
একদিকে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার আর অন্যদিকে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি পণ্যের আবিষ্কার নিঃসন্দেহে মানুষের ক্রমবর্ধমান বুদ্ধিমত্তারই স্বাক্ষর বহন করে। তবে উদ্ভাবন আর উদ্ভাবিত পণ্যের বাস্তবিক ব্যবহারের ক্রমাগত উত্কর্ষের এই বিপরীতে মানুষের গড়পরতা বুদ্ধিমত্তা কী আদৌ বাড়ছে? এমনই এক প্রশ্নকে সামনে রেখে পরিচালিত এক জরিপের ফল বিশ্লেষণ করতে যেয়ে এবার কিন্তু রীতিমতো বড় একটা ধাক্কাই খেতে হয়েছে ইউরোপের একদল গবেষককে। তারা জানিয়েছেন, গেল এক শতকে মানুষের বুদ্ধিমত্তা তো বাড়েইনি, বরং তুলনামূলক বিচারে তা কমে গেছে ১৪.১ পয়েন্টের মতো। মানুষের ভিজ্যুয়াল রিঅ্যাকশন মতো বুদ্ধিমত্তা নির্ণায়ক উচ্চ-মাত্রার পরীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় প্রাপ্ত ফলাফলসমূহ বিশ্লেষণ করে একাধিক গবেষকের এই দল দেখেছেন যে, প্রচলিত বিশ্বাসের মতোই ভিক্টোরিয়ান যুগের (১৮৩৭ থেকে ১৯০১) মানুষদের বুদ্ধিমত্তা এখনকার মানুষের চাইতে অনেক বেশি ছিল। গেল বৃহস্পতিবার আলোচিত এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় বিশ্বখ্যাত জার্নাল অব ইন্টেলিজেন্সের অনলাইন ভার্সনে। আর এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন ভ্রিজ ইউনিভার্সিটি ইন ব্রাসেলস-এর মাইকেল এ উডলি, ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডামের জ্যান টে নিজেনহুইস ও ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক ইন আয়ারল্যান্ডের রিগ্যান মার্ফি। বুদ্ধিমত্তায় এ ধরনের ভয়াবহ পতনের কারণ হিসেবে একাধিক কারণকেই চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হলো জনসংখ্যার বৃদ্ধি। তারা বলেছেন, ইতোপূর্বের গবেষণা থেকেই এটি প্রমাণিত যে যেসব নারী বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে তাদের সন্তান-সন্ততির সংখ্যা সাধারণত গড়ে কম। এ ছাড়া ভিক্টোরিয়ান যুগের অর্থনৈতিক দক্ষতার কারণে মাথাপিছু উদ্ভাবনের সংখ্যা এবং বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের সংখ্যার আধিক্যও এ যুগের মানুষের চাইতে এক শতক আগের মানুষকে বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে রেখেছিল বলে মনে করেন এই গবেষকরা।ইত্তেফাক