Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 121 বার

প্রকাশিত: August 26, 2022 | 12:47 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পড়াশোনার কারণে ঋণের জালে আটকা আমেরিকার কয়েক কোটি লোক এ ঋণ মওকুফের সুবিধা পাবেন। যাদের বার্ষিক আয় তাদের শিক্ষা ঋণের ১০ হাজার পর্যন্ত মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। ফেডারেল পেল গ্রান্ট নামের অর্থসহযোগিতা পাওয়ার পর যাদের অনুদানটি ঋণ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে এমন পেল গ্রান্টেরও ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত মওকুফ করে দেয়া হয়েছে।
২৪ আগস্ট বুধবার দেয়া এ ঘোষণার ফলে মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমেরিকার ২০ মিলিয়ন লোকের শিক্ষাঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ হয়ে যাবে এবং ৪৩ মিলিয়ন লোকজন মওকুফ সুবিধা পাবে। মওকুফের আওতায় না পড়া লোকজনের শিক্ষা ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ শেষবারের মতো আসছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
ডারা জাকার যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের কেনোশা শহরের কার্থেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণী বলছিলেন, তাঁর জীবন আটকে গেছে। পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি করেন। এর পর থেকে মাসে মাসে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে চলেছেন। কিন্তু ঋণ শোধ হওয়ার নাম নেই। তা শুধু বেড়েই চলেছে। তিনি আরও বলেন, পড়াশোনার জন্য তিনি ৩৫ হাজার ডলার ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি মাসে কিছু কিছু করে শোধ করেও এখন তিনি ৩৯ হাজার ডলারের ঋণী।
‘দ্য এডুকেশন ডেটা ইনিশিয়েটিভ’ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্স করার টিউশন ফি ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি) ডলার, ২০০৬ সালে যা ছিল ৪৮১ বিলিয়ন (৪৮ হাজার ১০০ কোটি) ডলার। মার্কিন শিক্ষার্থীদের এ ঋণের পরিমাণ বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ঋণের ওপর সুদ স্থগিত করে। পরে লকডাউনের কবলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ঋণ পরিশোধ স্থগিত করা হয়। এরপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ‘১০ হাজার ডলার পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ মওকুফের’ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
ঋণ পরিশোধের ওপর স্থগিতাদেশ চলতি আগস্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্ধিত করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ মেয়াদ না বাড়ালে ৪ কোটি ৫৪ লাখ (৪৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন) ঋণগ্রহীতা শিক্ষার্থীকে আসছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাসিক ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধ শুরু করতে হতো। একজন শিক্ষার্থীকে মাসে গড়ে ৩৯৩ ডলার শিক্ষাঋণ পরিশোধ করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছরের কোর্স করতে বছরে একজন শিক্ষার্থীর ব্যয় হয় গড়ে ৩৫ হাজার ৫৫১ ডলার। খরচের খাতের মধ্যে আছে টিউশন, বিবিধ ফি, আবাসিক হল ফি, বই, অন্যান্য খরচ—বলছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস। অনেক অর্থনীতিবিদই একমত যে শিক্ষাঋণ গ্রহণ ও গ্রাজুয়েশন করার পর সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিভিন্ন ধরন আসলে কেমন হবে, সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা থাকে না।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রথম চাকরিতে তাঁরা বছরে মোটামুটি ১ লাখ ৩ হাজার ৮৮০ ডলার বেতন পাবেন। তবে প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। দেখা গেছে, স্নাতক শেষে চাকরিতে ঢোকার পর বছরে একজন গড়ে ৫৫ হাজার ২৬০ ডলার বেতন পেয়ে থাকেন।
মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী জাকার বলেন, ‘একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে আমার বেশি সময় লাগেনি যে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ অন্য সব ঋণের মতো নয়। আমি মনে করি, লোকজন এটি এড়িয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে; কিন্তু শিক্ষাঋণ কাউকে ছাড়ে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৩ মাস আগে ঘোষিত এই সহায়তা প্যাকেজকে অনেকেই ভোটার আকৃষ্ট করার চাল হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক, আর যাই হোক; এই সহায়তা প্যাকেজ দেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ধরনের স্বস্তি হয়ে দেখা দেবে। অবশ্য এটি বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি ছিল। এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, ‘আমার প্রচারাভিযানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমার প্রশাসন শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে একটু স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করছে।’
বাইডেনের এই প্যাকেজ দেশটির উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশ কম। ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটরা চাইলেও রিপাবলিকানদের বিরোধিতার কারণে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফের বিষয়টি হালে পানি পায়নি। তাই আপাতত ১০ হাজার ডলার নিয়েই শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে শিক্ষার্থীদের।

Situs Streaming JAV