
একটু বয়স হয়ে যাওয়ার পরও যারা কম্পিউটার গেম নিয়ে পড়ে থাকেন তাদের এ ধরনের কাজকে প্রায়ই ছেলেমানুষী বা শিশুতোষ কাজ বলে ঠাট্টা করা হয়। তবে ঠাট্টাচ্ছলে বলা এই কথাটা যে মোটেও মিথ্যা কিছু নয় সেটিই নতুন করে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের একদল গবেষক। তাদের দাবি কম্পিউটার গেমের দুনিয়াতে এমন কিছু সাধারণ অথচ কার্যকর গেম রয়েছে যেগুলো সত্যিকার অর্থেই কমিয়ে দিতে পারে মানুষের মনের বয়স। সেই সাথে মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং একটু বয়সীদের স্মৃতিশক্তিকে অটুট রাখতেও দারুণ ভূমিকা রাখে এই গেমগুলো। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের গবেষকরা তাদের গবেষণার জন্য রোড ট্যুর নামের যে গেমটি বেছে নিয়েছিলেন সেখানে গেমারদের সাধারণত একটি যানবাহন ও কিছু ট্রাফিক চিহ্ন মনে রাখতে হয় এবং পরে অন্য অনেক কিছুর ভিড় থেকে একই ধরনের যানবাহন বা চিহ্ন খুঁজে বের করতে হয়। এভাবে গেমটি যত এগুতে থাকে যানবাহনগুলো ততো বেশি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যের হয়, অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি হাতড়ে সঠিক বাহনটি খুঁজে বের করার জন্যও কম সময় দেওয়া হয়। গবেষকরা বলছেন, এভাবে রোড ট্যুর স্মৃতিশক্তি যাচাইয়ের মতো গেম যারা খেলেন তাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের মাঝ থেকে কাজের তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। তবে তার চাইতেও বড় কথা হলো পঞ্চাশের বেশি বয়সী যারা দশ ঘণ্টার মতো রোড ট্যুর গেমটি খেলেছেন এক বছর পর তাদের মন বয়সের সাথে সাথে ধীর না হয়ে বরং আরও তীক্ষ হয়েছে। এছাড়া এ সময় এই গেমারদের গড়পরতা বয়স তিন বছরের মতো কম এবং গতি ও মনোযোগের একটি পরীক্ষায় তাদের বয়স সাত বছরের মতো কমে গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। এদিকে এ প্রসঙ্গে রোড ট্যুরের সাথে কোনো ধরনের আর্থিক সম্পর্ক না থাকা অধ্যাপক ফ্রেড উলিনস্কি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে এ ধরনের গেম স্মৃতিবিভ্রাট রোধ করে এবং কোনো কিছু মনে করার গতি বাড়িয়ে দেয়। কাজেই কোনো একটি গেম যদি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হয়, তাহলে কেন আমরা সেটি খেলতে বলবো না!’ ইত্তেফাক