হরতাল, কেউ কথা রাখেনি
|
কাজী আদর: কয়েকদিন আগের কথা। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করলেন, সরকার তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বিএনপি আবার হরতাল ডেকে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে।
এর পরদিনই সরকারি দলের নেতারা বললেন, বিএনপি হরতাল ডাকলে সরকারি দল প্রতিরোধ করবে না। এ মুহূর্তে আমরা দেখলাম, দু’টি দলই মিথ্যা কথা বলেছে এবং দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে।
বিএনপি এক সপ্তাহের মধ্যে হরতাল ডেকেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে মারমুখী প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হরতালের এক সপ্তাহ আগে থেকেই সরকার নির্যাতন শুরু করেছে। হরতাল ৩০ তারিখে হবে- এ ঘোষণার পরপরই যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার এবং সরকারি দলের নেতারা তারস্বরে চেঁচিয়ে যেভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে তাতে দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে গেছে। অথচ বিএনপি এখনও মাঠে নামেনি, তার পরও সরকারের এই ভয়ঙ্কর চেহারা। মানুষ ভয় পাচ্ছে। সরকারই মনে হচ্ছে হরতাল ডেকেছে, আর মনে হচ্ছে হরতাল সফল করার জন্য বিএনপির প্রয়োজন হবে না, সরকারই হরতাল সফল করার দায়িত্ব নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকই বলেছেন, হরতালে বাধা দেয়া হবে না। এটা রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ বক্তব্য যদি সত্যি হয় তাহলে হরতালের আগেই কেন এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে? সরকার কি ভয় পেয়েছে? সরকারের মন্ত্রীরা রটিয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা হরতালে নাশকতার আশঙ্কা করছেন বিএনপির তরফ থেকে। তাই তারা সাত দিন আগে থেকে ধরপাকড় শুরু করেছেন। এসব খোঁড়া যুক্তি। সাধারণ মানুষ তো এখন মনে করছেন, এসব সরকারি দলের তরফ থেকেই রটানো হচ্ছে এ কারণে যে, সরকার নিজেই কোন নাশকতা করে বিএনপির ঘাড়ে চাপাবে, যাতে বিএনপিকে আন্দোলনের মাঝেই খোঁড়া করে দেয়া যায়। সরকারি দল সাধারণ মানুষকে যতটা বোকা অথর্ব ভাবে জনগণ কিন্তু তা নয়। তারা অনেক বেশি সেয়ানা। অতীতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। সরকারের সুযোগ দু’ভাবে। এক, তারা প্রশাসনকে যথেচ্ছভাবে লেলিয়ে দিচ্ছে। আর দুই হচ্ছে তারা দলীয় কর্মীদের হরতালের দিন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য তৈরি রেখেছে। যেমন রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয় পুলিশে। পুলিশকে তারা এক সপ্তাহ আগে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। তারা দেশজুড়ে কি তাণ্ডব চালাচ্ছে তা দেশের মানুষের নজরে আছে। এখানে একটি অতীত স্মৃতি চারণ করা যায়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি ’৯৬ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তখন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন- বিরোধী দলে গেলেও তার দল আর কখনও হরতাল ডাকবে না। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। বিরোধী দলে যাওয়ার পর এক মাসের মধ্যে তিনি হরতাল ডেকেছেন। বর্তমান বিরোধী দলের প্রধানও হরতাল না করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং পরবর্তী সময় তার দল হরতাল করেছে। তাহলে প্রশ্ন, যে জনগণের জন্য শুনি তাদের প্রাণ ফেটে যায় দুঃখে- তাদের সঙ্গে এই ধোঁকা কেন বারবার? জনগণের চোখে তাদের ভাবমূর্তির অবশিষ্ট কিছু আছে কি? জনমুখী আন্দোলনের অন্যতম অস্ত্র (?) হিসেবে হরতালকে যেদিন থেকে এদেশের রাজনীতিকরা গুরুত্ব দিয়েছেন, সেদিন থেকেই সর্বনাশের শুরু। সর্বনাশের আগের ধাপ কর্মনাশ। হরতালের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার মতো সাহস মানুষের আর নেই। এখন তো বোঝার সাধ্য নেই কে হরতাল ডেকেছে। শাসক দল নাকি বিরোধী দল? সরকার এবং বিরোধী দল ত্রস্ত-বিধ্বস্ত-আতঙ্কিত মানুষের অভিব্যক্তিকেই হরতালে ‘সাফল্য’ ‘ব্যর্থতা’ বলে সগর্বে প্রচার করে। হরতাল এখন দেশের জনজীবনে পথসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশ এগিয়ে বা পিছিয়ে যাক, হরতাল তার সঙ্গে সঙ্গে আছে। কেন হরতাল সফল হয়, কিভাবে হয় তা আর সাধারণ মানুষের জানতে বাকি নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেটা জানে না তা হলো, কর্মনাশা হরতাল আদৌ কি তাদের কোন স্বার্থ রক্ষা করতে পারে? হরতাল শেষ পর্যন্ত কিছুই কি তুলে দেয় মানুষের হাতে? দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, কিছুই দেয় না। কেবল শূন্য নামক একটি অদৃশ্য বস্তু আমজনতার হাতে হাতে ঘোরে। সমস্যা সমস্যার জায়গাতেই থাকে। বরং কর্মনাশা হরতাল সমস্যার ছবিটাকে আরও ঘনীভূত কিংবা অস্পষ্ট করে দেয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যদি হরতাল ডাকলেই কমানো যেতো তাহলে আর কোন চিন্তাই থাকতো না। ম্যাজিকাল ইল্যুশন মানুষকে যেটুকু স্বস্তি বা আনন্দ দেয়, হরতালের সেটুকু শক্তিও নেই। আসলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেয়া ছাড়া হরতালের আর কোন উদ্দেশ্য থাকে না। বিএনপির ৩০শে নভেম্বরের হরতাল আসলে নিজেদের অবস্থানকে কিছুটা সঙ্ঘবদ্ধ করার চেষ্টা মাত্র। সরকারি দলের অত্যাচার নির্যাতন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দু’টি দলেরই অভিজ্ঞতা আছে যে, হরতাল ডেকে সরকারের পতন ঘটানো যায় না, জনজীবনের দুর্ভোগেরও পরিসমাপ্তি ঘটে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসেই পুলিশনির্ভর হয়ে পড়ে। পোষ্য পুলিশ তখন সরকারের বন্ধু হয়ে যায়। সাধারণ জনগণ অবশ্য বছর নয় শুধু, শতাব্দীর পর শতাব্দী পুলিশের এক চেহারা দেখতে অভ্যস্ত। পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস অফিসার নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত ‘পুলিশ প্রসঙ্গে’ বইতে লিখেছেন, ‘অনেক আমলা এবং পুলিশ অফিসারই ভাল পোস্টিং বা পদোন্নতির জন্য শাসক দলের নেতাদের অঙ্গুলি হেলনে যে কোন বেআইনি কাজ করতে অতিমাত্রায় উৎসাহী। কুকুরের সামনে এক টুকরো খাবার ধরলে যেমন কৃতজ্ঞতায় কুই কুই করে লেজ নাড়ে, এরা তেমনি প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় অক্লান্তভাবে অদৃশ্য লেজ নেড়ে যায়।’ হরতালে যেভাবে অদৃশ্য আদেশে পুলিশ নির্মমভাবে অত্যাচার করে তখন জানতে ইচ্ছা হয়, হরতালকে কেন্দ্র করে এ অত্যাচার প্রকারান্তরে সরকার কার ওপর চালায়? জনগণের ন্যূনতম চাহিদা যে সরকার মেটাতে পারছে না, দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে যে সরকার ব্যর্থ, তাদের কি অধিকার আছে জনগণকে পুলিশ দিয়ে নৃশংসভাবে পেটানোর? এই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া আর কি করতে পেরেছে জনগণের জন্য? |
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








