সাকিফ ইসলাম : শেষ কবে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে নিজের বৃদ্ধ মা বাবাকে দেখতে? আপনার সবচেয়ে প্রিয় সেই কাজিনটির একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হলো আজ কতদিন, দেখতে যেতে পারছেন না। সেই পুরনো বন্ধু আর এলাকার চিরচেনা ওলিগলি দেখা হয়না অনেকদিন। এমন হাজারো আক্ষেপ নিয়ে স্বজন ও স্বদেশ থেকে দূরে বসবাস করছেন আমাদের অনেক বাঙালি। ছুটি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারনে অনেক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেশে যেতে পারছেন না। এমনই এক সমস্যার এক অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছে “ব্যাকপ্যাক”
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজে পড়া দুই বন্ধু ফাহিম মাসউদ আজিজ এবং সাকিব সৌর মিলে শুরু করেছেন “ব্যাকপ্যাক”। আমেরিকার সিলিকন ভ্যালীতে অবস্থিত এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালে। এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া এই কোম্পানীর অর্থায়নে রয়েছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান Y-combinator.
টেক স্টার্ট-আপ কোম্পানি ব্যাকপ্যাকের সাথে ট্রাভেলিং এর পুরো প্রক্রিয়াটি খুব চিন্তা ভাবনা করে ডিজাইন করা হয়েছে যা কিনা একজন ট্রাভেলারের জন্য সন্তোষজনক। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ট্রাভেলার কমপক্ষে ৩০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে ৯০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রতি ট্রিপে ইনকাম করতে পারবে, তবে অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে ট্রাভেলারের লাগেজে কতটুকু খালি জায়গা আছে তার উপর। একজন ট্রাভেলার যদি তার হ্যান্ডব্যাগ এবং ক্যারি অন ছাড়া, বাকি সব লাগেজেগুলোতে ব্যাকপ্যাকের জিনিস নেয় তবে তা থেকে ট্রাভেলার যা আয় করবে, অধিকাংশ সময়েই তা হয় আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের রাউন্ড টিকেটের মূল্যের সমান বা কাছাকাছি। এর জন্য যা করতে হবে তা হলো ট্রাভেলার কে ব্যাকপ্যাকে সাইন আপ করতে (Link: www.backpackbang.com/fly) or call: +1 650 319 8816) হবে এবং বাংলাদেশে আসতে হবে বাড়তি ইনকামটি পাবার জন্য।
উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজাইন এবং এক দল দক্ষ সাপোর্ট স্টাফ এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত, যা কিনা ট্রাভেলারদের বাংলাদেশে বেড়াতে আসাকে করে দিয়েছে অত্যন্ত সহজলভ্য এবং সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন ট্রাভেলার ব্যাকপ্যাকের সাথে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ট্রাভেল করেছে এবং এই সংখ্যাটি দিন দিন বেড়েই চলছে। মুল আইডিয়াটা আসলে খুব সাধারণ, ব্যাকপ্যাকের বাংলাদেশী ক্রেতা যারা ব্যাকপ্যাক ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনছেন তাদের সেই পণ্য টি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেবার জন্য ট্রাভেলারদের লাগেজের স্পেস ভাড়া করছে। প্রত্যেজটি পণ্য ট্র্যাভেলারের বাসায় ডেলিভারড হয় এবং ট্র্যাভেলার নিজে পণ্যগুলো তার লাগেজে করে দেশে নিয়ে যায়। কোন পণ্য ট্র্যাভেলার নিতে না চাইলে সেটা তারা ফেরতও পাঠাতে পারে. এই সার্ভিস টি যারা একাধিক বার নিচ্ছেন তাদের জন্য রয়েছে আনুষাঙ্গিক আরও কিছু রিওয়ার্ড। যেহেতু ব্যাকপ্যাকের সাথে ট্রাভেলিং এখন অনেক সহজলভ্য, তাই এখন আর বছরে ১ বার লম্বা ছুটি নিয়ে দেশে বেড়াতে আসার দিন শেষ, বরং অনেকেই এখন বছরে ৪-৫ বার ছোট ছোট ছুটি নিয়ে দেশে আসছেন।
এই নতুন আইডিয়ায় ঘুরতে যাবার ব্যাপারটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং পুরো আইডিয়াটাই ব্যাকপ্যাক ও ট্রাভেলারের জন্য লাভজনক এবং ম্যাজিক্যাল। ব্যাকপ্যাকের ভবিষ্যত পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাহিম মাসউদ আজিজ বলেন, আমেরিকার পাশাপাশি খুব শিঘ্রী আমরা অন্যান্য দেশে অবস্থিত বাংলাদেশীদের জন্য ব্যাকপ্যাকের এই সুবিধাটি আনতে যাচ্ছি জেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা খুব সহজে দেশে যাতায়াত করতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশে থেকে বিদেশী পণ্য পেতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে যাতায়াত করার জন্য যত অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো দূর করা।