবাই মিলেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে সবার কাছে সরকারের একটাই অনুরোধ, “আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই।”
এক নজরে ১৩ বছরে জ্বালানি খাতে সরকারের উন্নয়ন
# মোট নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ : ১২৫
# বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি (মেঃওঃ) : ২০,৬২৪ (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)
# সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃ ওঃ) 14,782 (16 এপ্রিল, 2022)
# মোট নতুন সঞ্চালন লাইন (সা.কি.মি.): ৫,৫৪৪
# গ্রিড সাব-ষ্টেশন ক্ষমতা বৃদ্ধি (এমভিএ) : ৩৯,৯১৭
# বিদ্যুৎ আমদানি (মেঃ ওঃ) : ১,১৬০
# নতুন বিদ্যুতায়িত বিতরণ লাইন (কি.মি.) : ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার
# বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত নতুন জনগোষ্ঠী : ৫৩% (অর্থাৎ ১০০% জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত)
# মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি (কি.ও.ঘণ্টা) : ৩৪০
(ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ – ২০২০ – ২০২১ অর্থবছর)
# নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহক : ৩ কোটি ২১ লক্ষ
# নতুন সেচ সংযোগ : ২ লক্ষ ১২ হাজার
# সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বরাদ্দ (কোটি টাকায়) : ২৫,০৮৪ (২০২১-২০২২ অর্থবছর)
# বিতরণ সিষ্টেম লস কমেছে : ৫.৮৫%

-এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন
মিনিস্টার (প্রেস)
বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি

Situs Streaming JAV