ফোবানার বাংলাদেশে কোন সোল এজেন্ট নেই
বছর ঘুরে আবারো এলো সেই ফোবানা সম্মেলনের সময়। প্রতি বৎসরের মতো এবারও সম্মেলনের আগে আগে ফোবানাকে ঘিরে শুরু হয়েছে অপপ্রচার। এই ধরনের অপপ্রচার করে কিছু ব্যক্তি যে কি সুখ পান তা বোধগম্য নয়। মজার ব্যাপার হলো এরা কেউই ফোবানার সাথে জড়িত নন অথচ ফোবানার প্রতি তাদের দরদ দেখলে কুমিরের চোখেও পানি চলে আসবে! এরা ফোবানার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা তো দূরের কথা একটু সময় নিয়ে ফোবানার ওয়েবসাইটটাও পড়ে দেখেছেন কিনা সন্দেহ। এর কারণ হলো কিছু ব্যক্তি যেন ইচ্ছা করেই না বোঝার ভান করেন যে ফোবানা শুধু সম্মেলন নয়, ফোবানা একটি প্রতিষ্ঠানের নাম।
এটা জেনে রাখা ভালো যে ফোবানা ওয়াশিংটন ডিসিতে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নন-প্রফিট কর্পোরেশন যেটা ফোবানা ট্রেডমার্কের একমাত্র সত্ত্বাধিকারী, যেটা প্রতি বৎসর নিয়মিত ভাবে ট্যাক্স দেয়, বাৎসরিক সাধারন সভার মাধ্যমে কর্মকরতাদের নির্বাচিত করে এবং সারা বছর ধরে এর সদস্য সংগঠনদের জন্য সেবামূলক কাজ করে। প্রচণ্ড জনপ্রিয়তার কারনে এই সংগঠনের বাৎসরিক সম্মেলনের নামও ফোবানা। তাই ফোবানা মানে শুধু সম্মেলন নয়, সংগঠনও বটে।
প্রতি বছর ফোবানা তাদের একটি সদস্য সংগঠনকে সম্মেলন করার দায়িত্ব প্রদান করে। এদের বলা হয়ে থাকে হোস্ট অর্গানাইজেশন। সম্মেলন সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেন। এবং যেহেতু তাদের বিশাল একটি অংকের অর্থ জোগান করতে হয় তাই প্রতি বছর তারা বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। এর ভেতর একটি হচ্ছে স্টল ভাড়া দেয়া। এছাড়া সুভেনীর ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ধাপের স্পনসর, টিকিট বিক্রি, খাবার দাবার বিক্রি তো আছেই। যারা কখনো সম্মেলন করেছেন তারা জানেন যে অর্থ সংগ্রহ করা কতটুকু কষ্টসাধ্য।
সম্প্রতি ফোবানা সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় লেখা লিখি হচ্ছে যে বাংলাদেশে এক ব্যক্তি দাবী করছেন যে তিনি ফোবানা সম্মেলনে স্টল ভাড়া দেবার সোল এজেন্ট, তার কাছ থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলারে নিতে হবে স্টল এবং কয়েকজন দাবী করছেন যে শুধুমাত্র তারাই ফোবানার স্টল ভাড়া দিতে পারবে। এটা একটা ডাহা মিথ্যা শুধু নয় রীতিমতো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। মূল ব্যাপারটি হলো, ফোবানা ২০১৪ সম্মেলন কমিটি বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে অনুরোধ করেছেন স্টল ভাড়ার ব্যাপারে তাদের সাহায্য করতে। এদের কারো সাথেই ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির কোন সংস্রব নেই। এমনকি ফোবানা ২০১৪ সম্মেলন কমিটি সাথেও টাকা পয়সা নিয়ে এদের কোন লিখিত চুক্তি নেই। এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিযোগিতার কারণে অতি উতসাহী হয়ে বলছেন যে তারাই একমাত্র ফোবানার স্টল ভাড়া দিতে পারেন।
প্রথমত যে কোন ব্যক্তি ফোবানার স্টল ভাড়া নিতে পারেন, ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন এবং স্পনসর হতে পারেন। এজন্য তাকে কোন এজেন্টের মাধ্যমে যেতে হবে না। ফোবানার ওয়েবসাইটে গেলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। এবারের স্টল ভাড়া হচ্ছে স্টান্ডার্ড স্টল ১০০০ ডলার এবং প্রিমিয়াম স্টল ১৫০০ ডলার। এই ভাড়া শুধু স্টলের জন্য এবং এতে হোটেল, রেজিস্ট্রেশন, খাওয়া, এয়ারপোর্ট থেকে আনা নেওয়া ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত নয়। এবার আসা যাক কেন বাংলাদেশের কয়েক ব্যক্তি ১০০০ ডলারের স্টল ১৫০০ ডলার এবং ১৫০০ ডলারের স্টল ২০০০ ডলারে ভাড়া দেবার কথা বলছেন। আপনারা জানেন “কনভেনিয়েন্ট ফি” বলে একটা কথা আছে। যার বাংলা হতে পারে “অনায়াস মূল্য”। আপনি যদি “আয়াস” বা কষ্ট করতে না চান তাহলে আপনাকে অল্প কিছু হলেও দিতে হবে “অনায়াস মূল্য”।
যেমন ধরুন আপনি আপনার বাড়ীর কাছের দোকান থেকে কিছু কিনতে চান (কনভেনিয়েন্ট স্টোর হিসেবে যা পরিচিত)। সেখানে আপনাকে অবশ্যই একটু বাড়তি মূল্য দিতে হবে কারণ আপনাকে কষ্ট করে দূরে কোথাও গিয়ে জিনিসটা কিনে আনতে হচ্ছে না। এজন্য কি আপনি ঐ কনভেনিয়েন্ট স্টোরের মালিককে প্রতারক বলে গালি দেবেন? আপনার যদি তার দাম পছন্দ না হয় তাহলে অবশ্যই আপনি চলে যেতে পারেন যেখানে দাম কম। আবার ধরুন প্রতি বৎসর ট্যাক্স দেবার সময় আপনি ইচ্ছা করলে পোস্ট অফিস বা লাইব্রেরী থেকে ফর্ম এনে নিজে পূরন করে ট্যাক্স দিতে পারেন অথবা এইচ এন্ড আর ব্লকের মত কাউকে বা কোন সিপিএ-কে দিয়ে ঐ কাজটুকু করাতে পারেন। তবে অবশ্যই এজন্য আপনাকে কম বেশী কিছু “কনভেনিয়েন্ট ফি” বা “সার্ভিস ফি” দিতে হবে। এই ফি নেবার জন্য কি আপনি আপনার সিপিএকে বা এইচ এন্ড আর ব্লককে প্রতারক বলবেন?
ঠিক তেমনি বাংলাদেশে বহু ব্যবসায়ী আছেন (বিশেষ করে শাড়ী, গয়না, সালোয়ার, কামিজ যারা বিক্রী করেন) যারা আমেরিকাতে তাদের ব্যবসা বাড়াতে চান কিন্তু তারা কখনও আমেরিকা তো দূরের কথা বিদেশেই আসেননি, অথবা কোন সম্মেলন বা মেলায় অংশগ্রহণ করেননি। এই মানুষগুলোকে বিভিন্ন রকম সেবা (যেমন ভিসার ফর্ম পূরন করা, টিকিট কেনা, কিভাবে এবং কতটুকু লাগেজ নেয়া যাবে তা ঠিক করে দেয়া, হোটেল রিজার্ভ করে দেয়া, হালাল খাওয়া পছন্দ করে দেয়া, হোটেলের ধারে কাছে কোন মসজিদ আছে কিনা বা সেখানে কিভাবে যাওয়া যাবে তা ঠিক করে দেয়া, দেশে কিভাবে ফোন করা যাবে তা শিখিয়ে দেয়া, এয়ারপোর্ট থেকে আনা নেওয়া করা, কাস্টমস থেকে লাগেজ ছাড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি) দেবার জন্য কেউ যদি “সার্ভিস ফি” আদায় করতে চায় তাহলে কি তাদের প্রতারক বলাটা সমীচীন হবে? ফোবানা সম্মেলন কর্তৃপক্ষের পক্ষে সবাইকে এই সব সেবা দেয়া সম্ভব নয়। বরঞ্চ যদি দিতেই হয় তাহলে তার মূল্য হবে নিদেন পক্ষে আরো ২০০০ ডলার! তাই বাংলাদেশ থেকে আগত ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলে নিজে নিজে সব কিছু করতে পারেন অথবা কারো সাহায্য নিতে পারেন কিছু বাড়তি মূল্য দিয়ে। তবে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ঐ সব এজেন্ট যদি সঠিকভাবে সেবা দিতে না পারে তাহলে অবশ্যই সেজন্য ফোবানা দায়ী থাকবে না। এটা একাবারেই ভুল যে সবাইকে এজেন্টের মাধ্যমেই যেতে হবে। এই বিজ্ঞপ্তির শেষে কিছু লিঙ্ক দেয়া আছে যেখানে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
লক্ষ্য করলে আরো দেখা যাবে যে ফোবানা সম্মেলন যে শহরে হয় প্রতি বছর সেখান কার কিছু ব্যক্তির হটাৎ করেই ফোবানা করার খায়েশ জন্মায়। এরা কিছুতেই মানতে নারাজ যে ফোবানা সম্মেলন পেতে হলে তাদের ফোবানা সংগঠনের একজন সদস্য হতে হবে এবং নির্বাচন করে জিততে হবে। এখনও বহু সংগঠন আছে যারা গত চার পাঁচ বছর ধরে সম্মেলন পেতে চাচ্ছেন কিন্তু পাচ্ছেন না। ফোবানা সম্মেলন পাওয়াটা এতো সহজ নয়। এসবই ঘটে ফোবানার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার জন্য। ফোবানা কারো ব্যক্তিগত, বাড়োয়ারী বা সামাজিক সম্পত্তি নয়। ফোবানা উত্তর অ্যামেরিকার সবার প্রানের সংগঠন। এই সংঘটনের পেছনে সহস্র মানুষের শ্রম এবং ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। এটাই একমাত্র সংগঠন যারা গত ২৮ বৎসর ধরে নিয়মিত সম্মেলন করে আসছে। ফোবানার সুনাম মানে সব প্রবাসীদের সুনাম, সমভাবে ফোবানার দুর্নাম মানে আমাদের সবার দুর্নাম। কোন কারণ ছাড়া শুধু শুধু ফোবানার দুর্নাম করে বা ফোবানার দোষ ত্রুটি বের করে কি লাভ? ফোবানার কি কোন দোষ নেই? অবশ্যই আছে কারণ ফোবানা পরিচালিত করছি আমরাই – যারা বছরের পর বছর ঘরের খেয়ে বনে মোষ তাড়ানোর মত ভলান্টিয়ার এবং দিন রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি এই সংগঠনটাকে আরো ভালো করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য। আমরা নিজেরা যেমন দোষত্রুটি মুক্ত নই, ফোবানাও তেমনি দোষত্রুটি মুক্ত নয়। তবে এটাই স্বাভাবিক কারণ এটি একটি প্রক্রিয়া মাত্র। ধীরে ধীরে ফোবানার পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া কখনোই থেমে থাকার নয়।
যদি কারো ফোবানার জন্য এতটুকু দরদ থাকে তাহলে আমরা তাদের সাদরে আমন্ত্রন জানাই। আসুন ফোবানার সদস্য হোন, এই সংগঠন সম্পর্কে জানুন, বুঝুন এবং তার পর আপনার সুচিন্তিত এবং গঠনমূলক মতামত দিন। ফোবানা একটি সদস্য ভিত্তিক সংগঠন আর তাই ফোবানার জবাবদিহি তার সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফোবানার বাইরে থেকে কিছু না বুঝে অর্বাচীনের মতো হম্বি তম্বি করে নিজের দৈন্যটা কেউ যদি প্রকাশ করতে চান তাহলে তা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।
ফোবানা সম্পর্কে জানতে দেখুনঃ সরাসরি ফোবানা ২০১৪ সম্মেলনের স্টল ভাড়া করতে দেখুনঃ ফোবানা সম্পর্কে যে কোন তথ্য জানার জন্য ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ও মুখপাত্র আজাদুল হকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








