Sunday, 15 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
সব ক্যাটাগরি

স্বাগতম রমজান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 137 বার

প্রকাশিত: July 9, 2013 | 7:39 PM

মে. জে. (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক : শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তাই পাঠকদের সাথে রমজানের পবিত্রতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছি। পাঠকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদন ও শুভেচ্ছা এবং প্রার্থনা এই মর্মে যে, তারা যেন রমজানের পবিত্রতা রা করে এর উপকারিতা গ্রহণ করতে পারেন। একই সাথে আমি প্রার্থনা করি সম্মানিত পাঠকেরাও যেন এই কলাম লেখকের জন্য মন থেকে দোয়া করেন, যেন রমজানের উপকারিতা আমিও পাই। আমি মনে করি পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্য একটি বিশেষ উপহার। এটি এক প্রকার ওষুধ, যা রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র। এটি একটি পারাপারের জন্য ছাড়পত্র। আমি যে তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছি তথা উপহার, রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র এবং পারাপারের ছাড়পত্র, সেই তিনটি শব্দের ব্যাখায় বলতে হয়, মহান আল্লাহ তায়ালা যখন প্রথম মানব মানবীকে সৃষ্টি করলেন তখন সেই প্রথম মানব ও মানবী যথাক্রমে হজরত আদম আ: এবং তার সম্মানিত জীবন সঙ্গিনী বিবি হাওয়া আ: তারা উভয়ে বেহেশতে থাকার জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্র্র্তী সময়ে শয়তান তাদের এমন কুমন্ত্রণা দেয় যার ফলে তারা অতি শিগগিরই আল্লাহ প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন। এই অমান্য করার ফলশ্র“তিতে তাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা থেকে যতটুকু ব্যাখ্যা পাওয়া যায় সেখানে কেবল একটি প্রোপট আলোচিত হয়েছে। তা হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের সৃষ্টি করার পর এই মর্মে আদেশ করেছিলেন তারা যেন একটি সুনির্দিষ্ট গাছের ফল ভণ না করে এমনকি ওই গাছটির নিকটবর্তীও যেন না হয়। কিন্তু শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিয়েছিল এই বলে যে, এই গাছটির ফল ভণ না করার চেয়ে ভণ করাই উত্তম এবং এই গাছটির ফল ভণ করলে তোমরা বেহেশতে চিরজীবী হবে, সর্বোপরি তোমরা বেহেশতে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। এতে তোমাদের কোনো তিসাধন হবে না, তাই তোমরা নিশ্চিন্তে এই গাছের ফল খেতে পারো। অতএব তারা গাছটির ফল খেয়েছেন। খাওয়ার সাথে সাথে যা হওয়ার তাই হলো। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাদের উভয়ের মাঝে মানবীয় স্পর্শকাতরতা প্রকাশ পেতে শুরু করল। ঠিক সেই সময় মহান আল্লাহ তায়ালা সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিতে।  যত দূর জেনেছি এবং পড়েছি তা থেকে বলা যায়, হজরত আদম আ: ও মা বিবি হাওয়া আ: দুনিয়াতে এসে দু’টি ভিন্ন জায়গায় নিপ্তি হয়েছিলেন। তারা দীর্ঘ দিন আল্লাহ তায়ালার কাছে কান্নাকাটি করেছিলেন তাদেরকে একত্র করার জন্য। কান্নাকাটির শেষপ্রান্তে এসে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের দোয়া কবুল হয়েছিল এবং মহান আল্লাহ তায়ালা অবশেষে তাদেরকে মা করে দিয়েছিলেন। সর্বোপরি তাদেরকে আরাফাতের ময়দানে মিলিত করেছেন। হজরত আদম আ:কে পৃথিবীতে ফেরত পাঠানোর পর আল্লাহ তায়ালা একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি কোন ভাষায় দোয়া করতেন আমি তার দীর্ঘ বর্ণনা এই কলামে দিচ্ছি না। তবে যে দোয়াটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল আদম আ:-এর কাছে তা হচ্ছে, ‘রাব্বানা যলামনা আনফুছিনা ওয়া-ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়াতারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাছিরিন।’ যার মর্মার্থ দাঁড়ায় ‘হে আমাদের প্রতিপালক (প্রভু), আমরা নিজেরাই নিজেদের নফসের ওপর জুলুম করেছি, অত্যাচার করেছি, এখন আপনি যদি আমাদের মা না করেন, আর আমাদের প্রতি রহমত না করেন, তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবো।’ পবিত্র কুরআন মজিদের সপ্তম সূরা আল-আরাফের ২৩ নম্বর আয়াত দ্রষ্টব্য। সেই থেকে আল্লাহর ওপর বিশ্বাসীরা এই আয়াত পড়ে পড়ে তাদের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেন। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম এই আয়াত পড়ে দোয়া করেন। কিন্তু কোটি কোটির মধ্যে সম্ভবত অধিক সংখ্যকই মর্মার্থটি সম্পর্কে অবহিত নন। এই সন্দেহ পোষণ করার জন্য কোনো পাঠক যেন মনোুণœ না হন তার জন্য অনুরোধ করছি। এই আয়াতটি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত আর পবিত্র কুরআন হলো আল্লাহ পাকের প থেকে মানবজাতির জন্য উপহার। এটা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব। আর এই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে। তাই আমি বলেছি পবিত্র রমজান মহান আল্লাহ তায়ালার প থেকে একটি উপহার।  দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে বিশ্ব মুসলিমকে আদেশ করেছেন রোজা পালনের জন্য এবং তার বিনিময়ে তিনি কী উপহার দেবেন সেটি কোথায়ও বর্ণিত হয়নি। তিনি কেবল বলেছেন, রোজা রাখা হয় আমার জন্য আর এর বিনিময়-উপহার আমি আমার নিজ হাতে বণ্টন করব। তবে এটা একটা পদ্ধতি; রমজানের অছিলায় প্রত্যেক আন্তরিক রোজা পালনকারী কোনো-না-কোনো পুরস্কার পাবেন এই গ্যারান্টিটুকু আন্তরিক রোজা পালনকারী পেয়ে গেলেন সৃষ্টিকর্তার প থেকে। তাই আমি এটিকে বলছি একটি উপহার।  তৃতীয় এবং সর্বশেষ যেই কারণে আমি মনে করি রমজান মানবজাতির জন্য অতি পবিত্র, সেটি হলো রমজানুল মোবারকের কারণে মুসলমানদের মধ্যে যারা আন্তরিকভাবে রোজা রাখেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখেন তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে বাধ্যতামূলক প্রতি রাতে তারাবির নামাজ পড়ার সময় সাাৎ হয়। বাধ্যতামূলকভাবে সাাৎ হয়, যদি কেউ রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়তে যায় এবং জুমার নামাজগুলোতে উপচে পড়া ভিড়ে, এমনকি ইফতার খাওয়ার সময়েও। সবিশেষ দেখা মিলে সমবেতভাবে ঈদের নামাজ শেষে খুশির ময়দানে। আর এ জন্যই রমজান একটি বিশেষ উপহার।  দ্বিতীয় যেই শব্দটি আমি ব্যবহার করেছি সেটি হলো, রমজান একটি ব্যবস্থাপত্র। এর ব্যাখ্যা দেয়ার আগে ছোট একটি প্রাসঙ্গিক কথা বলে নিই। যেহেতু ওপরের অনুচ্ছেদে লিখলাম বাধ্যতামূলকভাবে সাাৎ হবে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে গেলে। বিষয়টি শুনে পাঠকেরা হয়তো অবাক হতে পারেন, তাই তাদের উদ্দেশে বলছি, আমাদের সাধারণ ধারণায় তাহাজ্জুদ নামাজ একান্তই রাত্রিকালীন গোপনীয় ইবাদত, যা ব্যক্তি এবং তার প্রভুর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়ার বিষয়টি আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয় কিন্তু পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে তাহাজ্জুতের নামাজ রমজান মাসে জামাতে আদায় করা হয়। সেখানে যে পরিভাষায় তাকে পরিচিতি দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘কেয়ামুল লাইল’ অর্থাৎ রাত্রিকালীন দণ্ডায়মান থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার মাধ্যম বা প্রচেষ্টা। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে যথাক্রমে কাবা শরিফ ও মসজিদে নববীর নামাজে তাহাজ্জুদের নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং তাহাজ্জুতের নামাজে পবিত্র কুরআন শরিফ খতম করা হয়। সেখানে অতি সুন্দর কণ্ঠে সুন্দর মনোরম হৃদয়গ্রাহী পরিবেশে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করা হয়। এই নামাজ সুনির্দিষ্ট সময়ে জামাতের সাথে আদায় করার ফলে যে ঘটনাটির সৃষ্টি হয় তা হচ্ছে কোনো একজন আগ্রহী মুসলমান রোজার মাসে প্রায় সারা রাত জেগে থাকেন। কিভাবে প্রায় সারা রাত জেগে থাকেন তার ব্যাখ্যায় বলতে হচ্ছে, তিনি সারা দিন রোজা শেষে ইফতার করার পর তিনি আর বিশ্রাম নিতে বিছানায় যান না। সাধারণ কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকেন বা অন্য কোনো ইবাদত করেন কিংবা অন্য কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন অথবা রাত্রিকালীন খাবার খান। অতঃপর তিনি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যান। এশা ও তারাবির নামাজ শেষে যে দু-আড়াই ঘণ্টা সময় বাকি থাকে সে সময় তিনি যদি আগে খেয়ে না থাকেন তবে তিনি খেতে বসেন বা কোনো ইবাদত করেন কিংবা সাংসারিক কোনো কাজ করেন। তারপর মধ্যরাত হয়ে গেলে তিনি মসজিদে চলে যান তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করতে; সেই তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ফিরে আসার পর সেহরির সময় শেষ হতে আর অল্প সময় বাকি থাকে। অতঃপর সেহরি খাওয়ার সময় হয়ে গেলে তিনি সেহরি খেতে বসেন। সেহরি খাওয়ার ঠিক অল্প কিছু সময় পরে ফজরের নামাজের আজান দেয়া হয়। তাহলে আমরা দেখছি, সূর্যাস্ত থেকে যে রমজানের রাত শুরু হয়েছিল ফজরের নামাজের পরই মাত্র সেই রজনী ওই আগ্রহী ব্যক্তির জন্য শেষ হচ্ছে। তার আগে, তিনি তার বিছানায় পিঠ লাগাননি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তম ইবাদত বলে জ্ঞানী মনীষীরা বলেছেন।  বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গাতেই এই তাহাজ্জুতের নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বন্দোবস্ত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আমি একটি মসজিদের কথা বলছি। যাদের দ্বারা সম্ভব, সেসব নামাজিকে দাওয়াত দিচ্ছি ওই মসজিদে এসে পবিত্র রমজান মাসের তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করার জন্য। স্থানটি হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর গুলশান এক নম্বর থেকে পশ্চিম দিকে অল্প দূরে মহাখালী যাওয়ার সড়কে অবস্থিত অতি বড় সুন্দর মনোরম পরিবেশে লাল রঙের মসজিদ; নাম গাউছুল আজম জামে মসজিদ। সেখানে রাত সাড়ে ১২টায় তাহাজ্জুদ নামাজের জামাত শুরু হয় এবং আড়াইটা থেকে রাত ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় জামাত শেষ হয়। অভিজ্ঞ হাফেজদের তেলাওয়াত দ্বারা তাহাজ্জুতের নামাজের মাধ্যমেই কুরআন খতম করা হয়। অসংখ্য লোক সেই জামাতে অংশগ্রহণ করেন। হয়তো বা আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি না, আরো মসজিদ থাকতে পারে যেখানে ‘কেয়ামুল লাইল’ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এটি সুখবর এবং তার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শাবান মাস এলে সাহাবিরা দোয়া করতেন যেন রমজান পর্যন্ত যেন তারা পৌঁছাতে পারেন এবং অফুরন্ত সওয়াব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে রাসূল সা: তিনবার আমিন বলেছিলেন। এর মধ্যে একবার বলেছিলেন এই কারণে যে, যার সামনে রমজান মাস এলো অথচ সে তার গুনাহ মা করিয়ে নিতে পারল না, সে ধ্বংস হোক। রাহমাতাল্লিল আলামিন বা সারা বিশ্বজাহানের রহমতের প্রতীক মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা:-এর এই বদদোয়ার আওতায় আমরা যেন পড়ে না যাই, সাহাবিদের সেই দোয়ার গুরুত্ব যেন আমরা অনুধাবন করি এবং সেই অনুযায়ী আমল করিÑ  এই প্রার্থনা করছি। মে. জে. (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, www.generalibrahim.com

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV