Monday, 9 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

রম্য রচনা : জেলে যাচ্ছি – দোয়া রেখো

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 19 বার

প্রকাশিত: August 7, 2021 | 6:20 PM

রাশিদুল ইসলাম রুবেল: বেশ কয়েক যুগ আগের ঘটনা, হটাৎ করেই সাওলাত ভাইয়ের সাথে পরিচয়, সব ব্যাপারে সাওলাত ভাই বেশ ইতিবাচক, সাওলাত ভাইয়ের পার্সপেক্টিভ প্রা্সংগিক, বাস্তব ধর্মী, রয়েছে আকর্ষণীয় সেন্স অব হিউমার। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে, আমরা সহসাই বলতে পারি “ইয়েস উই আর ইন সেম পেইজ”। সে দিন সম্ভবতঃ রোববার ছিল-ছুটির দিন, সকালে আয়েশ করে চা পান করতে করতে টিভিতে টিম রাসেলের “মীট দ্যা প্রেস” অনুষ্ঠানটা দেখছিলাম। হটাৎ সাওলাত ভাইয়ের ফোন – কেমন আছেন জানতে চাইলাম। ‘খুব ভাল আছি,লাইফ ইজ এ বসন্ত কাল”– উত্তরে সাওলাত ভাই জানাল। আমি জেনুইন এরাবিক উচ্চারেনে তিন বার “মারহাবা” বাল্লাম। কাকতলীয় ভাবে উনি প্রফুল্ল চ্চিত্তে বললেন “দোয়া রেখো – যেন সহিঃ ভাবে আমি জেলে যেতে পারি”। শুনে আমি বাকরুদ্ধ, নিজেকে নিজেই জোরে গুতো দিলাম, ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিনা তো – সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। মাথার চুল ধরে টানাটানি করলাম। সাত সকালে নিজের মাথার চুল নিজেই টানাটানিতে বাসার সবাই খুব বিচলিত হচ্ছিল। আমার ছেলে কনফার্ম করে জানাল যে নিউইয়র্ক স্টক মার্কেট আজ বন্ধ, সুতরাং স্টক মার্কেটের কোন দুঃসংবাদ নাই। আমি আবারো জানতে চাইলাম, কোথায় যাচ্ছেন? সাওলাত ভাই আবারো বল্লেন-জেলে। চৌর্যবৃত্তি সাথে বিশেষ সখ্যতার কারনে যাদেরকে যে বিশেষ স্থানে অন্তরীণ রাখা হয়, যারা সীট দখল, নদী দখল, রাস্তা দখল, জমি দখল, ফুটপাত দখল করে রাখে, অর্থাৎ দখলকারীদের পরিচিতি সংশোধনের জন্য যে বিশেষ স্থানে অন্তরীণ রাখা হয় – সেই জেলের কথা বলছেন। ঠিক ধরেছো – জানলেন সাওলাত ভাই।
আমি বললাম আমার ফোরটিন জেনারেশেনে কখনো কেউ শুনেনি যারা জেলে যায় তারা প্রফুল্ল চ্চিত্তে, কিংবা বাক বাকুম করতে করতে জেলে যায় । আমিও সাওলাত ভাইয়ের মুখ থেকে জেলে যাওয়ার আদম্য আভিপ্রায় শুনে সাত সকালে আকাশ থেকে পরলাম। আমি জিজ্ঞসা করলাম, আপনি আই নাইন্টি ফাইভের রিচমন্ড থেকে কত দূরে আছেন, এখনি আমি চিলের মতন ছো মেরে আপনাকে আমি উঠিয়ে নিয়ে আসবো। উনি জানালেন, “নাহ আমাকে তো জেলে যেতেই হবে”। আমি শুনে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ। হাতের ফর্ক দিয়ে নিজেকে আবারো গুঁতো দিয়ে নিশ্চিত হলাম, আমি ঘুমাচ্ছি না। আমি আবার নিজেই নিজের চোখে গুতো দেই কিনা, এই ভয়ে বাসার সবাই, ফর্কের পরিবর্তে আমাকে কাউচের কুশনটা এগিয়ে দিল। আমি জিজ্ঞসা করলাম আলফাতুন আপা -অর্থাৎ ভাবীর সাথে কোন রকম মনোমালিন্য হ্য়েছে কিনা, তাই লোক চক্ষুর আড়াল হওয়ার জন্য জেলে যেতে চাইছেন না তো। উনি জানলেন, নাহ ওরক কিছু না, বরঞ্চ জেলে গিয়ে আইটি ডিপার্টমেন্টের পুলিশ ভাই এবং পুলিশ আপাদের ট্রিট করবেন, অর্থাৎ কাচ্চি বিরানী এবং নার্গিসী কাবাব দিয়ে লাঞ্চ করাবেন। আমি নার্গিসী কাবাবের নাম শুনে একটু পুলকিত হলাম, নামটা খুব অর্থবহঃ মনে হল। আমি জানতে চাইলাম, এটা কি নার্গিস আপা কিংবা নার্গিস ভাবী বানিয়েছে কিনা। উনি জানালেন, নাহ ওটার নামই “নার্গিসী কাবাব”, যা শুনে খুব আশান্বিত এবং আনন্দিত হলাম। আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে পুং-শ্রেষ্ঠত্বে কিংবা “মেল সোভানিস্ট” মানসিকতার দায়মুক্তির ক্ষেত্রে নার্গিসী কাবাব নামটি গেম চেঞ্জার হিসাবে এক অনবদ্য ভুমিকা রাখতে পারবে। বিষয়টা একটু ভেঙ্গে বলি, আমদের দেশের পুরুষরা সীট দখল, নদী দখল, জমি দখল করতে যেয়ে অভ্যাসগত কারণে পরবর্তীতে খাবারের নাম দখলকারী হিসাবে নিজেদেরকে পরিচিত করেছে। যেমন ধরুন, হালিম -একটা মাঊথ ওয়াটারিং খাবার, অসাধারণ পরিবেশনা – সোট্যাড অনিওন, চপ্পোড জিনজার এবং ধনে পাতার গার্নিশ। হালিমের গার্নিশ দেখলে মনে হয় অনিওন, চপ্পোড জিনজার এবং ধনে পাতা চিৎকার করে বলছে “ মিয়াভাই চাইয়া চাইয়া কি দেখতাছেন, ঈমানে কইতাছি ফাটাফাটি টেস্ট হইছে, তারাতারি খাইয়া লন, মাগার পরে পাইবেন না”। দেখলেই রক্ত শূন্যতার মত আমাদের শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়, শরীরের সব পানি একবারে মুখে এসে জমা হয় এটার নামতো হালিমা হতে পারতো। যে আপা/ভাবী সর্ব প্রথম হালিম বানিয়েছেন, ওনার হাসবেন্ডের নাম সম্ভবতঃ মোঃ আব্দুল হালিম ছিল, মোঃ আব্দুল কেটে– নিজের নামটা ঢুকিয়ে “হালিম” রখেছেন। তেমনি, মনসুর, অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের একটা মিষ্টি জাতীয় খাবার, ওটাতো মনসুরী হতে পারত, না হয়ে কোন নাম দখলকারীর কারণে “মনসুর” হয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাকরখানী খাবারের নামটি আগা বাকির খায়ের দখলকৃত রূপান্তরিত নাম, এখনোও নাম দখল। তেমনি তিলের খাজা নামকরনের ব্যাপারে সম্ভবতঃ ঢাকার খাজা পরিবারের কোন ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে।
আমরা পরুষরা যেখানে খাবারের নাম দখল কারতে পারি না, লক্ষ্য করবেন, সেখানে বটি, শিক, হাড়ি, জালি ইত্যাদি নাম ঢুকিয়ে দিই—যেমন বটি কাবাব, শিক কাবাব, জালি কাবাব ইত্যাদি। জালি কাবাবের নাম তো জুলেখা কাবাব, বা হলিঊড স্টার জোডি ফস্টার বা জুলিয়া রবার্টস-এর নাম অনুসারে জোডি/জুলিয়া কবাবও তো হতে পারত। সেটা হলে, জোডি ফস্টার কিংবা জুলিয়া রবার্টসের অস্কার পুরস্কার নেওয়ার সময় বাংলাদেশের জোডি/জুলিয়া কাবাব নামকরনের বিষয়টা চলে আসত।
কথা প্রসঙ্গে, বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়ন বা জেন্ডার ইকুয়ালিটি বিষয়টা আলোচনায় চলে আসল। এটা অনস্বীকার্য যে বাংলদেশার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন-মুলতঃ গ্রামীন অর্থনৈতিক অবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে নারী সমাজের এক সুদুরপ্রসারী এবং অনবদ্য ভুমিকা রয়েছে। নারীরা আজ সফল শিল্পোদ্যোক্তা, বিভিন্ন উপার্জনক্ষম কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত; গ্রামীণ অবকাঠামোতে পরিবেশ বান্ধব পন্য উৎপাদন করে আগনিত দুস্থ কর্মহীন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছে।
সাওলাত ভাইকে বললাম সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার “শহর বানু” – নারী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসাবে আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক। আশাশুনি – কি অসাধারণ ইতিবাচক নাম। আশা এবং শুনি – দূটি শব্দই প্রচন্ড ইতিবাচক। আমার ধারণা আশাশুনি উপজেলার সবাই গ্লাসের কোন অংশই কখনই শূন্য দেখে না। আমার বিশ্বাস, ইতিবাচক হয়টাই যে কোন সাফেল্যর পুর্ব শর্ত, এবং ইতিবাচক মানসিকতাই সাফেল্য ধরে রাখার মুল চলিকা শক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। শহর বানু কচুরিপানাকে শুকিয়ে হ্যান্ডিক্রাফট পণ্য বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে। তার কারখানায় ১০০/১২৫ জন দুস্থ কর্মহীন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। শহর বানু স্বাবলম্বীতা ও নারী ক্ষমতায়নের প্রবর্তক হিসাবে আশাশুনি উপজেলার সকলের কাছে সমাদৃত। ইদানীং শহর বানু “ডী ডী বিউটি পার্লার” বা – “দিওয়ানা দুলহান বিউটি পার্লার”-এ ফূল লোড মাঞ্জা নিয়ে লাল রংএর মালা শাড়ী পরে ঈজি বাইকে আশে পাশের বিভিন্ন গ্রামে বিয়ে খেতে যায়। বিয়ে বাড়িতে সুদৃশ্য সামিয়ানার নিচে গ্রামের অন্যান্য মহিলাদের নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সহ গ্রামীন নেতৃত্বের সাথে বসে কব্জি ডুবিয়ে কাচ্চি বিরানীর সাথে মেজবানি মাংস খাওটাই হচ্ছে গ্রামীন নারী ক্ষমতায়ন বা জেন্ডার ইকুয়ালিটির তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক স্বীকৃতি।
তবে নারী ক্ষমতায়ন বা জেন্ডার ইকুয়ালিটি একটা সামাজিক সচেতনতা মুলক আন্দোলন, যেখানে পূরুষদের দখলকারীর মানসিকতা বদলাতে হবে এবং জেন্ডার নিউত্রালিটি ধারনাটা গ্রহণ করতে হবে, তবে আইনের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়ন করাটা সুদূরপ্রসারী সময় সাপেক্ষ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশর কলোনারী আর্ট কিংবা রন্ধনশৈলী এবং কুজিনের ব্যাপ্তি এবং উৎকর্ষতা্র ক্ষেত্রে আমাদের নারী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। আমার মতে, কলোনারী আর্ট কিংবা রন্ধনশৈলী-মুলতঃ রান্নার আয়োজন থেকে পরিবেষনা সহ কৃষ্টি,সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এর ব্যাপ্তি এবং আংগিক রচিত হয়। কুজিন অঞ্চল ভিত্তিক রান্নাকে কেন্দ্র করে এর ব্যাপ্তি। আমদের রন্ধনশৈলী বস্তুতঃ দুটি ধারা কেন্দ্রিক, একটি ধারা মোগল রাজারা প্রচলিত করেছে- যা পারাস্য এবং আফগান অঞ্চল থেকে এসেছে – মুলতঃ মসলা এবং তৈল জাতীয় উপাদান নির্ভর। অন্য ধারাটি সম্পূর্ণই আমাদের, গ্রাম বাংলায় উদ্ভাবিত। আমাদের কলোনারী আর্টএর ধরনটাই সম্পূর্ণটাই সনাতনী, পুরুটাই আমদের উদ্ভাবিত। দেশীয় খাবার গুলি আমাদের হাজার বছরের বাঙালীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতির ধারক এবং পতিপালক- যেমন নবান্নের পিঠা উৎসব, কিংবা নবান্নের জিরাশাইল ধানের পান্তা ভাতের সাথে সিঁদল,কচুর লতি, পোয়াজ ও শুকনা মরিচ এবং তেলোটাকি শুটকি মাছের ভর্তার পরিবেষনাই হচ্ছেই – আমাদের কলোনারী আর্ট কিংবা রন্ধনশৈলী। মোটা দাগে বলা যায় যে আমাদের দেষীয় রান্নার ধারাবাহিকতা, ব্যাপ্তি এবং উৎকর্ষতা্র ক্ষেত্রে আমাদের নারী সমাজের এক প্রাণবন্ত ভুমিকা রয়েছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কলোনারী আর্টের ধারক অর্থাৎ আমাদের নারী সমাজের কারনেই দেশীয় ঘরনার খাবার গুলি মোগলাই খাবারের বিস্তারের মাঝেও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য এবং নিজস্ব আংগিক ধরে রেখেছে। আমাদের দেশে মোগলাই খাবারের সাথে দেশীয় খাবারের খুব একটা ফিউশন দেখা যায় না, তবে ইলিশপোলাও বোধ করি একটা লক্ষণীয় ফিউশন। এ ক্ষেত্রে লইট্টা শুটকি পছন্দকারী চট্টলা বাসীরা ইলিশপোলাও এর মত লইট্টাশুটকি পোলাওএর প্রচলন করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারে। আমাদের দেশে অঞ্চল ভিত্তিক কতগুলি বিশেষায়িত কলোনারী আর্ট রয়েছে যেমন রয়েছে যেমন চট্টগ্রামের মেজবানির মাংস, খুলনা অঞ্চলের চুই ঝাল, রংপুরের শিদল, যশোর অঞ্চলের কাঁঠালের বিচি দিয়ে মুরগি মাংস ঈত্যাদি। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে অঞ্চল ভিত্তীক বৈশিষ্ট্যতা রয়েছে, কিশোরগঞ্জ জেলার বালিশ মিষ্টি,শরীয়তপুর জেলার বিবিখানা পিঠা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তালের বড়া, ছানামুখী, মেহেরপুর জেলার মিষ্টি সাবিত্রি ও রসকদম্ব; বরগুনা জেলার চ্যাবা পিঠা, মুইট্টা পিঠা, আল্লান, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার মন্ডা, গাইবান্ধা জেলার রসমঞ্জরি, নাটোর জেলার কাঁচাগোল্লা, বনলতাসেন ইত্যাদি।
আমি বললাম, বাংলা একাডেমির মত দেশীয় রন্ধনশৈলী বা কলোনারী আর্টের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং উৎকর্ষতা্র জন্য সরকারি/বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান করা যেতে পারে। তবে সবার আগে, দেশীয় রন্ধনশৈলীর উন্নয়নের জন্য জাতীয় ভাবে আমাদের ওনারশিপ নিতে; পুরুটাই আমদের উদ্ভাবিত-আমাদের শিকরের সাথে সম্পৃক্ত – এই ধারনাটাকে নিয়ে আমাদের গর্ব ও আত্মতৃপ্তি থাকতে হবে। মানুষের জাতিগত গর্বের বিষয় গুলি আপেক্ষিক, যেমন ধরুন, আইরীশদের জাতীয় পোশাক কিল্টকে আমার কাছে মোটও আবোদেন মূলক মনে হয় না। আনেকটা – মিনি ঘাগরার সাথে ব্রিটিশ আমলের পুলিশের লম্বা মোজার সংমিশ্রণ। এই পোশাক নিয়ে কি আইরীশদের কত গর্ব – “সেন্ট প্যাট্রিক” ডেএর মাস খানেক আগ থেকেই কিল্ট পরে ওরা কত ধরনের মহড়া দেয়, সম্ভব হলে কিল্ট পড়েই পাহারের উপর থেকে বাঞ্জী জাম্প দিয়ে ফেলত।
সাওলাত ভাই বললেন “তুমি দেশীয় রন্ধনশৈলীর উন্নয়নের ঊদ্দোগ নেও”।
আমি জানালাম, রান্নার ব্যপারে আমার আবস্থা খুবই সংগীন — অনেটা জাপানী সুমু রেসলারদের দিয়ে রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের আর্জুন চরিত্রটা করার চেষ্টার মত। জাপানী সুমু রেসলাররা খাওয়া এবং ঘুমানো ছাড়া বোধ করি তেমন কিছুই করে না, তবে ওরা মাথার উপরে পরিপাটি করে একটা সুন্দর খোপা করে, আবশ্য ওরা খোপাতে বেলী ফুল কিংবা সন্ধ্যামালতী ফুল গুঁজে না। খোপায়ে ফুল গুঁজে কিংবা বেলী ফুলের মালা লাগিয়ে রেসলিং করলে– কেমন হবে তা ভাবছিলাম। শাস্ত্রীয় উচ্চাঙ্গ নৃত্যের প্রবাদ পুরুষ বীর্য মহারাজাকে দিয়ে জাপানী সুমু রেসলারাদের ক্রাশ প্রোগ্রামে নাচ শিখিয়ে চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যের আর্জুন চরিত্রটা করলে বিষয়টা যা দাড়াবে, রন্ধনশৈলীর বিষয় আমার জ্ঞানের আবস্থাটা ওনেকটাই সেরকম – হাসতে হাসতে সাওলাত ভাইকে বললাম।
আমি জানতে চইলাম জেলে সাওলাত ভাইয়ের সারা দিনের প্লান কি? ওয়েব সার্ভারের লোড ব্যালেন্সিং করবো,সাওলাত ভাই জানাল।
অতঃপর বললেন “আমি জেলে চলে এসেছি একটু পরেই চৌদ্দ শিকের ভিতরে ঢুকে যাব। ভাল থাক – কথা হবে।“
রাশিদুল ইসলাম রুবেল, ক্যারী, নর্থ ক্যারোলিনা
আগস্ট ৭, ২০২১
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এ লেখায় আলোচনার বিষয় বস্তু এবং আলোচ্য চরিত্রটি নিছক কল্পনা প্রসুত।

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV