Sunday, 8 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই কখনোই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না: ওবামা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 193 বার

প্রকাশিত: November 11, 2010 | 12:49 AM

 বাংলাপ্রেস,নিউইয়র্ক : প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই কখনোই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না।ইন্দোনেশিয়াকে ‘নিজেরই একটি অংশ’ অভিহিত করে পশ্চিমাদের আল-কায়েদা ও সন্ত্রাসবিরোধী  লড়াইয়ে মুসলিম বিশ্বকে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এক ভাষণে ওবামা স্বীকার করেন, তাঁর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। তিনি ‘সন্দেহ আর অবিশ্বাসকে’ এক পাশে ঠেলে সন্ত্রাসের মতো অভিন্ন উদ্বেগ একযোগে মোকাবিলার আহ্বান জানান।

 

 

 

  জাকার্তার ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ায় গতকাল বুধবার প্রায় ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে ওবামা ভাষণ দেন। কায়রোতে ১৭ মাস আগে মুসলমানদের সঙ্গে ‘নতুন অধ্যায় শুরুর’ আহ্বান জানিয়ে তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন, তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় গতকালকের বক্তব্যেও।ওবামা ইন্দোনেশিয়াকে গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে গড়া উন্নয়নশীল দেশের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। সন্ত্রাসীদের মূল উৎপাটন এবং চরম পন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জাকার্তার প্রশংসা করেন তিনি। ওবামা বলেন, ‘মুক্তি ছাড়া অগ্রগতি দারিদ্র্যেরই আরেকটি রূপ।’ভাষণে ওবামা বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই কখনোই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না।’ তাঁর মতে, বিশ্বাস ও শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা আশা জাগিয়েছে তবে এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, দুই পক্ষ হয় ‘মতপার্থক্যগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারি’, অথবা �কঠোর পরিশ্রম করে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে নিয়ে স্থিতিশীল অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারি�।মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার শুরুটা সঠিক ছিল না। তবে ন্যায়সংগত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন সমাধান খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা শুরু থেকেই চেয়েছি, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি রাষ্ট্র হিসেবে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি বাস করবে।’ উল্লেখ্য,ওবামা শৈশবের চারটি বছর কাটিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ায়। তাই দেশটির জন্য আলাদা কিছু আবেগ রয়েছে তাঁর। প্রথমেই বললেন, ‘একটা সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু করতে চাই আমি_ ইন্দোনেশিয়া আমার একটি অংশ।’ তাঁর এই আবেগ দর্শকদের ছুঁয়ে যায়। ভাষণে বহু ইন্দোনেশীয় শব্দ ও ফ্রেইজ ব্যবহার করেন তিনি। বলেন, তাঁর জীবনের ইন্দোনেশিয়া পর্ব থেকেই তিনি ‘মানবতাবোধ’ শিখেছেন। হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই রাষ্ট্রে শত শত ভাষার ব্যবহার রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল আর জাতিগোষ্ঠীর এই দেশটি এখনো তাঁর কাছে একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে।ভাষণে বারবারই ঘুরে ফিরে আসে ওবামার অতীতের মধুময় কিছু স্মৃতি। ঘুড়ি ওড়ানো, ধানক্ষেতে দৌড়ানো, ফড়িংয়ের পেছনে ছোটা, রাস্তার পাশে বসা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে খাবার কিনে খাওয়া কিছুই ভোলেননি তিনি। মাঠে মহিষ আর ছাগল চড়িয়ে বেড়ানোর গল্প বলেন। জানান, তাঁর ইন্দোনেশীয় ছোট সৎবোন মায়ার জন্মানোর কাহিনী।খ্রিস্টান ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে।

 

 

ছয় বছর বয়সে মা এবং তাঁর ইন্দোনেশীয় স্বামী অর্থাৎ সৎবাবা লোলো সোয়েতোরোর সঙ্গে এশিয়ার এই দেশটিতে আসেন ওবামা। ইন্দোনেশিয়ার মেনটেঙ্গ শহরেই পড়াশোনায় হাতেখড়ি ওবামার। সেখানে থাকতেই অল্প-বিস্তর পবিত্র কোরআন পড়েন। মাঝেমধ্যে স্থানীয় মসজিদেও গেছেন। ১০ বছর বয়সে নানা-নানির সঙ্গে থাকতে হাওয়াইয়ে ফিরে যান ওবামা। গত এক দশকের মধ্যে এটাই ওবামার প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। এর আগে ১৯৯২ সালে বালি দ্বীপে এক মাস কাটিয়ে যান তিনি। তাঁর বেস্ট সেলার বই ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’ সেখানেই লেখা। ওবামার ইন্দোনেশিয়া সফর দুই দফা বিলম্বিত হয়। প্রথমবার তাঁর স্বাস্থ্যসেবা বিল কংগ্রেসে পাস করাতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতার ফেরে পড়ে বহুল প্রতীক্ষিত সফরটি বাতিল করেন তিনি। দ্বিতীয়বার, মেক্সিকো উপসাগরে তেল নিঃসরণের দুর্ঘটনায় আটকে যান। এবারের সফরটিও আরেকটু হলেই ফেঁসে যাচ্ছিল। মেরাপি পর্বত থেকে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এই সফরটি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে মেরাপি হুমকিতে একেবারে বাতিল না হলেও কেটেছেঁটে সফরটি মাত্র ২০ ঘণ্টায় সংক্ষিপ্ত করে আনা হয়।

গতকাল সকালে স্ত্রী মিশেলকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন জাকার্তার ইসতিকবাল মসজিদে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি। ইসলামী রীতি অনুযায়ী জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করেন ওবামা দম্পতি। একটা শাল দিয়ে নিজের মাথা ঢেকে নেন মিশেল। গায়ে ছিল গোঁড়ালি পর্যন্ত লম্বা আর ঢোলা পোশাক। গতকালই ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে তিনি বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি গ্রুপ টোয়েন্টির এক বৈঠকে যোগ দেবেন। ভারত দিয়ে ওবামার এবারের এশিয়া সফর শুরু হয়। চার রাষ্ট্রের এ সফরে ওবামা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যাবেন জাপানে।

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV