Sunday, 15 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
সব ক্যাটাগরি

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা’র বিশ বছর পূর্তি : নিউইয়র্কে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, চিত্র প্রদর্শনী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 197 বার

প্রকাশিত: January 25, 2019 | 10:05 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : অভিবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চর্চ্চাকে আদর্শভিত্তিক চেতনার দর্শনে ঐক্যগড়ে তুলতে দীর্ঘ বিশ বছর ধরে ভূমিকা রেখে আসছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা। গত ১৮ জানুয়ারী নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জ্যুইস সেন্টারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ধারাবাহিক সক্রিয়তার কুড়ি বছরপূর্তি “শিল্প ও দ্রোহের কুড়ি বছর” আয়োজনের মধ্যে ছিলো আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, আলোচনা এবং চিত্র প্রদর্শনী ‘সত্তার খনন’।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের চিত্র প্রর্দশনী ও বিশ বছর পূর্তিআয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেবক্তব্য প্রদান করেন এ্যাসেম্লি ওমেন ক্যাটালিনা ক্রুজ, রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকা থেকে আগত জোট কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি ফকির আলমগীর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: আহকাম উল্লাহ্ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার আহবায়ক এবং ‘সত্তার খনন’ চিত্র প্রর্দশনীর কিউরেটর মিথুন আহমেদ।উপস্থিত থাকতে না পেরেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। অতিথিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার কথা, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার কথা।

এ্যাসেম্লি ওমেন ক্যাটালিনা ক্রুজ প্রবাসে বাঙালী অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতি কর্মকান্ড ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন “প্রতিটি জাতিগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশই বহুজাতিক ও বহুমুখী সাংস্কৃতিক শহরের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমেরিকার মুলধারার সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত হবার পথকে প্রসস্থ করছে।”তিনি আরো বলেন “চিত্রকর্ম হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যা তার জাতিগত কৃষ্টিকে তুলে ধরে বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও গৌরবের ইতিহাস- এই চিত্রপ্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে তা অন্যান্য দেশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সন্মূখে তুলে ধরবার জন্য তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।”

রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন “সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি সব সময়ই চেষ্টা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে।” এ প্রসংগে তিনি আরো বলেন,তিনি রাষ্টদূত হবার পর থেকে প্রতি বছর জোটের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন।গভীর রাতে কনকনে শীতের রাত্রিতে জ্যাকসন হাইটসে রাস্তায় প্রদীপ প্রজ্জলন,আলোক শোকযাত্রার কথা উল্লেখ করে বলেন এই আলোক শোকযাত্রায় অংশগ্রহন করা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, দ্বায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম না থাকলে কখনোই তা সম্ভব হতো না।সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরেএকাজটি করে যাবার জন্য জোটকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেন।

জোট কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি ফকির আলমগীর বলেন, প্রাবাসে এখন এমন আয়োজন দেখে -একই সংস্কৃতি,একই ভাষা শুনে হৃদয় জুড়ায়।গানে গানে কথায় কথায় এই সম্প্রীতিতকে প্রবাসে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা তাদের আদর্শিক অবস্থান ও সংগ্রামী চেতনার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা গানটি পরিবেশন করেন এবং জোট উত্তর আমেরিকার আহবায়ককে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: আহকাম উল্লাহ্ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার বিশ বছর পথ চলায় সকল সংগঠন, কর্মী,সংগঠন সমর্থক ও নেতৃবৃন্দকে সংগ্রামী অভিনন্দন জানিয়ে বলেন “মধ্য আশিতে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তৈরী হয়, সেই সময়ের সমান্তরাল আদর্শ ও সংগ্রামী মানুষেরা এই প্রবাসেও জোট গঠন করেছে, গত বিশ বছর তাদের সক্রিয়তা অব্যহত রেখেছে। নব্বইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সেই তরুন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠা শুরুর সময়কার একজন তরুন সাংস্কৃতিক কর্মী মিথুন আহমেদ- সেই সমান্তরাল চিন্তার মানুষদের একজন মিথুন আহমেদ এই নিউইর্য়কেও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠন করেছে।” এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার পথে জোটের ভুমিকা ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার আহবায়ক মিথুন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন “আপনাদের সকলের উপস্থিতি আমাদের জোট উত্তর আমেরিকার ‘শিল্প ও দ্রোহের এই বিশ বছর পূর্তি’- আয়োজনকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে,ঠিক তেমনি করেছে ঐক্যবদ্ধ। সংগ্রামের পথকে করেছে সাহসী।এই মুহূর্তকে ধারণ করে আগামীর পথে হাঁটবার উৎস সঞ্চার করতে আপনাদের এই সমর্থন আমাদের প্রেরণা জোগাবে।

আজকের দিনটি আমাদের সকলের জন্যই এক আনন্দঘন ও গৌরবের দিন। আজ থেকে দুই দশক আগে ১৯৯৮তে নিউ ইর্য়কে গঠিত হয়েছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা। শিল্পের দায়বদ্ধতা,শিল্পীর সংগ্রামী প্রতিশ্রুতিই কেবল নয়- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা তার প্রতিটি কর্মসূচী-আয়োজন-অনুষ্ঠান-প্রতিবাদ-সেমিনার-মানববন্ধন-সংহতি সমাবেশ-শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠান,-বিশেষ উৎসব ও উৎযাপনমালা- বিশেষ বিশেষ প্রযোজনা নির্ভর পরিবেশনায়, শিল্পের নন্দনতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ধ্রুপদী মানসন্মত, সুরুচিনির্ভর, সৃজনশীলতার,সর্বচ্চ উৎকর্ষকেও সর্বদা প্রাধান্য দিয়ে আসছে।বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে-বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে-বাক্য বক্তব্য ও উপস্থাপনকে সৃজননৈপুণ্য ও ব্যঞ্জনা দিয়ে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অতলগত পূর্ণপ্রাণকে প্রকাশ করতে চেয়েছে।

বাঙালি জাতিসত্তার উৎস অন্বেষণ ও তার বিকাশমানতার ধারা থেকে বাঙালির জাতিরাষ্ট্র গঠনের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও এই জাতিরাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমাজ-রাজনীতির দীক্ষাপথ, মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ সংগ্রামের আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা ও ৩০ লক্ষ শহীদ, একাত্তরের সম্ভ্রমহীনাদের প্রতি শ্রদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর মর্মবেদন নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা,তাদের অভিযাত্রাকে সংকল্পবদ্ধ করে এই দীর্ঘ ২০ বছরের সক্রিয়তাকে অব্যহত রেখেছে।

সকল প্রকার আপোষকামীতার বিরুদ্ধে – প্রশ্রয়হীনভাবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা সংগ্রামী ভূমিকাকে জারি রাখে সকল সময়। জয় হোক মানুষের।বাঙালীর সাংস্কৃতিক প্রঙ্গন ও গোলকায়নের নতুন পৃথিবী হোক উদার ও মানবিক। বহু জাতিসত্তার বিশ্বায়নে শুদ্ধ সুস্থ ও প্রকৃত সংস্কৃতির হোক মুক্ত বিচরণ। জয় বাংলা । প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিক বিশ্ব ।”

সেমন্তী ওয়াহেদ তার উপস্থাপনার শুরুতেই চমৎকার করে জোটের প্রেক্ষাপট, ভূমিকা, প্রয়োজনীয়তা ও প্রবাসে জোট গঠনের কার্যকারনের বিস্তৃত ভূমিকা দিয়ে সমস্ত আয়োজনের সঞ্চালনার এক একটি পর্বকে বাইলিঙ্গুয়্যাল সংযোজনায় অভূতপূর্ব এক বহুব্যাঞ্জনময় পরিবেশ সৃষ্টি করে শ্রোতা দর্শকদের আকৃষ্ট করেন।

আয়োজনের শুরুতেই, এক মিনিটের উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। নৃত্য অংশগ্রহণকারীরা হলেন চন্দ্রিমা দে,সুস্বনা চৌধুরী,উদিতা তন্বী এবং নৃত্যমূদ্রার নকশা পরিকল্পনায় ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ।

এরপর উদ্বোধনী সংগীত করেন আনন্দধ্বনীর শিল্পীরা। তারা ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে’, ‘অন্তর মম বিকশিত করো’ ও ‘লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়’ গানগুলো পরিবেশন করেন। অংশগ্রহনে ছিলেন নীপা ভৌমিক, প্রজ্ঞা বড়ুয়া, অনুপ দাস, শফি চৌধুরী হারুন, তাহরিনা পারভীন প্রীতি, পূর্নতা, অধরা, স্বতরুপা তালুকদার, লিলি মজুমদার,রুদ্রনীল দাস, মারুতি মহান বিশ্বাস, আল্পনা গুহ, লিপি রোজারিও, শতাব্দী সরকার,অর্ঘ্য সারথী সিকদার। পরিচালনায় ছিলেন নীপা ভৌমিক।এই পর্বে উপস্থাপনা করেন সেমন্তী ওয়াহেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মিনহাজ আহমদ।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে মিনহাজ আহমেদ এই আয়োজনের সাথে সম্পক্ত থাকা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের প্রত্যেকের নাম পাঠ করেন। উল্লেখ্য এবারের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার এর -বিশ বছর পূর্তি আয়োজন ও উদযাপন আয়োজনে উপদেষ্টামন্ডলীতে ছিলেন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ,গোলাম কুদ্দুছ ও শামসুল আলম বকুল।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV